
অনলাইন ডেস্ক: জাহানঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আবাসিক হল থেকে ২০ বোতল মদসহ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করেছে হল প্রশাসন।রোববার (৪ ডিসেম্বর ) রাত ৯টার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রভোস্ট ও হল সংসদ অভিযান চালিয়ে ৭২৩ নম্বর কক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে হল প্রশাসন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম মো: ফজলে আজওয়াদ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং মীর মশারফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। তবে সে অবৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম হলে থাকতেন। সেইসঙ্গে মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছে।
অভিযান পরিচালনা শেষে হল প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আজকে রাত ৯টার দিকে একটি গোপন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে আমরা হল প্রশাসন ও হল সংসদের সদস্যরা ৭২৩ নাম্বার রুমে অভিযান চালাই।
এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর টেবিলের লকার থেকে নয় বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে খাটের নিচ থেকে আরও ১১ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ১৭ বোতল ভদকা ও ৩ বোতল হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাড়ি জালামপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়ায় সে সহজেই অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা মদ ক্রয় করে ক্যাম্পাসে বিক্রি করত। তবে সে এই অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত দাবি করেন সে নিজে খাওয়া ও বন্ধুদের দেওয়ার জন্য এনেছেন।
তবে অভিযুক্তের কিছু ঘনিষ্ঠসূত্র নিশ্চত করেছে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জামসিং এলাকায় বাসা নিয়ে থাকেন। এই বাসাকে সে মাদককারবারে হাব হিসাবে ব্যবহার করত বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই রুমে যাদের অ্যালোটমেন্ট তারা কেউ থাকে না। আমরা জানতে পেরেছি, অনেকেই এই রুমে এসে মাদক সেবন করে। ফজলে আজওয়াদ সে মীর মশারফ হোসেন (এমএইচ) হলে অ্যালোটেড কিন্তু এখানে এসে থাকে। অভিযান চালানোর পর তার লকার ও খাটের নিচে ভদকা, হুইস্কির বোতল পাওয়া যায়। এখন তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্র শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’