গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচলে দুই পাশে বিশেষ লেন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। কাজ শুরুর ছয় বছর পর এ প্রকল্পের নকশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাজীপুর-১ আসনের এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনসহ বেশ কিছু বিষয়ে সুপারিশ করেছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বিআরটি করিডোরে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের দুটি আলাদা লেন থাকবে। এর ফলে ময়মনসিংহ বিভাগসহ রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সড়ক অবশিষ্ট থাকবে না। এতে যানজট বাড়বে। সড়কটি দূরপাল্লার যান চলাচলের জন্য সময় উপযোগী করে তৈরি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে এয়ারপোর্ট থেকে সালনা পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ উড়াল সড়কে গাড়ি ওঠা-নামার জন্য আরও ১০টি লুপ নির্মাণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
চিঠিতে বলা হয়, বিআরটি সড়কের দুই পাশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের জন্য লরি ও কনটেইনার ট্রাক ছোট সড়ক থেকে মূল সড়কে ওঠার সময় যানজট সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য আলাদা লেন নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিআরটি সড়কের দুই পাশে যে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে তা বাস্তবসম্মত নয় বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।
আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী একটি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। আইএমইডি তার সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিবেদনটি তৈরি করে পাঠাবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জনবহুল ঢাকায় নিরাপদ পণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০৫ সালে একটি সমীক্ষা হয়। সমীক্ষায় ছয়টি করিডোর চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এবং তিনটি ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল। এর মধ্যে গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিআরটি-৩ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। এরপর ২০১১ সালেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এ-সংক্রান্ত সমীক্ষায়ও গাজীপুর-টঙ্গী-এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিআরটি সড়ক নির্মাণ সম্ভব বলে বিবেচিত হয়। এ আলোকে ২০১২ সালে শুরু করা হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ।
বিআরটি-৩ প্রকল্পের আওতায় সহজে বাস চলাচলের জন্য ৩১টি স্টেশন, গাজীপুরে একটি বাস ডিপো, ছয়টি উড়াল সড়ক এবং ১০ লেনবিশিষ্ট টঙ্গী সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া যাত্রী পরিবহনে এ রুটে ১১০টি আর্টিকুলেটেড বাস ও ২০০টি ফিডার বাস চলবে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৯০ কোটি টাকা আর ভৌত অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সেতু বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, আ ক ম মোজাম্মেল হকের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হবে। বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগকে সমীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সড়কের নকশা নিয়ে নতুন করে সমীক্ষার কারণে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ইতিমধ্যে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়। শুরুতে দুই হাজার ৩৯ কোটি টাকা ছিল এ প্রকল্পের ব্যয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও দুই হাজার ২২৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ব্যয় চার হাজার ২৬৫ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি কাজ ২০১৬ সালে শেষ করার লক্ষ্য ছিল। এরপর প্রকল্পের ব্যয় আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। নতুন সংশোধনী প্রস্তাবে বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সমকালকে বলেন, বিআরটি সড়কের বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি। কাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেছে। এ বিআরটি সড়ক মানুষের কোনো কাজে আসবে না; বরং দুর্ভোগ বাড়াবে। গাজীপুর থেকে এক শতাংশ মানুষও এয়ারপোর্ট আসে না। বিশেষ লেনটি ফার্মগেট বা গুলিস্তান পর্যন্ত হলে হয়তো মানুষের কাজে আসত। তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় প্রকল্পটি সংশোধন করতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছেও দাবি জানানো হয়েছে।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ ঠিকই আছে। এ রুটে বিআরটির পরিবর্তে মেট্রোরেল বা এমআরটি করা উচিত ছিল। এমআরটি মাটির নিচ দিয়ে করলে ওপরের রাস্তাটাও ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হতো। বিশ্বের কোনো বিআরটি সড়কে উড়াল সেতু থাকে না। এই বিআরটিতে বেশ কয়েকটি উড়াল সেতু রাখা হয়েছে। ছোট ছোট উড়াল সেতু জোড়া দিয়ে টানা সড়ক করা গেলেও কিছু সমস্যার সমাধান হতো।
তিনি আরও বলেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিআরটির মতো নয়। এ কারণে কতটুকু টেকসই হবে, তা নিয়েও ভাবনা আছে। ১৫ থেকে ২০ বছর পর এ রুটে আবার চাহিদা বাড়বে। ফলে এ উন্নয়ন আর কাজে আসবে না। তখন আর কিছু করার সুযোগও থাকবে না। উড়াল সেতু থাকার কারণে ভবিষ্যতে এর ওপর দিয়ে মেট্রোরেলও চালু করা যাবে না। এই বিআরটির কারণে স্থানীয় শিল্পকারখানার পণ্যবাহী গাড়িগুলো সমস্যায় পড়বে। এ ছাড়া বলা হচ্ছে, দূরপাল্লার যান চলাচল সমন্বয় করা হবে। হয়তো দূরপাল্লার এসব গাড়ি যাত্রা করবে গাজীপুর থেকে।
প্রকল্প পরিচালক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সানাউল হক বলেন, এ বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর কাছে একটা প্রস্তাব এসেছে শুনেছি, তবে তা এখনও হাতে পাইনি।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
সম্পাদক : জীবন খান, উপদেষ্টা : ডি আই জি আনোয়ার (অব:), মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান, আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট ফেরদৌস কবির খান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ রাসেল কবির খান, বার্তা সম্পাদক: মোরশেদ আলম পাটোয়ারী, সিনিয়র সহকারী সম্পাদক: সজীব হোসেন জয়, সহকারি সম্পাদক: মোঃ জিল্লুর রহমান খান, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ রাসেল সিকদার রাজু, নির্বাহী সম্পাদক : মতিউর রহমান (জনি), মফস্বল সম্পাদক: সঞ্জয় তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক : মোকাদ্দাস মোল্লা।
২৮/সি/৪ শাকের প্লাজা (টয়েনবি রোড) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল : ০১৭১৪-০২২৮৭৭, E-mail : jibonnews24@gmail.com
জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড