সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিজ শহর রাস আল-আইনে বাস্তুচ্যুত কুর্দিদের ফিরে যাওয়ার কার্যক্রম সোমবার স্থগিত করা হয়েছে। ফিরে যাওয়া প্রথম একটি দলের ওপর হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় সিরিয়ার কুর্দি-অধ্যুষিত অন্যান্য এলাকাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার কয়েক শ’ মানুষ শহরটিতে ফিরে গিয়েছিলেন। কুর্দি বাহিনী ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে জানুয়ারিতে সিরীয় সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তির কয়েক মাস পর তারা ফিরে যান। ওই চুক্তিতে বাস্তুচ্যুত কুর্দিদের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টিও ছিল।
সিরিয়ার হাসাকেহ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রাস আল-আইনে বাস্তুচ্যুতদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি কমিটির সদস্য জাওয়ান ইসো এএফপিকে বলেন, প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষকে নিয়ে গঠিত প্রথম দলটি নিজ শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পরে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো’ তাদের ওপর হামলা চালায়।
রাস আল-আইন যে হাসাকেহ প্রদেশে অবস্থিত, সেই প্রদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর উপপ্রধান মাহমুদ খলিল আলী বলেন, হামলায় জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফেরার কার্যক্রম ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ফিরে আসা মানুষদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এসব কার্যক্রম আবার শুরু হবে।’
ইসো জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কুর্দিদের আরও একটি দল শহরটির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।
২০১৯ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তুরস্ক ও তাদের মিত্র সিরীয় যোদ্ধারা তুরস্ক সীমান্তবর্তী একটি আরব-অধ্যুষিত ভূখণ্ড দখল করে নেয়। রাস আল-আইনও ওই এলাকার মধ্যে ছিল। তখন এলাকাটি কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই অভিযানে কয়েক লাখ কুর্দি বাস্তুচ্যুত হন।
সোমবারের হামলার পর কাছের কুর্দি-অধ্যুষিত কামিশলিতে বিক্ষোভ হয়। এএফপির এক সংবাদদাতা সেখানে দেখেছেন, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সিরীয় কর্মকর্তারা তাদের বাধা দিয়ে পিছু হটিয়ে দেন।
উত্তরের কুর্দি-অধ্যুষিত শহর কোবানেতে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, লোকজন সরকারি দপ্তরে হামলা চালিয়েছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে থাকা সিরিয়ার পতাকা নামিয়ে দিয়েছে।
পরে নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে কোবানেতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানুয়ারির চুক্তিতে দামেস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরকারী কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের নেতা মাজলুম আবদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত কুর্দি পরিবারগুলো নিজ এলাকায় ফেরার সময় যে হামলার শিকার হয়েছে, আমরা তার নিন্দা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুর্দি জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, আমরা তা বুঝতে পারি। একই সঙ্গে আমরা আমাদের জনগণকে সংযত থাকার আহ্বান জানাই। কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়তে এবং আমাদের বেসামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করতে বলছি।’
হাসাকেহের উপ-গভর্নর আহমাদ আল-হিলালি ফিরে আসা মানুষদের ওপর হামলা এবং বহু-জাতিগোষ্ঠীর বাসস্থান হাসাকেহ শহরসহ অন্যান্য এলাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন দাঙ্গাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ ‘নাগরিক শান্তির জন্য হুমকি’ সৃষ্টি করে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কোনো ‘শিথিলতা’ দেখানো হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
‘মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম’-
এর আগে সোমবার এএফপির এক সংবাদদাতা হাসাকেহ শহরের কাছে কয়েক ডজন ট্রাক দেখতে পান। আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালপত্রে বোঝাই ট্রাকগুলো রওনা হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। নারী, পুরুষ ও শিশুরা ফিরে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়েছিলেন।
৩৭ বছর বয়সী ফিরে যাওয়া বাসিন্দা নোরা খোদর বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। একজন মানুষের নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি যেন স্বপ্নের মতো।’
ইসো জানান, রাস আল-আইন এলাকার প্রায় ১ লাখ মানুষ ফিরে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, ওই এলাকায় অভিযানের পর বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও মালপত্র দখল অথবা লুট করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে কিছু যোদ্ধা তাদের পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। তাদের কয়েকজন এখনো একসময় জাতিগতভাবে মিশ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস করা ওই এলাকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। কুর্দি ভাষায় এলাকাটি সারি কানী নামে পরিচিত।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার আগে তুরস্ক দেশটির উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক সীমান্তপারের অভিযান চালায়।
এরপর থেকে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে চলেছে। একসময় কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।
সহিংসতা শুরুর আগে ৩৯ বছর বয়সী রাওদা মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা ফিরে যেতে পেরে খুব খুশি।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার বাড়ির বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। তারা আমাকে বলেছে, বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা হতাশ হইনি। কারণ আমরা ফিরে যেতে পেরে খুশি। সেখানে গিয়ে আমরা দেখব কী করা যায়।’
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ায় এখনো প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
সম্পাদক : জীবন খান, উপদেষ্টা : ডি আই জি আনোয়ার (অব:), মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান, আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট ফেরদৌস কবির খান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ রাসেল কবির খান, বার্তা সম্পাদক: মোরশেদ আলম পাটোয়ারী, সিনিয়র সহকারী সম্পাদক: সজীব হোসেন জয়, সহকারি সম্পাদক: মোঃ জিল্লুর রহমান খান, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ রাসেল সিকদার রাজু, নির্বাহী সম্পাদক : মতিউর রহমান (জনি), মফস্বল সম্পাদক: সঞ্জয় তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক : মোকাদ্দাস মোল্লা।
২৮/সি/৪ শাকের প্লাজা (টয়েনবি রোড) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল : ০১৭১৪-০২২৮৭৭, E-mail : jibonnews24@gmail.com
জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড