ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বাংলাদেশকে ২০০ রানের লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে Logo দেশের ৪ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে Logo জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কৌশলগত তেলের মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা অনুমোদন ভারতের Logo মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সঠিক চিকিৎসাই স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে : প্রধানমন্ত্রী Logo তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন বাভি Logo খামেনির দাফনের আগে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান Logo আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু Logo ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’: ট্রাম্প

চট্টগ্রামে সহপাঠীর ছোড়া রডের আঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম :

আঘাতে এক এতিমখানার শিক্ষার্থী মারা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে মারা যায়। এই ঘটনায় বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীকে আটক করেছে পুলিশ।

মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. মিজানুর রহমান (১১)। সে উপজেলার কলাউজান শাহ আমজাদিয়া হেফজখানা ও নুরিয়া এতিমখানার হেফজ শাখার শিক্ষার্থী ছিল। উত্তর কলাউজান সিকদার পাড়ার মোহাম্মদ ইছহাকের ছেলে মিজান।

পুলিশ ও এতিমখানা সূত্রে জানা যায়, এতিমখানায় গত বুধবার দিনগত রাত চারটার দিকে মিজানুর রহমান ঘুম থেকে ওঠে। পরে তার এক সহপাঠীকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। হন্তদন্ত হয়ে সেই সহপাঠী ঘুম থেকে উঠে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুরকে মারার চেষ্টা করে। এ সময় মিজানুর ভবনের বাইরে চলে যায়। পরে ওই সহপাঠী ঘণ্টির দণ্ড (লোহার রড) নিয়ে ধাওয়া করে মিজানুরের দিকে ছুড়ে মারে। এতে রডটি মিজানের মাথায় বিদ্ধ হলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার লোহাগাড়ার আমিরাবাদের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মিজানুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ ইছহাক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছিলাম, কোরআনের হাফেজ বানানোর জন্য। কিন্তু তারা আমার ছেলেটাকে হাফেজ না বানিয়ে হত্যা করেছে।’ ছেলে আহত হওয়ার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সেই খবরটি জানায়নি বলেও দাবি করেন মোহাম্মদ ইছহাক।

মাদ্রাসার পরিচালক গোলাম রসুল কমরী প্রথম আলোকে বলেন, মিজান মাথায় আঘাত পেলে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে ওই সময় তাঁর অভিভাবকদের খবর পাঠানো সম্ভব হয়নি।

লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত মিজানুরের এক সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৮
৩১ বার পঠিত হয়েছে

চট্টগ্রামে সহপাঠীর ছোড়া রডের আঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেট এর সময় : ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৮

আঘাতে এক এতিমখানার শিক্ষার্থী মারা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে মারা যায়। এই ঘটনায় বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীকে আটক করেছে পুলিশ।

মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. মিজানুর রহমান (১১)। সে উপজেলার কলাউজান শাহ আমজাদিয়া হেফজখানা ও নুরিয়া এতিমখানার হেফজ শাখার শিক্ষার্থী ছিল। উত্তর কলাউজান সিকদার পাড়ার মোহাম্মদ ইছহাকের ছেলে মিজান।

পুলিশ ও এতিমখানা সূত্রে জানা যায়, এতিমখানায় গত বুধবার দিনগত রাত চারটার দিকে মিজানুর রহমান ঘুম থেকে ওঠে। পরে তার এক সহপাঠীকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। হন্তদন্ত হয়ে সেই সহপাঠী ঘুম থেকে উঠে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুরকে মারার চেষ্টা করে। এ সময় মিজানুর ভবনের বাইরে চলে যায়। পরে ওই সহপাঠী ঘণ্টির দণ্ড (লোহার রড) নিয়ে ধাওয়া করে মিজানুরের দিকে ছুড়ে মারে। এতে রডটি মিজানের মাথায় বিদ্ধ হলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার লোহাগাড়ার আমিরাবাদের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মিজানুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ ইছহাক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছিলাম, কোরআনের হাফেজ বানানোর জন্য। কিন্তু তারা আমার ছেলেটাকে হাফেজ না বানিয়ে হত্যা করেছে।’ ছেলে আহত হওয়ার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সেই খবরটি জানায়নি বলেও দাবি করেন মোহাম্মদ ইছহাক।

মাদ্রাসার পরিচালক গোলাম রসুল কমরী প্রথম আলোকে বলেন, মিজান মাথায় আঘাত পেলে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে ওই সময় তাঁর অভিভাবকদের খবর পাঠানো সম্ভব হয়নি।

লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত মিজানুরের এক সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে।