ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গ্যালাতাসারেকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শীর্ষে বার্সেলোনা Logo টিকার আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকার বিবেচনার সুপারিশ Logo মধ্য এশিয়ার পাঁচ দেশের বৈঠকে যোগ দিতে উজবেকিস্তান যাচ্ছেন রুবিও Logo জাতীয় সংসদ ভবনে সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা, শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী Logo ভেজালবিরোধী অভিযানে ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার উদ্যোগ, মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী Logo খেজুরে তেল মেখে অস্বাস্থ্যকরভাবে প্যাকেটজাত, চট্টগ্রামে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Logo এল নিনোর তীব্র প্রভাবে দাবানল-খরা, বাড়ছে খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকটের শঙ্কা Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং, খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্যের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo মাদক সেবনের দায়ে শাহরাস্তিতে যুবকের কারাদণ্ড Logo ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসায় ভর্তুকি, মালয়েশিয়ায় স্কুল বন্ধ

রোহিঙ্গা নির্যাতনে মিয়ানমার দেশটির সেনাবাহিনী দায়ী: যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিনিধির নাম :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের কাছে নিজ দেশের অবস্থানের কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এমন বাস্তবতায় দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি টিলারসন।

‘ওই এলাকায় (রাখাইন) সংঘটিত নৃশংসতা নীরব দর্শকের মতো দেখতে পারে না বিশ্ব’, বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তা ও নৃশংসতায় জড়িতদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের ৪৩ জন আইনপ্রণেতা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে কংগ্রেসেরন নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ওই সদস্যরা বলেন, রাখাইনে যা ঘটেছে তা দৃশ্যত অস্বীকারের চেষ্টা করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তাঁরা রাজ্যটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নেয়ার আহ্বান জানান।

আগস্টের শেষের দিকে রোহিঙ্গাদের ওপর লোমহর্ষক নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের দোসর বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা। তারা নির্বিচারে হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন বয়সী নারীদের ধর্ষণ করছে। এমন বাস্তবতায় নজিরবিহীন সংকটে পড়ে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিনই ছুটে আসছে বাংলাদেশে।

টিলারসন বলেন, ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে, মিয়ানমারে জঙ্গি সমস্যা রয়েছে। তবে সেনাবাহিনীকে নিয়মতান্ত্রিক ও সংযত উপায়ে সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় প্রবেশ উন্মুক্ত করতে হবে যাতে সংঘাতের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই খবরগুলো (নৃশংসতা) সত্যি হলে এর জন্য দায়ী হবে একটি পক্ষ (সেনাবাহিনী)। মিয়ানমার আগামী দিনগুলোতে নিজেদের কোন দিকে চালিত করবে, তা দেশটির সামরিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।’

টিলারসন বলেন, মিয়ানমারকে গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রোহিঙ্গা সংকট সেনাদের সঙ্গে ক্ষমতা বিনিময় করা মিয়ানমার সরকারের জন্য একটি পরীক্ষা বলে মনে করছেন তিনি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭
২০ বার পঠিত হয়েছে

রোহিঙ্গা নির্যাতনে মিয়ানমার দেশটির সেনাবাহিনী দায়ী: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের কাছে নিজ দেশের অবস্থানের কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এমন বাস্তবতায় দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি টিলারসন।

‘ওই এলাকায় (রাখাইন) সংঘটিত নৃশংসতা নীরব দর্শকের মতো দেখতে পারে না বিশ্ব’, বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তা ও নৃশংসতায় জড়িতদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের ৪৩ জন আইনপ্রণেতা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে কংগ্রেসেরন নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ওই সদস্যরা বলেন, রাখাইনে যা ঘটেছে তা দৃশ্যত অস্বীকারের চেষ্টা করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তাঁরা রাজ্যটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নেয়ার আহ্বান জানান।

আগস্টের শেষের দিকে রোহিঙ্গাদের ওপর লোমহর্ষক নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের দোসর বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা। তারা নির্বিচারে হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন বয়সী নারীদের ধর্ষণ করছে। এমন বাস্তবতায় নজিরবিহীন সংকটে পড়ে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিনই ছুটে আসছে বাংলাদেশে।

টিলারসন বলেন, ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে, মিয়ানমারে জঙ্গি সমস্যা রয়েছে। তবে সেনাবাহিনীকে নিয়মতান্ত্রিক ও সংযত উপায়ে সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় প্রবেশ উন্মুক্ত করতে হবে যাতে সংঘাতের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই খবরগুলো (নৃশংসতা) সত্যি হলে এর জন্য দায়ী হবে একটি পক্ষ (সেনাবাহিনী)। মিয়ানমার আগামী দিনগুলোতে নিজেদের কোন দিকে চালিত করবে, তা দেশটির সামরিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।’

টিলারসন বলেন, মিয়ানমারকে গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রোহিঙ্গা সংকট সেনাদের সঙ্গে ক্ষমতা বিনিময় করা মিয়ানমার সরকারের জন্য একটি পরীক্ষা বলে মনে করছেন তিনি।