
ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদ গতকাল সোমবার এমন খনিজসম্পদ বিষয়ক আইন সংস্কারের প্রথম ধাপ পাশ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চাইছিল।
এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিদেশি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য খনিজ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এএফপি একটি খসড়া তথ্য অনুসারে জানায়, বিলটি ভেনেজুয়েলার খনির কাজে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেবে এবং পাশাপাশি পক্ষগুলোর মধ্যে সালিশ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থার রূপরেখাও দেবে।
জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম কমিশনের আইন প্রণেতা অরল্যান্ডো কামাচো বিতর্কের সময় বলেন যে, সংস্কারগুলো ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে আমাদের আস্থা প্রদানের জন্য সমস্ত আইনি গ্যারান্টি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে।’
গত সপ্তাহে মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খনিজ সম্পদের দায়িত্বে আছেন এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতি অনুসারে খনিজসম্পদের ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় গিয়ে দেশের খনিজ আইনকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন।
সেই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ভেনেজুয়েলার খনিজ খাতে বিদেশি ও বিশেষ করে মার্কিন খনি কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং বিধি‑বিধান সহজ করে দেওয়া।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোর উৎখাতের দুই মাস পর, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে মার্কিন খনি কোম্পানিগুলো কাজ ‘শুরু করতে আগ্রহী’।
ভেনেজুয়েলা শুধু তেলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয় — সেখানে স্বর্ণ ও হীরাসহ বক্সাইট, কোলটান এবং এমন কিছু দুর্লভ খনিজ রয়েছে, যেগুলো কম্পিউটার, স্মার্টফোন ও অন্যান্য আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহার হয়।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গত মাসের শেষের দিকে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত তেল খাতে বেসরকারীকরণ এবং বিদেশী বিনিয়োগের পথ সুগম করতে নতুন আইন পাস করেছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার সুযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি খনি আইন হালনাগাদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে খনিজ সম্পদ ও তেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছেন।