ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ Logo গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী Logo শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ Logo ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো Logo স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ? Logo মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী Logo অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের Logo লেবাননে ইসরাইলের একাধিক বিমান হামলা Logo চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলার আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

আল্লাহকে খুশি করুন, আপনার সুখের দরজা খুলে যাবে

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     মানুষের মন জোগানো কখনোই শেষ হয় না—আজ খুশি করলে কাল ভুলে যায়, আবার পরশু নতুন দাবি তোলে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কারও ওপর অবিচার করেন না। তার সন্তুষ্টির জন্য যে কাজ করে, তিনি তার অন্তরে এমন প্রশান্তি দান করেন, যা পৃথিবীর কোনো সম্পদ দিয়ে অর্জন করা যায় না। কুরআন-হাদিসের বর্ণনা থেকে তা সুস্পষ্ট—

আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা হলো একজন মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য ও আত্মিক প্রশান্তির উৎস। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ رِضۡوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكۡبَرُ ؕ

‘আল্লাহর সন্তুষ্টি— এটাই সর্বোচ্চ মহত্ত্ব ও সফলতা।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৭২)

২. মানুষের সন্তুষ্টি লক্ষ্য না করে আল্লাহকে অনুসরণ

মুমিনের কাজ হলো স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা, মানুষের নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ اللّٰهُ وَ رَسُوۡلُهٗۤ اَحَقُّ اَنۡ یُّرۡضُوۡهُ اِنۡ كَانُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ

‘আর তারা যদি মুমিন হয়ে থাকে তবে কাউকে খুশি করতে চাইলে আল্লাহ ও তার রাসুলই এর সবচেয়ে বেশি হকদার।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৬২)

৩. আল্লাহকে স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি

মানুষের প্রশংসা ও সন্তুষ্টি ক্ষণস্থায়ী—কিন্তু আল্লাহর স্মরণ ও সন্তুষ্টি স্থায়ী সুখের দরজা খুলে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘নিশ্চয় আল্লাহকে স্মরণেই হৃদয়ের শান্তি।’ (সুরা আর-রাআদ: আয়াত ২৮)

৪. আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মধ্যে সফলতা

কার খুশির জন্য কাজ করবেন— আল্লাহর নাকি মানুষের, বিষয়টি সুস্পষ্ট করে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টি হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি আশা করে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে,  আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের দায়িত্বে ছেড়ে দেন।’ (তিরমিজি ২৪১৪)

৫. মানুষের মন রক্ষা করতে গিয়েও হারিয়ে যায় শান্তি

মানুষকে খুশি করতে গেলে আল্লাহর প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত হতে হয়। মানুষকে খুশি করতে গিয়ে যদি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করি, তা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرْضَى عَنْهُ النَّاسَ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَسْخَطَ عَلَيْهِ النَّاسَ

‘যে ব্যক্তি মানুষকে নারাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, তার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন, আর মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে নারাজ করে মানুষের সন্তুষ্টি চায়, তার ওপর আল্লাহও অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন।’ (ইবনে হিববান)

ভাবুন— মানুষকে খুশি করতে গেলে খুব কষ্ট হয়, কারণ সবাইকে খুশি করা অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহকে খুশি করা খুব সহজ—সৎ পথে চললে, নামাজ পড়লে, সত্য বললে আল্লাহ খুশি হন। আর আল্লাহ খুশি হলে আপনার মনটা ফুলের মতো হালকা ও শান্ত হয়ে যায়।

মানুষের খুশি লাভের চেষ্টা জীবনকে ক্লান্ত ও ভারী করে দেয়। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য করলে হৃদয় হালকা হয়, আত্মা প্রশান্ত হয়, আর জীবন পায় প্রকৃত দিশা। আল্লাহ বলেন— তার সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ সফলতা। নবিজী (সা.) বলেন— যে আল্লাহকে খুশি রাখে, আল্লাহ তাকেই সম্মানিত করেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
৮ বার পঠিত হয়েছে

আল্লাহকে খুশি করুন, আপনার সুখের দরজা খুলে যাবে

আপডেট এর সময় : ০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:     মানুষের মন জোগানো কখনোই শেষ হয় না—আজ খুশি করলে কাল ভুলে যায়, আবার পরশু নতুন দাবি তোলে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কারও ওপর অবিচার করেন না। তার সন্তুষ্টির জন্য যে কাজ করে, তিনি তার অন্তরে এমন প্রশান্তি দান করেন, যা পৃথিবীর কোনো সম্পদ দিয়ে অর্জন করা যায় না। কুরআন-হাদিসের বর্ণনা থেকে তা সুস্পষ্ট—

আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা হলো একজন মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য ও আত্মিক প্রশান্তির উৎস। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ رِضۡوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكۡبَرُ ؕ

‘আল্লাহর সন্তুষ্টি— এটাই সর্বোচ্চ মহত্ত্ব ও সফলতা।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৭২)

২. মানুষের সন্তুষ্টি লক্ষ্য না করে আল্লাহকে অনুসরণ

মুমিনের কাজ হলো স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা, মানুষের নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ اللّٰهُ وَ رَسُوۡلُهٗۤ اَحَقُّ اَنۡ یُّرۡضُوۡهُ اِنۡ كَانُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ

‘আর তারা যদি মুমিন হয়ে থাকে তবে কাউকে খুশি করতে চাইলে আল্লাহ ও তার রাসুলই এর সবচেয়ে বেশি হকদার।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৬২)

৩. আল্লাহকে স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি

মানুষের প্রশংসা ও সন্তুষ্টি ক্ষণস্থায়ী—কিন্তু আল্লাহর স্মরণ ও সন্তুষ্টি স্থায়ী সুখের দরজা খুলে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘নিশ্চয় আল্লাহকে স্মরণেই হৃদয়ের শান্তি।’ (সুরা আর-রাআদ: আয়াত ২৮)

৪. আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মধ্যে সফলতা

কার খুশির জন্য কাজ করবেন— আল্লাহর নাকি মানুষের, বিষয়টি সুস্পষ্ট করে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টি হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি আশা করে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে,  আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের দায়িত্বে ছেড়ে দেন।’ (তিরমিজি ২৪১৪)

৫. মানুষের মন রক্ষা করতে গিয়েও হারিয়ে যায় শান্তি

মানুষকে খুশি করতে গেলে আল্লাহর প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত হতে হয়। মানুষকে খুশি করতে গিয়ে যদি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করি, তা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرْضَى عَنْهُ النَّاسَ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَسْخَطَ عَلَيْهِ النَّاسَ

‘যে ব্যক্তি মানুষকে নারাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, তার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন, আর মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে নারাজ করে মানুষের সন্তুষ্টি চায়, তার ওপর আল্লাহও অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন।’ (ইবনে হিববান)

ভাবুন— মানুষকে খুশি করতে গেলে খুব কষ্ট হয়, কারণ সবাইকে খুশি করা অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহকে খুশি করা খুব সহজ—সৎ পথে চললে, নামাজ পড়লে, সত্য বললে আল্লাহ খুশি হন। আর আল্লাহ খুশি হলে আপনার মনটা ফুলের মতো হালকা ও শান্ত হয়ে যায়।

মানুষের খুশি লাভের চেষ্টা জীবনকে ক্লান্ত ও ভারী করে দেয়। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য করলে হৃদয় হালকা হয়, আত্মা প্রশান্ত হয়, আর জীবন পায় প্রকৃত দিশা। আল্লাহ বলেন— তার সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ সফলতা। নবিজী (সা.) বলেন— যে আল্লাহকে খুশি রাখে, আল্লাহ তাকেই সম্মানিত করেন।