ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

আগামী মাসে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের : মুখপাত্র

অনলাইন ডেস্ক

আগামী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা এই তথ্য জানান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব উম্মে রেহেনা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং চলছে। তবে আগামী মে মাসের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুগ্ম সচিব বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণেই মূলত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। আর এ সংকট নিরসনের জন্য গত ৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ সচিব একটা মিটিং করেছিলেন এবং মিটিংয়ে ডিপিডিসি এবং ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমনিতেই প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কিছুটা লোডশেডিং করতে হয়। তবে এবার একটু বেশি হয়েছে, কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই সংকট হচ্ছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে আমরা জ্বালানি আমদানি করতে পারছি না। এ জন্য জ্বালানি বিভাগ স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে আমাদেরকে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, মূলত আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকি মোট পাঁচটি পদ্ধতির মাধ্যমে। প্রাকৃতিক গ্যাস, ডিজেল, কয়লা, হাইড্রো, সৌর এবং বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ পেয়ে থাকি এবং কিছু বিদ্যুৎ আমরা আমদানিও করে থাকি।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যম ছাড়াও  সবচেয়ে কম পয়সায় আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি হাইড্রো পাওয়ারের মাধ্যমে। তবে আমাদের দেশের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী আমরা হাইড্রোতে উৎপাদন করে থাকি মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট। যেটা আমাদের মোট উৎপাদন ব্যবস্থার এক শতাংশ মাত্র।

তিনি বলেন, এর পরেই হচ্ছে আমরা যদি আর্থিকভাবে ক্যালকুলেশন করি সেটা হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এত বেশি নেই। জ্বালানি সংকট রয়েছে এবং জ্বালানি বিভাগ থেকে এলএনজি আমদানি করে ফুয়েল মিক্স করে আমাদেরকে এটা সরবরাহ করে থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের যত পাওয়ার প্লান্ট আছে তার মধ্যে ৪৩ শতাংশ বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করে থাকি আসলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে। এই ৪৩ শতাংশ বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট।

উম্মে রেহানা বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে যদি আমরা উৎপাদন করতে যাই সেখানে আমাদের ২ হাজার এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এতটা গ্যাস জ¦ালানি  বিভাগ থেকে আমাদেরকে সরবরাহ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদেরকেও গ্যাসটা দিতে হচ্ছে এবং সার উৎপাদন করতে হয় এটা আমাদের দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

মুখপাত্র আরো বলেন, জ্বালানির এই সংকটের কারণে তারা যদি ১২০০ এমএম সিএফডি গ্যাসও আমাদেরকে দিতে পারতো তাহলেও অনেক কম পয়সায় আমরা ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে ৮৫০ থেকে ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস দিতে পারছে।

তিনি বলেন, এত সংকটের মধ্যেও ঢাকা শহরকে আমরা লোডশেডিং এর বাইরে রাখার চেষ্টা করছি। যদিও ঢাকার বাইরে কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। তা আগামী মে মাসের মধ্যেই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাহিদার অর্ধেকের কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা শহরে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গ্রামে কিছুটা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

যুগ্ম সচিব বলেন, গতকাল বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট। সুতরাং প্রায় ২ হাজারের বেশি লোডশেডিং হয়েছে গতকাল। আজও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে।

তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন হবে, তখন সংকট কমবে, লোডশেডিং কমবে। ঘাটতির জন্য কৃষি ও শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
১৯ বার পঠিত হয়েছে

আগামী মাসে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের : মুখপাত্র

আপডেট এর সময় : ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

আগামী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা এই তথ্য জানান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব উম্মে রেহেনা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং চলছে। তবে আগামী মে মাসের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুগ্ম সচিব বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণেই মূলত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। আর এ সংকট নিরসনের জন্য গত ৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ সচিব একটা মিটিং করেছিলেন এবং মিটিংয়ে ডিপিডিসি এবং ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমনিতেই প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কিছুটা লোডশেডিং করতে হয়। তবে এবার একটু বেশি হয়েছে, কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই সংকট হচ্ছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে আমরা জ্বালানি আমদানি করতে পারছি না। এ জন্য জ্বালানি বিভাগ স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে আমাদেরকে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, মূলত আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকি মোট পাঁচটি পদ্ধতির মাধ্যমে। প্রাকৃতিক গ্যাস, ডিজেল, কয়লা, হাইড্রো, সৌর এবং বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ পেয়ে থাকি এবং কিছু বিদ্যুৎ আমরা আমদানিও করে থাকি।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যম ছাড়াও  সবচেয়ে কম পয়সায় আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি হাইড্রো পাওয়ারের মাধ্যমে। তবে আমাদের দেশের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী আমরা হাইড্রোতে উৎপাদন করে থাকি মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট। যেটা আমাদের মোট উৎপাদন ব্যবস্থার এক শতাংশ মাত্র।

তিনি বলেন, এর পরেই হচ্ছে আমরা যদি আর্থিকভাবে ক্যালকুলেশন করি সেটা হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এত বেশি নেই। জ্বালানি সংকট রয়েছে এবং জ্বালানি বিভাগ থেকে এলএনজি আমদানি করে ফুয়েল মিক্স করে আমাদেরকে এটা সরবরাহ করে থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের যত পাওয়ার প্লান্ট আছে তার মধ্যে ৪৩ শতাংশ বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করে থাকি আসলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে। এই ৪৩ শতাংশ বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট।

উম্মে রেহানা বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে যদি আমরা উৎপাদন করতে যাই সেখানে আমাদের ২ হাজার এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এতটা গ্যাস জ¦ালানি  বিভাগ থেকে আমাদেরকে সরবরাহ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদেরকেও গ্যাসটা দিতে হচ্ছে এবং সার উৎপাদন করতে হয় এটা আমাদের দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

মুখপাত্র আরো বলেন, জ্বালানির এই সংকটের কারণে তারা যদি ১২০০ এমএম সিএফডি গ্যাসও আমাদেরকে দিতে পারতো তাহলেও অনেক কম পয়সায় আমরা ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে ৮৫০ থেকে ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস দিতে পারছে।

তিনি বলেন, এত সংকটের মধ্যেও ঢাকা শহরকে আমরা লোডশেডিং এর বাইরে রাখার চেষ্টা করছি। যদিও ঢাকার বাইরে কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। তা আগামী মে মাসের মধ্যেই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাহিদার অর্ধেকের কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা শহরে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গ্রামে কিছুটা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

যুগ্ম সচিব বলেন, গতকাল বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট। সুতরাং প্রায় ২ হাজারের বেশি লোডশেডিং হয়েছে গতকাল। আজও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে।

তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন হবে, তখন সংকট কমবে, লোডশেডিং কমবে। ঘাটতির জন্য কৃষি ও শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।