Category: লাইফস্টাইল

  • কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করলো সিলেটভিউ

    কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করলো সিলেটভিউ

    বিশিষ্টজনদের সাথে নিয়ে কেক কেটে পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে সিলেটভিউ২৪ডটকম। সোমবার সকাল ১১টায় সিলেটভিউ কার্যালয়ে কেক কাটা অনুষ্ঠানে বসেছিল সুধীজনদের মিলনমেলা। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা স্তরের মানুষেরা শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে এসেছিলেন সিলেটভিউ কার্যালয়ে।

    কেক কাটা অনুষ্ঠানে সিলেটভিউ২৪ডটকম’র সম্পাদক ও প্রকাশ শাহ্ দিদার আলম চৌধুরী নবেলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট-৫ আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল, সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মুত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক মঈনুল ইসলাম খান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও জেলা জজকোর্টের এডিশনাল পিপি এডভোকেট শামসুল ইসলাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি শামসুল আলম সেলিম, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হেলাল, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সচিব পীর মোহাম্মদ আলী মিলন, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এডভোকেট সাঈদ আহমদ, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি এম রশিদ আহমদ, এডভোকেট আলা উদ্দিন, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম তুষার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ঋত্বিক দেব, মিশিগান স্টেইট যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সহকারি রেজিস্ট্রার এডভোকেট লোকমান আহমদ চৌধুরী, এসিড নির্মূল কমিটির সভাপতি জুরেজ আব্দুল্লাহ গুলজার, চলো-সিলেট’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারি রুহুল আমিন রাজু।

    উপস্থিত ছিলেন দৈনিক শুভ প্রতিদিন’র প্রধান বার্তা সম্পাদক মঈন উদ্দিন, দৈনিক উত্তরপূর্ব’র সহকারি বার্তা সম্পাদক নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, বাংলা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শাহাব উদ্দিন শিহাব, চ্যানেল এস’র চিফ রিপোর্টার মঈন উদ্দিন মঞ্জু, ইন্ডিপেনেডেন্ট টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান মঞ্জুর আহমদ, বাংলানিউজ২৪ডটকম’র সিনিয়র রিপোর্টার নাসির উদ্দিন, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও আওয়ার টাইমস পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক আশরাফ চৌধুরী রাজু, দৈনিক সিলেটের দিনরাত পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ রাসেল, এসএনপিস্পোর্টস২৪ডটকম’র নির্বাহী সম্পাদক কাইয়ুম আল রনি, দৈনিক সিলেট সুরমার স্টাফ ফটোজার্নালিস্ট আব্দুল মুমিন ইমরান, বাংলানিউজ২৪ডটকম’র স্টাফ ফটোজার্নালিস্ট আবু বকর, সিলেটের সকাল ডটকম’র রিপোর্টার কাওছার আহমদ।

    চেইজ বিগিনস’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাকিল জামান, সাবেক সভাপতি তামিমুল করিম হৃদয়, বর্তমান সভাপতি ফয়সল আহমদ রুমন, সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রচার সম্পাদক খালেদ আহমদ, পল্লবী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল ঘোষ, সমাজ সচেতন উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইমতিয়াজ রহমান ইনু, স্বাধীন ধারা সিলেট’র প্রচার সম্পাদক শিব্বির আহমদ, সিলেট কমেডি ক্লাবের সভাপতি আবিদুল ইসলাম রিমন, ইউনিটি সোস্যাল অর্গানাইজেশন’র সভাপতি জুনেদুর রহমান, সহ-সভাপতি এনামুল হক, বিহঙ্গ তরুণ সংঘ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানি হাসান, শিক্ষা সম্পাদক মিহদা বেলায়েত চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক ফয়সল আহমদ শিহাব, শ্রীহট্ট আলোর দিশারী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদিকা মুন্নী বেগম, স্কলার্স কেয়ার কোচিং সেন্টারের সিনিয়র শিক্ষক মাহিন আফজল, চাইনিজ উশু ফাইটার স্কুলের জাজ ও কোচ আবদুর রহমান সানি, মিডিয়া স্কয়ারের গ্রাফিক্স ইনচার্জ অনিক কর দ্বীপ, যুব সংগঠক বিপ্রদাস বিশু।

    উপস্থিত ছিলেন এমসি কলেজ প্রেস ক্লাবের সভাপতি সুহেল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আজহার উদ্দিন শিমুল, সিলেটভিউ২৪ডটকম’র ছাতক প্রতিনিধি মাহবুব আলম, সিলেটভিউ২৪ডটকম’র স্টাফ রিপোর্টার মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, রফিকুল ইসলাম কামাল, এনামুল কবীর, সুব্রত দাস, আনোয়ার হোসেন, দিব্য জ্যোতি সী, আব্দুল আহাদ, মারুফ খান মুন্না, সি
    লেটভিউ২৪ডটকম’র অফিস সহকারি সাত্তার আহমদ, সাহিদ আহমদ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের অফিস সহকারি নুর হোসেন রাব্বি প্রমুখ।

  • সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে বড় বাধা দূষিত পরিবেশ : গবেষণা

    সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে বড় বাধা দূষিত পরিবেশ : গবেষণা

    শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ কতটা হবে আর কেমন হবে তা নির্ভর করে বাতাসে দূষণের মাত্রার ওপরে। নতুন এক গবেষণা থেকে এমনই তথ্য উঠে এল। সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ পেডিয়াট্রিকস’-এ এই গবেষণা প্রকাশিত হয়।

    সেই গবেষণাতে উঠে এসেছে, প্রসূতি অবস্থায় কোনও মহিলা দূষণের শিকার হলে, তার প্রভাব সরাসরি পড়ে গর্ভে থাকা শিশুর উপরে। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন, দূষিত বাতাস মার শরীরে ঢুকলে শিশুর মানসিক বিকাশ তুলনামূলক ভাবে কম হয়।

    এছাড়া শিশু কিছু শারীরিক ত্রুটি নিয়েও জন্মাতে পারে। ক্লেফট লিপ বা ঠোঁটের বিকৃত আকৃতি, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি নিয়েই শিশুর জন্ম হতে পারে। বাতাসে দূষণ শিশুদের বিকাশের ওপরে কী প্রভাব ফেলে, তার উপরে গবেষণাটি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা। গবেষণাটি থেকে উঠে এসেছে এই তথ্য।

    শুধু বুদ্ধির বিকাশে ব্যাঘাত বা শারীরিক ত্রুটি নয়, প্রসূতি মা দূষিত পরিবেশের মধ্যে থাকলে, জন্মের পরে তার শিশুর মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গবেষণা থেকে এমন জানা গেলেও, দিনের পরে দিন বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। তাই অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন মহিলাদের দূষণমুক্ত পরিবেশে থাকা উচিত বলে পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

    বাড়ির ভিতরে থাকলেই যে দূষণমুক্ত থাকা যাবে, তা নয়। যেভাবে দূষণের মাত্রা বাড়ছে, তাতে বাড়ির ভিতরেও দূষিত বাতাসের অস্তিত্ব থাকে। তাই বাড়িতেও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা থাকলে নিয়মিত ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।

  • অতিথি আপ্যায়নে চিংড়ি তন্দুরি

    অতিথি আপ্যায়নে চিংড়ি তন্দুরি

    পাতে চিংড়ি পছন্দ করেন না এমন মানুষ নেই বললেই চলে।কত ভাবেই আপনি প্রিয়জনদের জন্য ঘরেই রান্না করে খাওয়ান চিংড়ি।চিংড়ি একটি সুস্বাদু মাছ।অন্য মাছের তুলনায় এর স্বাদ ও গন্ধ মহনীয়।তাই অতিথির আপ্যায়নে ঘরেই রান্না করতে পারেন মজাদার চিংড়ি তন্দুরি।

    আজ যুগান্তর পাঠকের জন্য থাকছে চিংড়ি তন্দুরি’র রেসিপি।বন্ধু-মহলে আপনার সুনাম বাড়াবে খাবারটি। আসুন দেখে নেই কিভাবে তৈরি করবেন চিংড়ি তন্দুরি।

    যা লাগবে : চিংড়ি মাছ চারটি, তেল দুই চা চামচ, টকদই দুই চা চামচ, আদা বাটা এক চা চামচ, রসুন বাটা এক চা চামচ, দারুচিনি গুঁড়া অল্প, বড় এলাচ একটি, জিরা গুঁড়া এক চা চামচ, তন্দুর মসলা এক টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া এক চা চামচ, শুকনামরিচের গুঁড়া এক চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি- সামান্য?

    যেভাবে করবেন : আস্ত চিংড়ি মাছ পরিষ্কার করে ধুয়ে টকদই ও লবণ দিয়ে মেখে নিতে হবে। এবার একে একে আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা গুঁড়া , ধনিয়া গুঁড়া, শুকনামরিচের গুঁড়া, এলাচ দানা তন্দুর মসলা ও সামান্য চিনি দিয়ে ভালো করে মেখে এক ঘণ্টা ম্যারিনেট হতে দিতে হবে। এক ঘণ্টা পর অল্প তেল মেখে প্যানে ভেজে নিতে হবে। দুই দিকই ভালো মতো ভাজতে হবে। তবে চিংড়ি মাছ বেশি রান্না করলে শক্ত হয়ে যায়। তন্দুর করা হয়ে গেলে নামিয়ে নিয়ে লেবুর রস ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

     

  • নতুন বছরে হোয়াটসঅ্যাপ’র নতুন চমক

    নতুন বছরে হোয়াটসঅ্যাপ’র নতুন চমক

    নতুন বছরে নতুন একটি ফিচার আনতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ। গ্রুপ চ্যাট করতে করতেই আপনি আলাদা করে গ্রুপ সদস্যের কোনও মন্তব্যের রিপ্লাই দিতে পারবেন। কেউ তা জানতেও পারবে না। তবে এখনও এটি পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, যে কোনও সময় তা চলতি হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। তবে এই সুযোগ পাওয়া যাবে উইন্ডোজ ফোনেই। ভুল করে উইন্ডোজের ২.‌১৭.‌৩৪২ ভার্সনে এই ফিচার চালু করে দেওয়া হয়েছিল। পরে তা বন্ধ করে দেয় হোয়াটসঅ্যাপ।

    সেই ফিচারই ফিরছে ২.‌১৭.‌৩৪৮ ভার্সনের উইন্ডোজ ফোনে। গ্রুপ চ্যাটের কোনও একটি বার্তার ওপর প্রেস করে থাকলে পপ আপ দেখা যাবে। সেখান থেকেই Private Reply অংশে ক্লিক করলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে ব্যক্তিগত চ্যাটে।

  • শীতের মৌসুমে আপনাকে সুস্থ রাখবে গাজর

    শীতের মৌসুমে আপনাকে সুস্থ রাখবে গাজর

    শীতের মৌসুম মানেই হরেক রকম সবজির রমরমা সমাহার। এই হরেক সবজির মধ্যেই লুকিয়ে নানা রোগ প্রতিরোধের সমাধান। এদের মধ্যে অন্যতম গাজর। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে গাজর।

    ১। গাজরে বিটাক্যারোটিন, ফাইবার, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। শরীরের যাবতীয় শক্তির উৎস। ওজন কমাতে এর জুড়ি মেলা ভার।

    ২। গাজরে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন ফুসফুস ক্যানসার প্রতিরোধ করে। ধূমপায়ীরা বেশি গাজর খেয়ে ফুসফুস, কোলন ক্যানসার এড়ান। গাজরের রস লিউকোমিয়া সেল নষ্ট করতেও সাহায্য করে।

    ৩। শিশুর দৃষ্টিশক্তি কমার পিছনে দায়ী ভিটামিন এ-র অভাব। এই ভিটামিনের অভাবে রাতে দেখতে না পাওয়ার সমস্যাও হয়। গাজর ভিটামিন এ-এর সবচেয়ে ভাল উৎস।

    ৪। গাজরে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সাইটোকেমিক্যাল, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গাজর খেতে মিষ্টি হলেও এতে সুগারের মাত্রা খুবই কম। তাই ডায়াবেটিস থাকলে নিশ্চিন্তে খান গাজর।

    ৫। শীতকালে ঠান্ডার সমস্যা, সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পেতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো উচিত। গাজরের ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও গাজরে থাকে লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

    ৬। রক্তচাপ কমাতে ও হার্ট ভাল রাখতে সোডিয়াম কম কিন্তু পটাশিয়াম ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। এই নিউট্রেন্টের ব্যালান্স সোর্স হল গাজর।

    ৭। গাজর খেলে তৃপ্ত হয় মন। যা বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরে ক্যালোরি কম মাত্রায় দ্রবীভূত হয়। ওজন কমানোর ডায়াটে তাই গাজর মাস্ট।

  • শীতের দুই সমস্যা ঠান্ডা আর গলাব্যথা

    শীতের দুই সমস্যা ঠান্ডা আর গলাব্যথা

    শীত পড়তে শুরু করেছে পুরোদমে। সুতরাং এরকম শীতে বাড়তি প্রস্তুতি নয় সর্বোচ্চ প্রস্ততিই নেয়া উচিত। প্রস্তুতির বিষয়ে অনেকেরই হয়তো ধারণা আছে তাই সে বিষয়ে উল্লেখ করার আগে শীত কী ধরণের সমস্যা করতে পারে সে বিষয়ে একটু বলে নেয়া ভাল। তীব্র এই শীতে ঠান্ডা, সর্দি, গলাব্যথা, হাড়ের জোড়া বা জয়েন্টে ব্যথা, পেটব্যথা ডায়রিয়া, হার্টের সমস্যা এমন কি বিষণ্ণতা পর্যন্ত হতে পারে। শীতের অসুখের অধিকাংশই ভাইরাসজনিত। আর ভাইরাসজনিত সাধারণ সমস্যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওষুধের দরকার পড়েনা। ভাইরাস রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে একটা কথা হয়তো অনেকেই শুনে থাকবেন, সেটি হলো- ওষুধ খেলে ভাইরাস সারে ১ সপ্তাহে আর না খেলে ৭ দিনে।

    কমন কোল্ড বা ঠান্ডা লাগা:
    সচরাচর দেখা দেয় এমন একটি সমস্যা এই কমন কোল্ড। কমন কোল্ড-এ আক্রান্ত হলে মূলত সর্দি, নাক বন্ধ, গলা খুসখুস করা, গলায় শ্লেষা জমে থাকা, গা ব্যথা এবং জ্বর জ্বরভাব দেখা দেয়। নাক বন্ধের জন্য মাথাভারী লাগে, মাথাব্যথা করে।

    ১। কমন কোল্ড প্রতিরোধের জন্য মূল কার্যকর ব্যবস্থা হচ্ছে হাত ধুয়ে নেয়া। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যার পেছনে দায়ী হচ্ছে বিশেষ ধরণের ভাইরাস।

    ২। আমরা যখন প্রতিদিন বিভিন্ন কাজের সময় বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং সাধারণের জন্য উন্মুক্ত জায়গা স্পর্শ করি, তখন কোন না কোনভাবে সেই জিনিসপত্র কিংবা স্থানগুলো ভাইরাস দিয়ে দুষিত হয়ে থাকলে, তা সহজেই আমাদের হাতে চলে আসে। এবার সেই হাত দিয়ে যদি নাক স্পর্শ করি তাহলে সহজেই তা নাক দিয়ে শ্বাসনালিতে চলে যাবে, খাবার খেলে পেটে চলে যাবে। পরিণামে আমাদের শরীরেও এই ভাইরাসের বিস্তৃতি ঘটবে, এক সময়ে ভাইরাস সংক্রমণের প্রকাশও ঘটবে বিভিন্ন উপসর্গের মাধ্যমে।

    ৩। সাধারণভাবে সকলের জন্য ব্যবহার্য এলাকার মধ্যে রয়েছে বাস-ট্রেনের হ্যান্ডেল, এলিভেটরের বোতাম, রেস্টরুম, কী বোর্ড, টেলিফোন, দরজার হাতল ইত্যাদি। এ কারণে ঘরে ফিরেই হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নেয়া জরুরি। আর যদি ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকে সেক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

    ৪। শুধু হাত ধোয়াই নয়, এর পাশাপাশি প্লেট, গ্লাস, কাপ, টাওয়ালে এগুলোও পারিস্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে ঘরে কেউ কমন কোল্ড-এ আক্রান্ত হয়ে থাকলে এইসব জিনিসপত্র আক্রান্তের জন্য পৃথক করে দেয়াই উত্তম। যদিও আজকাল অধিকাংশ লোকজনই এই ধরণের জিনিসপত্র পৃথকভাবে নিজেরটাই ব্যবহার করে থাকেন।

    ৫। তাছাড়া আক্রান্তের সংস্পর্শ কিছুটা এড়িয়ে চলাই ভালো।

    ৬। এক্ষেত্রে যিনি আক্রান্ত তারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় কুনইয়ের ভিতরের দিকে কিংবা বগলে মুখ ঢেকে কাজটি করবেন। নিজের হাতের মধ্যে হাঁচি-কাশি দেবেন না, তাতে হাতের মধ্যে ভাইরাস লেগে থাকবে এবং যা সহজেই স্পর্শের মাধ্যমে অন্যত্র ছড়াবে।

    ৭। আর হাঁচি-কাশি, সর্দির জন্য কাপড়ের রুমাল ব্যবহার না করে ডিসপোজেবল টিস্যু ব্যবহার করাই ভালো। কাপড়ের রুমালে আপনার হাত বারবার ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে থাকবে।

    ৮। বাইরে চলাফেরা করার সময় হাত দিয়ে নাক স্পর্শ না করাই ভালো।

    ৯। কমন কোল্ড থেকে উপশম পেতে নিজেকে অর্থাৎ শরীরটাকে গরম বা উষ্ণ রাখতে হবে, দরকারি শীতের কাপড়-চোপড় ব্যবহারে আলসেমী করার সুযোগ নেই বা বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।

    ১০। গরম পানীয়, স্যুপ বেশ কাজে দেয়।

    ১১। প্রচুর পানি, ফলের রস বিশেষ করে ভিটামিন সি যুক্ত ফলের রস পান করা ভালো। ভিটামিন সি জাতীয় ফলের রস নিয়ে অনেক গবেষণা রয়েছে যার অধিকাংশই এর উপকারিতার কথা বলেছে। যদিও এটি ধন্বন্তরী কোন চিকিৎসা নয় তারপরও কিছুটা উপকার আছে।

    ১২। বিশেষ কোন ওষুধ ব্যবহারে লাভ নেই। তবে উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। বিশেষ করে গা-ব্যথার জন্য এসিটোএমিনোফেন/প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।

     

    গলাব্যথা বা সোর থ্রোট:
    শীতের গলাব্যথা সচরাচর ঘটে থাকে এমন একটি সমস্যা। এই গলাব্যথাকে ইংরেজিতে বলা হয় সোর থ্রোট। সোর থ্রোট মানে ঠিক প্রচন্ড গলাব্যথা নয়। সোর থ্রোট হচ্ছে গলার মধ্যে এমন এক অনুভূতি যখন গলার মধ্যে অল্প ব্যথা করবে, কিছুটা কাঁটার মত বিঁধবে, একটু জ্বলবে, অস্বস্তি হবে সাথে একটু জ্বলে যাওয়া ভাবও থাকবে। যাই হোক এটিকে মৃদু গলাব্যথাও বলা যেতে পারে। তবে মূল কথা হচ্ছে এই ধরণের সমস্যা বিশেষ করে শীতের বেলায় হয়ে থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। ভাইরাসের এই সংক্রমণের কারণ তাপমাত্রার ওঠানামা। বেশকিছু গবেষণা মতে হঠাৎ করে উষ্ণ তাপমাত্রার ঘর থেকে যদি কেউ বরফ শীতল বাইরের পরিবেশে চলে আসেন, তখন গলায় এর একটা প্রভাব পড়তে পারে। সার্বক্ষণিত ওৎপেতে থাকা শীতের আমুদে ভাইরাসরা এই সুযোগের অপেক্ষাতেই থাকে। উপযুক্ত তাপমাত্রা পেয়েই বংশবিস্তারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়, গলাব্যথায় পেয়ে বসে আমাদের।

    ১। যাই হোক গলাব্যথা যদি শুরুই হয়ে যায় এই শীতে, বসে থাকার উপায় নেই। কিছু একটা করতে হবে, তা না হলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই দ্রুত এবং সহজ উপায় হচ্ছে কুসুম গরম পানিতে লবন দিয়ে গড়গড়া করা। এই বিষয়টি হয়তো অনেকেরই জানা আছে, তারপরও মনে করিয়ে দিতে চাই এটি একটি বেশ কার্যকর উপশম পদ্ধতি। ১ গ্লাস ঈষৎ উষ্ণ পানিতে ১ চা চামচ লবন দিয়ে গড়গড়া করা যেতে পারে দৈনিক ২/৩ বার। এতে ইনফেকশন সারবে না কিন্তু এই লবন পানির রয়েছে প্রদাহরোধী ক্ষমতাসহ অস্বস্তি কমানোর শক্তি।

    ২। এছাড়া গলায় মাফলার, স্কার্ফ জড়িয়ে রাখা যেতে পারে।

    ৩। মাথা ঢেকে রাখতে হবে। এজন্য ক্যাপ ব্যবহার করাই উত্তম।

    ৪। বেশি ব্যথা হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে এন্টিবায়োটিকের মত ওষুধের দরকার নেই কারণ ইনফেকশনের কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাইরাস।

    লেখক- স্বাস্থ্য নিবন্ধকার, নিউ ইর্য়ক থেকে।