রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি॥ ঝালকাঠি জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এ লক্ষে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জেলা শহরকে বর্ধিতকরণ, পোনাবালিয়া ইউনিয়নকে শহরের সাথে সংযুক্ত করার লক্ষে সুগন্ধা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ, সেতু নির্মান না হওয়া পর্যন্ত নদী পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু করা, গাবখান সেতুর উভয় পারে শহরের পরিধি বর্ধণ করা। ঝালকাঠি শহর থেকে নতুন স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য চলমান রাস্তাটির দু’পাশ প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে শহরের জনগণ অতিসহজে নতুন স্টেডিয়ামে যাতায়াত করতে পারে। এছাড়াও আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে। বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের হলরুমে আয়োজিত ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলজি উপ-পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) এম.এম মাহামুদ হাসান, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ রিয়াদুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক স্বপন কুমার মুখার্জী প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক হামিদুল হক লিখিত প্রেস ব্রিফিং আরো উল্লেখ করেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালে দেশের সর্বক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটেছে।২০০৭-০৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.০১% যা বর্তমান ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭.৮৬%। মাথাপিছু আয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ছিল ৬৮৬ মার্কিন ডলার যা বর্তমান ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৭৫১ মার্কিন ডলার। মানুষের গড় আয়ু ছিল ২০০৮ সালে ৬৬.৮ বছর যা ২০১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর। ২০০৫ সালে দরিদ্রের শতকরা হার ছিল ৪০% যা বর্তমান ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কমে হয়েছে ২১.৮%। রেমিট্যান্স ২০০৭-২০০৮ অর্তবছরে ছিল ৮৯৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত হয়েছে ১০৭৫০.০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সক্ষরতার হার ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৫৫.৮% যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২.৩%। বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৫২০১ মেগাওয়াট যা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৭০৪৩ মেগাওয়াট। ১ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার (প্রতি হাজারে) ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৪১% যা ২০১৭-০৮ অর্থবছরে কমে হয়েছে ২৪% এ। ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার (প্রতি হাজারে) ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৫৪% যা চলতি ২০১৭-০৮ অর্থবছরে গিয়ে কমে হয়েছে ৩১% । ঝালকাঠি-২ আসেনর নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এম.পি. মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্ববধানে ঝালকাঠি জেলায় অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে কাঠালিয়া-আমুয়া-বামনা-পাথরঘাটা সড়কে বিশখালী নদীর উপর ৩৪৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আমুয়া সেতু নির্মাণ। সে সাথে গুরুপ্তপূনর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্থতায় উন্নীতকরণ (বরিশাল জোন) শীর্ষক প্রকল্পে ঝালকাঠির অংশে ১২৫৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৭ কি.মি সড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্থতায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ২৪৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠি জেলা শহরের নিকটবর্তী বিকনায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণ করা হয়েছে। রাজাপুর উপজেলা গালুয়ায় ১০৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইসলামিক মিশন হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। ১৭২৬ লক্ষ ব্যয়ে সদর উপজেলার কিফাইতনগরে পিটিআই এর সুদৃশ্য অবকাঠমো নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৫৮৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১০৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জেলা পুলিশ অফিসার্স মেস ভবন নির্মাণ, সদর পুলিশ ফাড়ি মহিলা পুলিশদের জন্য ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে। ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে উন্নত হয়ে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ চলমান। ঝালকাঠি পৌর এলাকায় টএওওচ-ওওও প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ০৬টি রাস্তা আরসিসির মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়েছে। ২৭৯৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কীর্ত্তিপাশা নার্সিং কলেজ এবং ২৯৮৫ লক্ষ ব্যয়ে কীর্ত্তিপাশা নার্সি কলেজের হোস্টেল নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ প্রায় শেষের পথে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২১টি বিদ্যালয়ে ১৪৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে। ৪৬৭ লক্ষ ব্যয়ে ০৬টি ইউনিয়ন ভূমি অর্ফিস নির্মাণ করা হছেয়ে। ৫১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দরপত্র আহ্বানসহ অন্যাণ্য কার্যক্রম চলমান। এছাড়া এ জেলায় পলিটেকনিক ইন্সিটিটিউট, মুজিব কেল্লা, ম্যাটস,খাদ্য ভবন, উপানুষ্ঠানি শিক্ষা ব্যুরো অফিস,জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, মডেল মসিজিদ, আইটি পার্ক প্রস্তাবিত কার্যক্রমে মধ্যে রয়েছে। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন,দেশে কত সংখ্যক বেকার রয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান তার হাতে এই মুহুর্তে নাই তবে তিনি সাংবাদিকদের পরে জানাবেন এবং বিদেশে নারীসহ প্রবাসীদের বিভিন্ন সময় নির্যাতন স্বীকারের অভিযোগের বিষয়েও তিনি সরকারের উচ্চ মহলে জানাবেন বলে জানান। জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় উন্নয়ন মেলা ০৪-০৬ অক্টোবর,২০১৮ পর্যন্ত চলবে।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রকাশক: ফয়সাল আহাম্মেদ খান, সম্পাদক : জীবন খান, উপদেষ্টা : ডি আই জি আনোয়ার (অব:), মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান, আইন উপদেষ্টা : ফেরদৌস কবির খান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ রাসেল কবির খান, বার্তা সম্পাদক: মোরশেদ আলম পাটোয়ারী, সিনিয়র সহকারী সম্পাদক: সজীব হোসেন জয়, সহকারি সম্পাদক: মোঃ জিল্লুর রহমান খান, সহকারি সম্পাদক: মোঃ ইমরান হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক : মতিউর রহমান (জনি), মফস্বল সম্পাদক: সঞ্জয় তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক : মোকাদ্দাস মোল্লা।
২৮/সি/৪ শাকের প্লাজা (টয়েনবি রোড) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল : ০১৭১৪-০২২৮৭৭, E-mail : jibonnews24@gmail.com
জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড