বহু প্রতীক্ষিত এমএনপি সেবা বা নম্বর না বদলে অপারেটর বদলের সুবিধা গতকাল সোমবার থেকে চালু হয়েছে। এ সেবা চালুর প্রথম দিনেই অপারেটর পরিবর্তন করতে গিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং টেলিটক গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথম দিনে এমএনপি সেবার জন্য মোট আবেদনকারী গ্রাহকদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি সফল হতে পারেননি। এ ব্যাপারে বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন থেকেই বিটিআরসি এমএনপি সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। এ সেবা কার্যক্রম নিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সকালে বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এ সেবা চালুর ঘোষণা দেন। এ সময় বিটিআরসির বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৭ জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তন করেছেন। এ সেবা নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের অপারেটর পরিবর্তন ফি ৫০ টাকা, সিমকার্ড প্রতিস্থাপনের জন্য ১০০ টাকা এবং এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট ও অন্যান্য কর দিতে হবে। সব মিলিয়ে একজন গ্রাহকের এমএনপি সেবার মাধ্যমে অপারেটর বদল করতে ১৫৮ টাকা খরচ পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, একজন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তনের সময় পূর্বের অপারেটরের অ্যাকাউন্টে যে টাকা থাকবে তা দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে গ্রাহক পুনরায় পূর্বের অপারেটরে ফিরে গেলে তিনি পূর্বের ব্যালেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। যদি দুই বছরের মধ্যে গ্রাহক পূর্বের অপারেটরে ফিরে না আসেন তাহলে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে এমএনপি সেবাদান প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন বলেন, সবার সহযোগিতায় এমএনপি সেবা চালু করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
এদিকে নাসির খান নামে এক গ্রাহক সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ায় রবি গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে হাজির হন নিজের ব্যবহূত গ্রামীণফোনের নম্বরটি রবি নম্বরে পরিবর্তনের জন্য। তার কাছ থেকে ফি ও প্রায়োজনীয় তথ্য নিয়ে নতুন সিমকার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু সারাদিনেও তার অপাটেরের পরিবর্তন হয়নি। এ ব্যাপারে টেলিফোনে নাসির হোসেন সমকালকে বলেন, তিনি গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে নতুন সিমকার্ড নিয়ে বাসায় ফেরার পর তাকে রবির গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, গ্রামীণফোন তার নম্বরটি পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। তিনি পরে গ্রামীণফোনের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে তাকে বলা হয়, তার কোনো বকেয়া কিংবা অন্য কোনো সমস্যা নেই। তিনি নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে পারবেন। কিন্তু সারাদিনেও তিনি নেটওয়ার্ক পরিবর্তনে সফল হতে পারেননি।
একই ধরনের বিড়ম্বনার কথা জানান নারায়ণগঞ্জের আবদুস শুক্কুর। তিনি টেলিফোনে বলেন, তার ঘরের ভেতরে গেলে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না, এ কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ছিলেন। কিন্তু তাকেও সিমকার্ড দেওয়ার পর জানানো হয়, গ্রামীণফোন তার পরিবর্তন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রবির গ্রাহকসেবা কেন্দ্র সংক্রান্ত সূত্র জানায়, প্রথম দিনে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্য অপারেটরের চারশ' নম্বর রবিতে পরিবর্তনের জন্য আসে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের নম্বর ছিল ৮০ শতাংশ। কিন্তু গ্রামীণফোনের নম্বরের ক্ষেত্রে মাত্র দুই শতাংশ সফলভাবে রবি নেটওয়ার্কে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশ স্থগিত করে দেয় গ্রামীণফোন।
সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রামীণফোন থেকে নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে চাওয়া গ্রাহকের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে মোবিক্যাশ থেকে ঋণ পাঠিয়ে 'ঋণ থাকায়' প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। বাংলালিংক থেকে রবিতে নম্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশনের সিনিয়র ম্যানেজার আংকিত সুরেকা এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি গ্রাহক অন্য অপারেটর থেকে বাংলালিংকে আসার চেষ্টা করেছেন। রবির গ্রাহকরা যারা প্রথম দিনে আসতে চেষ্টা করেছেন তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ সফল হয়েছেন। কিন্তু গ্রামীণফোন থেকে যে গ্রাহকরা বাংলালিংকে আসতে চেষ্টা কছেন তাদের কেউই সফল হতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল সমকালকে বলেন, অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। প্রথম দিনেই বেশ কিছু গ্রাহক অন্য অপারেটর ছেড়ে গ্রামীণফোনে এসেছেন। কিছু গ্রাহক গ্রামীণফোন ছেড়ে অন্য অপারেটরে গেছেন।
যেভাবে মিলবে এমএনপি সেবা : এমএনপি সেবা পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রথমে যে অপারেটরের নেটওয়ার্কে নিজের নম্বরটি প্রতিস্থাপন করতে চান সেই অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যেতে হবে। এই গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে গ্রাহকের নম্বরটি প্রতিস্থাপনের জন্য পুরনো অপারেটরের কাছে আবেদন পাঠানো হবে। প্রি-পেইড গ্রাহকরা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নতুুন অপারেটরের সিমকার্ড পেয়ে যাবেন। তবে সিমকার্ডটি নতুন নেটওয়ার্কে সক্রিয় হতে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
পোস্ট পেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বকেয়া ব্যালেন্স থাকলে তা পরিশোধ করে পূর্বের অপারেটরের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। কোনো প্রি-পেইড গ্রাহক পোস্ট পেইডে কিংবা কোন পোস্ট-পেইড গ্রাহক প্রি-পেইড ব্যবস্থায় পরিবর্তন করতে পারবেন না। গ্রাহক পুনরায় পূর্বের অপারেটরের নেটওয়ার্কে ফিরতে চাইলে তাকে ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
সম্পাদক : জীবন খান, উপদেষ্টা : ডি আই জি আনোয়ার (অব:), মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান, আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট ফেরদৌস কবির খান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ রাসেল কবির খান, বার্তা সম্পাদক: মোরশেদ আলম পাটোয়ারী, সিনিয়র সহকারী সম্পাদক: সজীব হোসেন জয়, সহকারি সম্পাদক: মোঃ জিল্লুর রহমান খান, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ রাসেল সিকদার রাজু, নির্বাহী সম্পাদক : মতিউর রহমান (জনি), মফস্বল সম্পাদক: সঞ্জয় তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক : মোকাদ্দাস মোল্লা।
২৮/সি/৪ শাকের প্লাজা (টয়েনবি রোড) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল : ০১৭১৪-০২২৮৭৭, E-mail : jibonnews24@gmail.com
জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড