
অনলাইন ডেস্ক: উবার স্বয়ংচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে নতুন ধাপ এগিয়েছে। লুসিড মোটরস ও স্বয়ংচালিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নুরোর সঙ্গে যৌথভাবে তারা নতুন রোবট্যাক্সি উন্মোচন করেছে।২০২৬ সালের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (CES)–এ গাড়িটি প্রদর্শিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনের আগে প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ কাছ থেকে গাড়িটি দেখার সুযোগ পায়।
রোবট্যাক্সিটি লুসিড গ্র্যাভিটি এসইউভিকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে অত্যাধুনিক স্বয়ংচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পটি ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুত হচ্ছে। উবার এতে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং লুসিডের কাছ থেকে ২০ হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উবার, লুসিড ও নুরো জানিয়েছে যে রোবট্যাক্সিটি ইতোমধ্যেই জনসাধারণের সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে চলেছে। চলতি বছরই সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গাড়িটিতে রয়েছে উচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা, সলিড-স্টেট লিডার ও রাডার প্রযুক্তি। এসব সেন্সর গাড়ির ছাদে থাকা ‘হালো’ অংশে সংযুক্ত করা হয়েছে। গাড়ির স্বয়ংচালিত সিস্টেম পরিচালিত হচ্ছে এনভিডিয়ার ড্রাইভ এজিএক্স থর কম্পিউটারের মাধ্যমে।
হালোতে থাকা এলইডি লাইট যাত্রীদের দূর থেকে গাড়ি শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। গাড়ি তৈরি হওয়ার সময়ই এসব প্রযুক্তি সংযোজন করা হচ্ছে, যা লুসিডের অ্যারিজোনার কারখানায় সম্পন্ন হচ্ছে।নতুন রোবট্যাক্সি আগের পরীক্ষামূলক সংস্করণের চেয়ে আরও উন্নত। হালোতে ছোট স্ক্রিন যুক্ত করা হয়েছে যা যাত্রীদের স্বাগত জানাবে। গাড়ির ভেতরে আলাদা রাইড ইন্টারফেসও রয়েছে। পেছনের যাত্রীদের স্ক্রিনে শহরের থ্রিডি মানচিত্র দেখা যাবে এবং আশপাশের গাড়ি ও পথচারীদের অবস্থানও প্রদর্শিত হবে। সফটওয়্যারটি উবার তৈরি করছে, তবে এখনো পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ প্রদর্শন হয়নি।
গাড়ির সামনে ৩৪ ইঞ্চির বাঁকানো OLED ডিসপ্লে টাচস্ক্রিন আছে। উবার এই রোবট্যাক্সিকে প্রিমিয়াম সেবা হিসেবে চালু করতে চায়। গাড়িটির ভেতরের জায়গা প্রশস্ত, এবং দুই বা তিন সারির সংস্করণ থাকবে।
চূড়ান্ত যাচাই ও অনুমোদন শেষে রোবট্যাক্সির পূর্ণ উৎপাদন শুরু হবে। গাড়িগুলো লুসিডের অ্যারিজোনার কারখানা থেকে সরবরাহ করা হবে, তবে উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও জানানো হয়নি।