ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo এক রানেরও কম ইকোনমিতে রেকর্ড বইয়ে রবিনসন Logo শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদক জব্দ Logo ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট Logo বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, প্রাণহানি ৬৩৩ Logo ৭৪ জনকে চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান প্রধানমন্ত্রীর Logo গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

কাশিমপুরে ‘সুদ-মাদক সম্রাট’ মোঃ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে তোলপাড়—ভয়ে মুখ খুলতে কাঁপে জনপদ

প্রতিনিধির নাম :

নিজস্ব প্রতিবেদক:গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর, সারদাগঞ্জ ও কাজী মার্কেট এলাকাগুলো যেন এখন এক ভয়াল সাম্রাজ্যের নাম। ভয়, জুলুম, মাদক, সুদ আর সন্ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন মোঃ আলম মিয়া (৪৫), যিনি রংপুর জেলার পীরগাছা থানার সুবিদ গ্রাম থেকে উঠে এসে এই জনপদে দাঁড় করিয়েছেন এক ভয়ঙ্কর অপরাধ সাম্রাজ্য।

আসামী মোঃ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়াবহ অভিযোগের পাহাড়। সুদের নামে দিনে দিনে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ, আর মাদকের ছায়া বিস্তৃত হয়ে গিলে ফেলছে এলাকার ভবিষ্যৎ। অথচ প্রশাসন নিরব। সাংবাদিক নির্যাতন, হুমকি এবং জনসাধারণের মুখ বন্ধ করতে ভয়ভীতি প্রদর্শন—এসব যেন আলম মিয়ার নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ভয়াল সুদের ফাঁদে নিঃস্ব মানুষ, একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, “২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। এখন প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে সুদ দিচ্ছি। মাস শেষে সুদই হয় ১৮ হাজার টাকা! মূল ঋণ তো কখনো শেষ হবে না।”
৯০% মাসিক সুদে অর্থঋণ দেওয়া এক ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ফাঁদ—যেখানে জীবন হারায় মূল্য, আর ন্যায্যতা হয়ে পড়ে নিঃস্ব।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোঃ আলম মিয়ার কর্মকাণ্ড একাধিক দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় পড়ে:

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী—

ধারা ৪০৬: বিশ্বাসভঙ্গ

ধারা ৪২০: প্রতারণা

ধারা ৫০৬: প্রাণনাশের হুমকি

অর্থনৈতিক অপরাধ দমন আইন, ২০১৬ অনুযায়ী—
অস্বাভাবিক হারে সুদে ঋণ প্রদান ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অধীনে এ ধরনের অপরাধ তদন্ত ও বিচারযোগ্য।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (ধারা ৩৬)
মাদক সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত বিধান রয়েছে।

তথ্যপ্রমাণ সত্ত্বেও অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, যা রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা ও আইনের কার্যকারিতার ওপর বড় প্রশ্ন তোলে।

সাংবাদিক নির্যাতন ও হুমকির বিরুদ্ধে ক্ষোভ,
মাদকের জালের সত্য অনুসন্ধানে গেলে তাদের ওপর নেমে আসে বর্বর হামলা।
আলম মিয়া প্রকাশ্যে বলে বসেন:
“রাত ১০টার পর তোকে গাজীপুরে দেখতে চাই না। সাংবাদিক আমার পকেটে থাকে।”

এই বক্তব্য শুধু এক ব্যক্তির নয়—এ যেন গোটা গণতন্ত্রকে উপহাস করার স্পর্ধা। সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেখানে সংবিধান স্বীকৃত (বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯), সেখানে এমন হুমকি জাতির অন্তরে আঘাত হানে।

আলম মিয়ার নেতৃত্বে জেরিন মিয়া, আমিনুল ইসলাম, আফসার মিয়া ও আরও ২০-২৫ জনের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র কাশিমপুরে চালায় ত্রাসের রাজত্ব। জমি দখল, চাঁদাবাজি, হুমকি ও নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত। অভিযোগ করলেই পাল্টা হামলার শিকার হতে হয়।
প্রশাসন? তারা কেবল দেখে, শোনে, কিন্তু কিছুই করে না।

মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের ৫ দফা দাবি

১. দুদক-এর মাধ্যমে অবৈধ সুদ, অর্থনৈতিক অপরাধ ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কর্তৃক তদন্ত করে মাদক মামলায় আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা।
৩. পুলিশ ও র‌্যাবের মাধ্যমে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান।
৪. সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

সত্য প্রকাশের অপরাধে যদি সাংবাদিক রক্তাক্ত হয়, মানুষ নিঃস্ব হয়, আর প্রশাসন নিশ্চুপ থাকে—তবে কি এটাই আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিচ্ছবি?
মোঃ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি নয়—এটা আমাদের জাতীয় দায়বদ্ধতা।

সত্যকে বাঁচাতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে, ভয়মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’ এখনই ভাঙতে হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
১৪ বার পঠিত হয়েছে

কাশিমপুরে ‘সুদ-মাদক সম্রাট’ মোঃ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে তোলপাড়—ভয়ে মুখ খুলতে কাঁপে জনপদ

আপডেট এর সময় : ০৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর, সারদাগঞ্জ ও কাজী মার্কেট এলাকাগুলো যেন এখন এক ভয়াল সাম্রাজ্যের নাম। ভয়, জুলুম, মাদক, সুদ আর সন্ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন মোঃ আলম মিয়া (৪৫), যিনি রংপুর জেলার পীরগাছা থানার সুবিদ গ্রাম থেকে উঠে এসে এই জনপদে দাঁড় করিয়েছেন এক ভয়ঙ্কর অপরাধ সাম্রাজ্য।

আসামী মোঃ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়াবহ অভিযোগের পাহাড়। সুদের নামে দিনে দিনে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ, আর মাদকের ছায়া বিস্তৃত হয়ে গিলে ফেলছে এলাকার ভবিষ্যৎ। অথচ প্রশাসন নিরব। সাংবাদিক নির্যাতন, হুমকি এবং জনসাধারণের মুখ বন্ধ করতে ভয়ভীতি প্রদর্শন—এসব যেন আলম মিয়ার নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ভয়াল সুদের ফাঁদে নিঃস্ব মানুষ, একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, “২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। এখন প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে সুদ দিচ্ছি। মাস শেষে সুদই হয় ১৮ হাজার টাকা! মূল ঋণ তো কখনো শেষ হবে না।”
৯০% মাসিক সুদে অর্থঋণ দেওয়া এক ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ফাঁদ—যেখানে জীবন হারায় মূল্য, আর ন্যায্যতা হয়ে পড়ে নিঃস্ব।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোঃ আলম মিয়ার কর্মকাণ্ড একাধিক দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় পড়ে:

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী—

ধারা ৪০৬: বিশ্বাসভঙ্গ

ধারা ৪২০: প্রতারণা

ধারা ৫০৬: প্রাণনাশের হুমকি

অর্থনৈতিক অপরাধ দমন আইন, ২০১৬ অনুযায়ী—
অস্বাভাবিক হারে সুদে ঋণ প্রদান ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অধীনে এ ধরনের অপরাধ তদন্ত ও বিচারযোগ্য।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (ধারা ৩৬)
মাদক সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত বিধান রয়েছে।

তথ্যপ্রমাণ সত্ত্বেও অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, যা রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা ও আইনের কার্যকারিতার ওপর বড় প্রশ্ন তোলে।

সাংবাদিক নির্যাতন ও হুমকির বিরুদ্ধে ক্ষোভ,
মাদকের জালের সত্য অনুসন্ধানে গেলে তাদের ওপর নেমে আসে বর্বর হামলা।
আলম মিয়া প্রকাশ্যে বলে বসেন:
“রাত ১০টার পর তোকে গাজীপুরে দেখতে চাই না। সাংবাদিক আমার পকেটে থাকে।”

এই বক্তব্য শুধু এক ব্যক্তির নয়—এ যেন গোটা গণতন্ত্রকে উপহাস করার স্পর্ধা। সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেখানে সংবিধান স্বীকৃত (বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯), সেখানে এমন হুমকি জাতির অন্তরে আঘাত হানে।

আলম মিয়ার নেতৃত্বে জেরিন মিয়া, আমিনুল ইসলাম, আফসার মিয়া ও আরও ২০-২৫ জনের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র কাশিমপুরে চালায় ত্রাসের রাজত্ব। জমি দখল, চাঁদাবাজি, হুমকি ও নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত। অভিযোগ করলেই পাল্টা হামলার শিকার হতে হয়।
প্রশাসন? তারা কেবল দেখে, শোনে, কিন্তু কিছুই করে না।

মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের ৫ দফা দাবি

১. দুদক-এর মাধ্যমে অবৈধ সুদ, অর্থনৈতিক অপরাধ ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কর্তৃক তদন্ত করে মাদক মামলায় আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা।
৩. পুলিশ ও র‌্যাবের মাধ্যমে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান।
৪. সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

সত্য প্রকাশের অপরাধে যদি সাংবাদিক রক্তাক্ত হয়, মানুষ নিঃস্ব হয়, আর প্রশাসন নিশ্চুপ থাকে—তবে কি এটাই আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিচ্ছবি?
মোঃ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি নয়—এটা আমাদের জাতীয় দায়বদ্ধতা।

সত্যকে বাঁচাতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে, ভয়মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’ এখনই ভাঙতে হবে।