ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

গর্ভপাতের পক্ষে ভোট আইরিশদের

প্রতিনিধির নাম :

আয়ারল্যান্ডের প্রায় ৬৫ শতাংশ নাগরিক গর্ভপাতকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শনিবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর এই তথ্য উঠে এসেছে।

গর্ভপাতের কঠোর আইনের পক্ষে-বিপক্ষে দেয়া গণভোটে মোট ৬৬.৪০ শতাংশ আইরিশ ভোট দেয়। এর মধ্যে গর্ভপাতকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ৬৪.৫১ শতাংশ ভোটার। খবর আনাদুলু এজেন্সির।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার বলেন, ‘গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এক ‘নীরব বিপ্লব’ দেখছে আয়ারল্যান্ড। নারীদের প্রতি বিশ্বাস ও সম্মান দেখিয়ে তাদের স্বাধীনতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা বেছে নেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন জনগণ।

দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারই সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিলের পক্ষে। কারণ এই সংশোধনীতে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন করা হয়।

১৯৯২ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া এক তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়লেও তাকে গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হয়নি, পরে তিনি আত্মহত্যা করেন। ২০১৪ সালে মস্তিস্ক অকার্যকর হলে আরেক গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু না হয়।

বিভিন্ন সময় এমন বিতর্কিত ঘটনার পর দেশটিতে গর্ভপাত আইন সংশোধনের দাবি ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে শুক্রবার গর্ভপাত আইন শিথিল হবে নাকি আগের মতোই কঠোর থাকবে সে বিষয়ে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

গর্ভপাত আইনের শিথিলতায় বলা হয়- ধর্ষণের ফলে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ, গর্ভে থাকা শিশুর জন্মের পর মৃত্যুর আশঙ্কা ইত্যাদি কারণে গর্ভপাতকে বৈধতা দেয়া যায়।

আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখা করে বলেছেন, ‘প্রতিদিন নয় জন আইরিশ মহিলা যুক্তরাষ্ট্রে যান ভ্রূণের পরিসমাপ্তি ঘটাতে৷ অন্যদিকে কমপক্ষে তিনজন আইরিশ মহিলা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খেয়ে গর্ভের ভ্রূণকে নষ্ট করার চেষ্টা করেন৷ এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনি রূপরেখা থাকা দরকার।’

গর্ভপাত বিরোধী গোষ্ঠীর আইনজীবী ক্যারোলিন সিমন্স বলেন, ‘অষ্টম সংশোধনী একজন চিকিৎসককে গর্ভস্থ শিশুর প্রাণ কাড়তে বাধা দেয় এবং এই কারণেই আমরা এর পক্ষে ভোট দিয়েছি।’ তবে শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত নিষিদ্ধের আইন বাতিলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন সাধারণ আইরিশরা।

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে গণভোটের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর অষ্টম সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হয়। আইনি জটিলতার ভয়ে হাসপাতালগুলো গর্ভপাত করাতে রাজি হয় না। এই আইনের কারণে মারাত্মক কারণেও গর্ভপাতের অনুমতি ছিল না দেশটিতে।  আর এর ফলে অনেকক্ষেত্রেই প্রাণহানি ঘটে অনেক মায়ের। এ কারণে গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন বাতিলে দাবিতে সোচ্চার হয় নাগরিকদের একাংশ।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮
২১ বার পঠিত হয়েছে

গর্ভপাতের পক্ষে ভোট আইরিশদের

আপডেট এর সময় : ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

আয়ারল্যান্ডের প্রায় ৬৫ শতাংশ নাগরিক গর্ভপাতকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শনিবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর এই তথ্য উঠে এসেছে।

গর্ভপাতের কঠোর আইনের পক্ষে-বিপক্ষে দেয়া গণভোটে মোট ৬৬.৪০ শতাংশ আইরিশ ভোট দেয়। এর মধ্যে গর্ভপাতকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ৬৪.৫১ শতাংশ ভোটার। খবর আনাদুলু এজেন্সির।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার বলেন, ‘গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এক ‘নীরব বিপ্লব’ দেখছে আয়ারল্যান্ড। নারীদের প্রতি বিশ্বাস ও সম্মান দেখিয়ে তাদের স্বাধীনতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা বেছে নেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন জনগণ।

দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারই সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিলের পক্ষে। কারণ এই সংশোধনীতে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন করা হয়।

১৯৯২ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া এক তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়লেও তাকে গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হয়নি, পরে তিনি আত্মহত্যা করেন। ২০১৪ সালে মস্তিস্ক অকার্যকর হলে আরেক গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু না হয়।

বিভিন্ন সময় এমন বিতর্কিত ঘটনার পর দেশটিতে গর্ভপাত আইন সংশোধনের দাবি ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে শুক্রবার গর্ভপাত আইন শিথিল হবে নাকি আগের মতোই কঠোর থাকবে সে বিষয়ে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

গর্ভপাত আইনের শিথিলতায় বলা হয়- ধর্ষণের ফলে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ, গর্ভে থাকা শিশুর জন্মের পর মৃত্যুর আশঙ্কা ইত্যাদি কারণে গর্ভপাতকে বৈধতা দেয়া যায়।

আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখা করে বলেছেন, ‘প্রতিদিন নয় জন আইরিশ মহিলা যুক্তরাষ্ট্রে যান ভ্রূণের পরিসমাপ্তি ঘটাতে৷ অন্যদিকে কমপক্ষে তিনজন আইরিশ মহিলা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খেয়ে গর্ভের ভ্রূণকে নষ্ট করার চেষ্টা করেন৷ এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনি রূপরেখা থাকা দরকার।’

গর্ভপাত বিরোধী গোষ্ঠীর আইনজীবী ক্যারোলিন সিমন্স বলেন, ‘অষ্টম সংশোধনী একজন চিকিৎসককে গর্ভস্থ শিশুর প্রাণ কাড়তে বাধা দেয় এবং এই কারণেই আমরা এর পক্ষে ভোট দিয়েছি।’ তবে শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত নিষিদ্ধের আইন বাতিলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন সাধারণ আইরিশরা।

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে গণভোটের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর অষ্টম সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হয়। আইনি জটিলতার ভয়ে হাসপাতালগুলো গর্ভপাত করাতে রাজি হয় না। এই আইনের কারণে মারাত্মক কারণেও গর্ভপাতের অনুমতি ছিল না দেশটিতে।  আর এর ফলে অনেকক্ষেত্রেই প্রাণহানি ঘটে অনেক মায়ের। এ কারণে গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন বাতিলে দাবিতে সোচ্চার হয় নাগরিকদের একাংশ।