ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কাজাখস্তানে জাতীয় নির্বাচন, গঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্টপন্থী পার্লামেন্ট Logo নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo যুক্তরাষ্ট্রে মাদক মামলায় অভিযোগ সত্ত্বেও আবার দায়িত্বে ফিরলেন মেক্সিকোর গভর্নর Logo তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান Logo জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন Logo সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, মহাসড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo অবৈধ ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ চোরাচালান চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

মাদারীপুরে খাসেরহাট নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ঐতিহ্যবাহী বাজার ও খাদ্য গুদাম হুমকিতে

সঞ্জয় তালুকদার

সঞ্জয় তালুকদার: মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খাসেরহাট বাজার ও খাদ্য গুদাম সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে বাজার ও খাদ্য গুদামের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, আবুল কাশেম সিকদার নামের এক ব্যক্তি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বালি কাশেম’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতের আঁধারে নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিরাতে ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম চলে, যা আশপাশের পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার খাসেরহাট বাজার ও খাদ্য গুদাম রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে আসছে। অথচ এই ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে যে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারগুলো দিনের বেলা সূর্যমনি ও স্নানঘাটা খালের ভেতরে আত্মগোপনে রাখা হয় যাতে প্রশাসনের নজর এড়ানো যায়। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ঘুষ দিয়েই এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে বলেন, “যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অচিরেই খাসেরহাট বাজার ও খাদ্য গুদাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য না করলেও, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে অভিযোগপত্র পৌঁছানোর পর প্রশাসনিক তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৫৫ বার পঠিত হয়েছে

মাদারীপুরে খাসেরহাট নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ঐতিহ্যবাহী বাজার ও খাদ্য গুদাম হুমকিতে

আপডেট এর সময় : ০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সঞ্জয় তালুকদার: মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খাসেরহাট বাজার ও খাদ্য গুদাম সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে বাজার ও খাদ্য গুদামের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, আবুল কাশেম সিকদার নামের এক ব্যক্তি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বালি কাশেম’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতের আঁধারে নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিরাতে ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম চলে, যা আশপাশের পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার খাসেরহাট বাজার ও খাদ্য গুদাম রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে আসছে। অথচ এই ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে যে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারগুলো দিনের বেলা সূর্যমনি ও স্নানঘাটা খালের ভেতরে আত্মগোপনে রাখা হয় যাতে প্রশাসনের নজর এড়ানো যায়। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ঘুষ দিয়েই এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে বলেন, “যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অচিরেই খাসেরহাট বাজার ও খাদ্য গুদাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য না করলেও, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে অভিযোগপত্র পৌঁছানোর পর প্রশাসনিক তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।