
আবারও বড় এক ভাঙনের মুখে রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। সোমবার পার্টির দুই পলিটব্যুরো সদস্যসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ছয় নেতা যৌথ বিবৃতিতে ২ নভেম্বরের কংগ্রেসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা পার্টির সবার প্রতি এই কংগ্রেস বর্জনের আহ্বানও জানিয়েছেন।
এ বিবৃতির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, পার্টির যে ছয়জন বিবৃতি দিয়েছেন, তারা একদিন আগেও হাসিমুখে কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের প্রস্তুতি সভায় অংশ নিয়েছেন। মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের এ ধরনের বিবৃতি প্রহেলিকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি জানান, মঙ্গলবার পার্টির পলিটব্যুরোর সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হবে। তার দৃঢ় বিশ্বাস, ওয়ার্কার্স পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে।
সোমবার যৌথ বিবৃতি দেওয়া ছয় কেন্দ্রীয় নেতার মধ্যে রয়েছেন- পলিটব্যুরো সদস্য নুরুল হাসান, ইকবাল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকির হোসেন হবি, মোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু, অনিল বিশ্বাস এবং তুষার কান্তি দাস। এর আগে পলিটব্যুরো সদস্য এবং পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাসও পার্টি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে ছয় নেতা বলেছেন, ১৯৯২ সালের ৪ মে অনুষ্ঠিত ঐক্য কংগ্রেসের লক্ষ্য ছিল কমিউনিস্ট ঐক্যকে এগিয়ে নেওয়া, বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা। কিন্তু পার্টির বর্তমান নেতৃত্বের কারণে দল ইতোমধ্যে সংগ্রামী ভাবমূর্তি হারিয়ে ফেলেছে এবং জনগণ থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছয় নেতা
বিবৃতিতে বলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব রাজনৈতিক দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক দুর্নীতিতেও আক্রান্ত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে স্থায়ী ঐক্যের যে নীতি-কৌশল নেওয়া হয়েছে, তাতে ওয়ার্কার্স পার্টি দেউলিয়া পার্টিতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ বরিশালে জেলা সম্মেলনে সাম্প্রতিক প্রহসনের নির্বাচন সম্পর্কে পার্টি সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন সত্য উচ্চারণ করেও পরদিনই ইউটার্ন নিয়েছেন- যা বর্তমান ভ্রান্তনীতিরই অনিবার্য ফল। এর ফলে পার্টির নেতা, কর্মী এবং জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তারা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপর্যয়, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে পার্টিকে স্বাধীন ভূমিকা নিতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিবৃতিতে ছয় নেতা শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অবিশ্বাস্য সংখ্যক পার্টি সভ্যপদ দিয়ে ভুয়া প্রতিনিধিদের দশম পার্টি কংগ্রেসে উপস্থিত করানোর পরিকল্পনার অভিযোগও আনেন। তারা বলেন, পার্টি সভ্যপদ যাচাই না করে অবৈধ প্রতিনিধিদের নিয়ে পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলে তা হবে অবৈধ কংগ্রেস। তাই এই ‘প্রহসনের কংগ্রেসে’ অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।