টি ২০’র অমৃত সুধায় গলা ভেজানোর পর ২০১৪ সাল থেকে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিল সিলেটবাসী। অবশেষে তাদের স্বপ্ন পূরণ হল। সবুজে ঘেরা সিলেটের নন্দন কাননে ফুটল টেস্টের ফুল।
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট মাঠে গড়ানোর মধ্য দিয়ে শনিবার দেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। সকালে দুই অধিনায়ক টস করতে নামার পর একদল শিশু রঙিন বেলুন উড়িয়ে দেয় আকাশে।
এরপর সোনালি ঘণ্টা বাজিয়ে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশেই হয়েছে সিলেট ভেন্যুর টেস্ট অভিষেক। টেস্ট আঙিনায় পথ চলার শুরুটা রঙিন করতে আয়োজনে কোনো কমতি রাখেননি আয়োজকরা।
টস হয়েছে বিশেষ কয়েনে। টসের সময় বিশেষ স্মারকও উপহার দেয়া হয় দুই অধিনায়ককে। মধ্যহ্ন বিরতিতে সম্মাননা জানানো হয় জাতীয় দলে খেলা সিলেটের সাবেক ক্রিকেটারদের। কিন্তু রোদ ঝলমল দিনে নতুন মাঠের নতুন উইকেটে প্রথম দিনের লড়াইটা হল একেবারেই ম্যাড়ম্যাড়ে।
৯১ ওভারে বাংলাদেশ নিতে পেরেছে মাত্র পাঁচ উইকেট, বেশি রান তুলতে পারেননি জিম্বাবুয়েও। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে পাঁচ উইকেটে ২৩৬ রানে।
তবুও পাঁচ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করা জিম্বাবুয়ে স্বস্তি পেতে পারে। আবার ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (৫১) ও শন উইলিয়ামসের (৮৮) হাফ সেঞ্চুরির পরও জিম্বাবুয়েকে প্রথম দিনে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারার মধ্যে সামান্য প্রাপ্তি খুঁজে নিতে পারে স্বাগতিকরা।
ভেন্যুর অভিষেকের সঙ্গে এই ম্যাচে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের দু’জন করে মোট চার ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে। সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া মাহমুদউল্লাহ। টস-ভাগ্যটা নিজের পক্ষে আনতে পারলেন না।
এক পেসার নিয়ে টেস্টে নামার রেকর্ড আগেও রয়েছে বাংলাদেশের। সিলেটেও এক বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে মাঠে নামে স্বাগতিকরা। রক্ষণশীল চিন্তায় তাই কিছুটা বিতর্কও থেকে গেল। অভিষেক হয়েছে মিডিয়াম পেস অলরাউন্ডার আরিফুল হক ও বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর।
বোলিংয়ের শুরুতেই স্লিপে তিনজন এবং গালিতে একজনকে রেখে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়েছিলেন পেসার আবু জায়েদ রাহি। তবে দ্বিতীয় পেসার না থাকায় দ্বিতীয় ওভারেই বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে নিয়ে আসেন মাহমুদউল্লাহ।
উইকেট নেয়ার শুরুটাও হয় তার হাত ধরে। ওপেনার ব্রায়ান চারিকে (১৩) আউট করার পর তাইজুল ফেরান ব্রেন্ডন টেলরকেও (৬)। ৪৭ রানের মধ্যেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন তাইজুল। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও উইলিয়ামস ধাক্কা সামাল দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।
মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ ওই দুটি উইকেট নিতে পারে। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই ভালো বোলিংয়ের সুফল পান আবু জায়েদ। সাবধানী মাসাকাদজাকে ফিফটির পরই ফেরান সিলেটের এই পেসার।
১০৫ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৫২ করে আউট হন মাসাকাদজা। সারা দিনে ১৮ ওভার বোলিং করে আবু জায়েদ পেয়েছেন এই একটি উইকেটই। কিন্তু মন্থর উইকেটেও দু’দিক দিয়ে সুইং করিয়ে দারুণ বোলিং করেছেন এই ডান-হাতি পেসার।
১৯ রান করে আউট হওয়া সেকান্দার রাজাও বেশি এগোতে পারেননি। তবে আরেক প্রান্ত আগলে রাখেন উইলিয়ামস। সিকান্দারকে আউট করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেট পেয়ে যান নাজমুল ইসলাম।
প্রথম দিনটা তার শেষ হয়েছে ১৯ ওভারে পাঁচ মেডেনে ৪২ রানে ওই এক উইকেট। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন দারুণ ফর্মে থাকা উইলিয়ামস। টেস্টের প্রথম দিনেও সেঞ্চুরির পথে ছিলেন। হতে দিলেন না খণ্ডকালীন অফ-স্পিনার মাহমুদউল্লাহ।
১৭৩ বলে নয় চারে ৮৮ রান করেন উইলিয়ামস। দিনের বাকিটা সময় নিরাপদেই কাটিয়ে দেন পিটার মুর ও চাকাভা। শেষ ঘণ্টা তারা অনায়াসেই পার করে দিয়েছেন। মুর ৩৭ ও চাকাভা ২০ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম দিন শেষ করেন।
দ্রুত রান তোলার তাড়না কখনই ছিল না জিম্বাবুয়ের, দিন শেষেই তাই খুশি তারা। নতুন ভেন্যুর প্রথম দিনটা বাংলাদেশের হল না এটা বলাই যায়।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
সম্পাদক : জীবন খান, উপদেষ্টা : ডি আই জি আনোয়ার (অব:), মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান, আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট ফেরদৌস কবির খান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ রাসেল কবির খান, বার্তা সম্পাদক: মোরশেদ আলম পাটোয়ারী, সিনিয়র সহকারী সম্পাদক: সজীব হোসেন জয়, সহকারি সম্পাদক: মোঃ জিল্লুর রহমান খান, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ রাসেল সিকদার রাজু, নির্বাহী সম্পাদক : মতিউর রহমান (জনি), মফস্বল সম্পাদক: সঞ্জয় তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক : মোকাদ্দাস মোল্লা।
২৮/সি/৪ শাকের প্লাজা (টয়েনবি রোড) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল : ০১৭১৪-০২২৮৭৭, E-mail : jibonnews24@gmail.com
জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড