ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo দিনাজপুরে কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে : সিইসি Logo মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির Logo দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo পাকিস্তান দলে যোগ দিচ্ছেন শফিক ও শাকিল Logo স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান Logo যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

স্বাস্থ্য খাতে বড়ো সমস্যা জনবল সংকট

প্রতিনিধির নাম :

দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা জনবল সংকট। হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, ভবন, আইসিইউ, সিসিইউ— সবই আছে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একের পর এক নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত জনবল। এদেশে কর্মরত নার্স রয়েছেন ৩৬ হাজার। ২৮ হাজার ক্যাডারভুক্তসহ মোট ডাক্তার আছেন ৩৩ হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, এক জন ডাক্তারের বিপরীতে তিন জন নার্স থাকতে হয়। সে হিসাবে সরকারি পর্যায়ে এক লাখ নার্স প্রয়োজন। বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে আরো অনেক নার্স প্রয়োজন। কিন্তু ডাক্তার-নার্সের অভাবে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে চিকিত্সক-নার্সদের সেবার মান অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে খারাপ নয়, এ কথা স্বীকার করতেই হয়। চিকিত্সাসেবার মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। কোনো কোনো বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও রয়েছে। দেশ-বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কয়েক হাজার নার্সও রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পদ না থাকায় তাদের পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানের বেশ কিছু চিকিত্সকও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের সুনাম রয়েছে। তাদের মান নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। অনেক কঠিন ও জটিল রোগের চিকিত্সা ও অপারেশন এখানে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। এমনকি বিদেশে যে অপারেশন করা সম্ভব হয়নি, ফেরত পাঠিয়েছে, সেটাও এখানে করা হয়েছে। যেমন জোড়া শিশু তোফা-তহুরা। তাদের সফল অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করা হয়েছে এদেশেই।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল জানান, দেশে তীব্র নার্স সংকট বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দুই লাখ নার্স প্রয়োজন। জনবলের দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে আছি। প্রতি বছর মেডিক্যাল কলেজ থেকে যেসব ডাক্তার পাশ করে বের হচ্ছেন তাদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বেশির ভাগ হাসপাতালেই অপারেশন হয় না। কারণ সার্জন আছে, অজ্ঞানকারী চিকিত্সক নাই। বিএমএ’র হিসাব অনুযায়ী সারাদেশে অজ্ঞানকারী চিকিত্সক আছে মাত্র দুই হাজার। বিষয়টা এমন যে দোকান আছে, কিন্তু দরজা বন্ধ। উপজেলার অবস্থা এমন। এ অবস্থায় সরকার স্বাস্থ্য খাতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট অন্যতম সমস্যা। সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে ১৫ হাজার নার্স ও সাড়ে ৫ হাজার ডাক্তার এবং ৩০ হাজার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের অনুমতি পেয়েছি। দ্রুত তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। নার্স নিয়োগেরও সমস্যা ছিল। নার্স তৈরি করার জন্য কারিগরি বোর্ড কাজ শুরু করেছিল। এটা নিয়ে মামলা হয়েছে। হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, তারা পারবে না। এটা যুগান্তকারী রায়।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০
১১ বার পঠিত হয়েছে

স্বাস্থ্য খাতে বড়ো সমস্যা জনবল সংকট

আপডেট এর সময় : ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা জনবল সংকট। হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, ভবন, আইসিইউ, সিসিইউ— সবই আছে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একের পর এক নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত জনবল। এদেশে কর্মরত নার্স রয়েছেন ৩৬ হাজার। ২৮ হাজার ক্যাডারভুক্তসহ মোট ডাক্তার আছেন ৩৩ হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, এক জন ডাক্তারের বিপরীতে তিন জন নার্স থাকতে হয়। সে হিসাবে সরকারি পর্যায়ে এক লাখ নার্স প্রয়োজন। বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে আরো অনেক নার্স প্রয়োজন। কিন্তু ডাক্তার-নার্সের অভাবে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে চিকিত্সক-নার্সদের সেবার মান অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে খারাপ নয়, এ কথা স্বীকার করতেই হয়। চিকিত্সাসেবার মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। কোনো কোনো বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও রয়েছে। দেশ-বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কয়েক হাজার নার্সও রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পদ না থাকায় তাদের পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানের বেশ কিছু চিকিত্সকও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের সুনাম রয়েছে। তাদের মান নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। অনেক কঠিন ও জটিল রোগের চিকিত্সা ও অপারেশন এখানে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। এমনকি বিদেশে যে অপারেশন করা সম্ভব হয়নি, ফেরত পাঠিয়েছে, সেটাও এখানে করা হয়েছে। যেমন জোড়া শিশু তোফা-তহুরা। তাদের সফল অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করা হয়েছে এদেশেই।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল জানান, দেশে তীব্র নার্স সংকট বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দুই লাখ নার্স প্রয়োজন। জনবলের দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে আছি। প্রতি বছর মেডিক্যাল কলেজ থেকে যেসব ডাক্তার পাশ করে বের হচ্ছেন তাদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বেশির ভাগ হাসপাতালেই অপারেশন হয় না। কারণ সার্জন আছে, অজ্ঞানকারী চিকিত্সক নাই। বিএমএ’র হিসাব অনুযায়ী সারাদেশে অজ্ঞানকারী চিকিত্সক আছে মাত্র দুই হাজার। বিষয়টা এমন যে দোকান আছে, কিন্তু দরজা বন্ধ। উপজেলার অবস্থা এমন। এ অবস্থায় সরকার স্বাস্থ্য খাতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট অন্যতম সমস্যা। সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে ১৫ হাজার নার্স ও সাড়ে ৫ হাজার ডাক্তার এবং ৩০ হাজার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের অনুমতি পেয়েছি। দ্রুত তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। নার্স নিয়োগেরও সমস্যা ছিল। নার্স তৈরি করার জন্য কারিগরি বোর্ড কাজ শুরু করেছিল। এটা নিয়ে মামলা হয়েছে। হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, তারা পারবে না। এটা যুগান্তকারী রায়।