
আলমাস হোসেনঃ আশুলিয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এক ইউপি সদস্য ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এসময় ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে তার একটি পা ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকায় এ হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহত জাহিদ হোসেন (২৫) ঢাকা জেলার আশুলিয়া ধানাধীন কবিরপুর এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে। সে সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন সদস্য ও সক্রিয় কর্মী।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদ তার বন্ধু কবির হোসেনের সাথে কবিরপুর এলাকার ত্বোয়া গার্মেন্টসের সামনে দিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে রাস্তায় পূর্বে থেকে উৎপেতে থাকা শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন (৪২) এর নির্দেশে সামসুল (৩৮), রাজিব হোসেন (২৭), সৌরভ (২২), শাকিল (২২) সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২জন সন্ত্রাসী লোহার রড, লোহার পাইপ, লাঠি-সোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে জাহিদ হোসেনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখমসহ হত্যার চেষ্টা করে। এসময় উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা তার মাথায় গুরুতর জখমসহ তার একটি পা পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আল মামুন জিতু জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন যাবত শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও তার পালিত সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বে থেকে উৎ পেতে ছিলো। আনোয়ার মেম্বার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিচারের নামে প্রহসনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আনোয়ার মেম্বার বহু সরকারী খাস জমি অবৈধ ভাবে দখল করে ভোগ-দখল করেছে। এছাড়াও তার সন্ত্রাসী কর্মকা-ে এলাকার মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর এসবের প্রতিবাদ করাটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, আনোয়ার মেম্বার মূলত আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেছিলো। ইতি পূর্বেও আনোয়ার মেম্বার আমাকে মেরে ফেলার জন্য একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। আহত জাহিদ ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী। সে আমার সাথে থেকে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করে এটাই ওর দোষ।
আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহাম্মেদ টিটু জানান, খবর পেয়ে আহত ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদকে দেখতে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যাই। জাহিদ অত্যন্ত ভালো ছেলে। সে কখনো কোন ঝামেলার আশপাশেও থাকে না। এমন ভালো ছেলেকে এভাবে নির্মম নির্যাতন করায় আমি এর তিব্র নিন্দা জানাই এবং সেই সাথে ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধরের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।