ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo নারায়ণগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত Logo জাতিসংঘে নারী মহাসচিব প্রার্থী ইকুয়েডরের এসপিনোসার প্রচারণা শুরু Logo ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে, এইচএসসি জুনে Logo ডেমরায় শিপু মেকওভার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার-এর শুভ উদ্বোধন Logo প্রথম সেশন বাংলাদেশের Logo কাতারের উপকূলের কাছে জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত Logo দেশকে ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ : মির্জা ফখরুল Logo নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo হাওরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সরকার

তিস্তার পানিতে ডুবছে পাঁচশতাধিক বাড়ি

প্রতিনিধির নাম :

তিস্তার পানিতে ডুবছে পাঁচশতাধিক বাড়ি

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এ পয়েন্টে নতুনভাবে বিপদসীমার পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।

এদিকে ঝাড়সিংশ্বের এলাকায় বসবাসরত পাঁচশতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের বসবাসরত পরিবারগুলো সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

রোববার সকাল থেকে নতুন পয়েন্টের হিসাবে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানিবৃদ্ধির কারণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

এদিকে পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া তিস্তা নদীতে পানিবৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার চরবেষ্টিত গ্রামের পাঁচশতাধিক বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

তিস্তা অববাহিকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তার পানিবৃদ্ধি মানেই উজানে ভারী বৃদ্ধিপাত। সেই সঙ্গে খুলে দেয়া হয় ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের জলকপাট।

জানা যায়, রোববার সকাল ৬টায় ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ৫০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা সকাল ৯টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি ৫২ দশমিক ৫৫ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার এই পয়েন্টে সকাল ৬টায় ৫২ দশমিক ১০ মিটার পানিপ্রবাহ ছিল। এ ছাড়া ডালিয়া পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯৯ মিলিমিটার।

অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকায় তিস্তা পরিবেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, পূর্ব ছাতনাই, নাউতারা, জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারীসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বসবাসরত পরিবারগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী জানান, চরগ্রামের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে। পলিতে ভরে থাকা তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেই পানি উপচে এলাকা প্লাবিত করে দেয়। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধে বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। বর্ষাকাল শুরু হলে উজানের ঢলে তিস্তা ভাসিয়ে দেয় সব কিছু।

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান বলেন, ঝাড়সিংশ্বের এলাকায় বসবাসরত পাঁচশতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পরিবারগুলো নৌকায় নিরাপদ স্থানে আসার জন্য বলা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বন্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা সতর্কাবস্তায় রয়েছি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮
৪ বার পঠিত হয়েছে

তিস্তার পানিতে ডুবছে পাঁচশতাধিক বাড়ি

আপডেট এর সময় : ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এ পয়েন্টে নতুনভাবে বিপদসীমার পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।

এদিকে ঝাড়সিংশ্বের এলাকায় বসবাসরত পাঁচশতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের বসবাসরত পরিবারগুলো সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

রোববার সকাল থেকে নতুন পয়েন্টের হিসাবে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানিবৃদ্ধির কারণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

এদিকে পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া তিস্তা নদীতে পানিবৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার চরবেষ্টিত গ্রামের পাঁচশতাধিক বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

তিস্তা অববাহিকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তার পানিবৃদ্ধি মানেই উজানে ভারী বৃদ্ধিপাত। সেই সঙ্গে খুলে দেয়া হয় ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের জলকপাট।

জানা যায়, রোববার সকাল ৬টায় ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ৫০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা সকাল ৯টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি ৫২ দশমিক ৫৫ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার এই পয়েন্টে সকাল ৬টায় ৫২ দশমিক ১০ মিটার পানিপ্রবাহ ছিল। এ ছাড়া ডালিয়া পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯৯ মিলিমিটার।

অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকায় তিস্তা পরিবেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, পূর্ব ছাতনাই, নাউতারা, জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারীসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বসবাসরত পরিবারগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী জানান, চরগ্রামের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে। পলিতে ভরে থাকা তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেই পানি উপচে এলাকা প্লাবিত করে দেয়। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধে বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। বর্ষাকাল শুরু হলে উজানের ঢলে তিস্তা ভাসিয়ে দেয় সব কিছু।

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান বলেন, ঝাড়সিংশ্বের এলাকায় বসবাসরত পাঁচশতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পরিবারগুলো নৌকায় নিরাপদ স্থানে আসার জন্য বলা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বন্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা সতর্কাবস্তায় রয়েছি।