ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ Logo গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী Logo শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ Logo ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো Logo স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ? Logo মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী Logo অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের Logo লেবাননে ইসরাইলের একাধিক বিমান হামলা Logo চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলার আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে গেলে পাওয়া যায় পুরস্কার

প্রতিনিধির নাম :

ধর্ম ডেস্ক: ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করার জন্য জামাত শুরু হওয়ার আগে যত আগেভাগে সম্ভব মসজিদে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। নবিজি (সা.) এ ফজিলত লাভের চেষ্টা করতে উৎসাহ দিয়েছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের সাওয়াবের কথা জানতো এবং লটারি ছাড়া তা লাভের কোন উপায় না থাকতো তবে তারা এর জন্য লটারি করতো। যদি নামাজে দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ফজিলত মানুষ জানতো, তবে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করতো। ইশা ও ফজরের সওয়াব যদি তারা জানতো, তবে তারা এ দুই নামাজের জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসতো। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

মসজিদে আগে উপস্থিত হলে প্রথম কাতারে বসা, জামাতে প্রথম থেকেই শরিক থাকা, নফল আদায় করা যায়, কুরআন তেলাওয়াত করাসহ অনেক আমল ও সওয়াবের কাজের সুযোগও পাওয়া যায়। এ ছাড়া মুমিন ব্যক্তি যতোক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকে, তা নামাজের ভেতরে থাকাই গণ্য হয় এবং সওয়াব লেখা হতে থাকে। তাই মসজিদে নামাজের জন্য আগেভাগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা সবারই করা উচিত। তবে কেউ যদি জামাত শুরু হওয়ার আগে মসজিদে উপস্থিত হতে না পারে, সে মসজিদে পৌঁছার আগেই নামাজ শুরু হয়ে যায়, তাহলে রাকাত ধরার জন্য তাড়াহুড়ো করা, ছুটতে ছুটতে মসজিদের দিকে যাওয়া ঠিক নয়। নবিজি (সা.) এ রকম তাড়াহুড়ো, ছোটাছুটি করতে নিষেধ করেছেন।

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জামাত শুরু হয়ে গেলে আপনারা তাড়াহুড়া করে আসবেন না। বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আসুন, শান্ত থাকুন। স্বাভাবিকভাবে এসে যত রাকাত পাবেন তা পড়ে নেবেন আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করে নেবেন। (সহিহ বুখারি)

প্রখ্যাত তাবেঈ হাসান বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদিন হজরত আবু বকরা (রা.) মসজিদে এসে আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকুতে পেলেন। রুকু ধরার জন্য তিনি কাতারে না পৌঁছেই রুকু করলেন, তারপর আগে বেড়ে কাতারে শামিল হলেন। নবিজি (সা.) নামাজ শেষ করে বললেন, আপনাদের মধ্যে কে কাতারে পৌঁছার আগেই রুকু করেছেন এবং পরে আগে বেড়ে কাতারে শামিল হয়েছেন? আবু বকরা (রা.) বললেন, আমি। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ আপনার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন। তবে সামনে থেকে এ রকম আর করবেন না। (সুনানে আবু দাউদ)

তাই নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগেই যেন মসজিদে উপস্থিত হওয়া যায়, সেই চেষ্টা থাকা সবার উচিত। কিন্তু কোনো কারণে সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে শেষ মূহূর্তে জামাত বা রাকাত ধরার জন্য ছোটাছুটি করা, তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। স্বাভাবিকভাবে এসে যত রাকাত পাবেন তা পড়ে নেবেন আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করে নেবেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
৮ বার পঠিত হয়েছে

নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে গেলে পাওয়া যায় পুরস্কার

আপডেট এর সময় : ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

ধর্ম ডেস্ক: ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করার জন্য জামাত শুরু হওয়ার আগে যত আগেভাগে সম্ভব মসজিদে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। নবিজি (সা.) এ ফজিলত লাভের চেষ্টা করতে উৎসাহ দিয়েছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের সাওয়াবের কথা জানতো এবং লটারি ছাড়া তা লাভের কোন উপায় না থাকতো তবে তারা এর জন্য লটারি করতো। যদি নামাজে দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ফজিলত মানুষ জানতো, তবে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করতো। ইশা ও ফজরের সওয়াব যদি তারা জানতো, তবে তারা এ দুই নামাজের জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসতো। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

মসজিদে আগে উপস্থিত হলে প্রথম কাতারে বসা, জামাতে প্রথম থেকেই শরিক থাকা, নফল আদায় করা যায়, কুরআন তেলাওয়াত করাসহ অনেক আমল ও সওয়াবের কাজের সুযোগও পাওয়া যায়। এ ছাড়া মুমিন ব্যক্তি যতোক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকে, তা নামাজের ভেতরে থাকাই গণ্য হয় এবং সওয়াব লেখা হতে থাকে। তাই মসজিদে নামাজের জন্য আগেভাগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা সবারই করা উচিত। তবে কেউ যদি জামাত শুরু হওয়ার আগে মসজিদে উপস্থিত হতে না পারে, সে মসজিদে পৌঁছার আগেই নামাজ শুরু হয়ে যায়, তাহলে রাকাত ধরার জন্য তাড়াহুড়ো করা, ছুটতে ছুটতে মসজিদের দিকে যাওয়া ঠিক নয়। নবিজি (সা.) এ রকম তাড়াহুড়ো, ছোটাছুটি করতে নিষেধ করেছেন।

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জামাত শুরু হয়ে গেলে আপনারা তাড়াহুড়া করে আসবেন না। বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আসুন, শান্ত থাকুন। স্বাভাবিকভাবে এসে যত রাকাত পাবেন তা পড়ে নেবেন আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করে নেবেন। (সহিহ বুখারি)

প্রখ্যাত তাবেঈ হাসান বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদিন হজরত আবু বকরা (রা.) মসজিদে এসে আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকুতে পেলেন। রুকু ধরার জন্য তিনি কাতারে না পৌঁছেই রুকু করলেন, তারপর আগে বেড়ে কাতারে শামিল হলেন। নবিজি (সা.) নামাজ শেষ করে বললেন, আপনাদের মধ্যে কে কাতারে পৌঁছার আগেই রুকু করেছেন এবং পরে আগে বেড়ে কাতারে শামিল হয়েছেন? আবু বকরা (রা.) বললেন, আমি। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ আপনার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন। তবে সামনে থেকে এ রকম আর করবেন না। (সুনানে আবু দাউদ)

তাই নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগেই যেন মসজিদে উপস্থিত হওয়া যায়, সেই চেষ্টা থাকা সবার উচিত। কিন্তু কোনো কারণে সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে শেষ মূহূর্তে জামাত বা রাকাত ধরার জন্য ছোটাছুটি করা, তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। স্বাভাবিকভাবে এসে যত রাকাত পাবেন তা পড়ে নেবেন আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করে নেবেন।