নিজস্ব প্রতিনিধি
হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

মুন্সীগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ-হাতিমারা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সহজ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মুন্সীগঞ্জ-হাতিমারা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্ত করণে ১৩৫৯ কোটি ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল ও দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্রগ্রাম এবং মোংলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরো গতিশীল হবে। এতে পণ্য পরিবহনসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন দুয়ার খুলবে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর ব্রীজ থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একনেকে পাশ হওয়া প্রায় ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সদর উপজেলার মুক্তারপুর থেকে হাতিমারা পর্যন্ত ৩.৪৬ কিলোমিটার রাস্তা করা হবে ৪ লেইনের। হাতিমারা থেকে পরবর্তী ছনবাড়ী পর্যন্ত ২০.৪৫ কিলোমিটার রাস্তা হবে ২ লেনের ১০.৩ মিটার প্রশস্তের।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রকল্পটি একনেকে পাশ হবার পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগসহ প্রাথমিক জরিপ কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ সড়ক প্রশস্ত করণের কাজ শুরু হবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আগামী ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুস হোসেন সাকিব বলেন, মুক্তারপুর থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে চট্রগ্রাম থেকে যানবাহন রাজধানী ঢাকা শহরে প্রবেশ না করে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে চট্রগ্রাম থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনগুলোর যাতায়াতে সময় এবং খরচ দুটিই বাচবে। চট্রগ্রাম থেকে যানবাহন ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে এসে মদনপুর হয়ে শীতলক্ষা- ২ সেতু এবং মুক্তারপুর সেতু হয়ে হাতিমারা-ছনবাড়ী হয়ে পদ্মাসেতু দিয়ে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলে চলে যেতে পারবে।
এছাড়াও সড়ক প্রশস্তকরণে ঢাকার ওপর থেকে চাপ কমবে। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য, মৎস্য ও উৎপাদিত শিল্পপণ্য দ্রুততম সময়ে চট্রগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে পরিবহন ব্যয় কমবে, পাশাপাশি যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
মুন্সীগঞ্জ নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং এ সব এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপিত হবে এবং বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। এছাড়া সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান এবং এতে আঞ্চলিক অর্থনীতি গতিশীল হবে। মহাসড়ক প্রশস্ত করণের কাজ শেষ হলে পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্রগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরো গতিশীল হবে।
দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহন দ্রততম সময়ে চট্রগ্রামমুখী সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে। আর এতে পণ্য পরিবহন আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দক্ষিণাঞ্চল ও চট্রগ্রামের মধ্যে পণ্য পরিবহনের একটি কার্যকর করিডোর হিসেবে গড়ে উঠবে হাতিমারা ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণের ফলে মুন্সীগঞ্জের শিল্প ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও গতি আসবে। পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মুন্সীগঞ্জ-বেতকা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে। মুন্সীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে এতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে।




















