ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা Logo বিশ্বমঞ্চে গণমানুষের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া’র কবিতা রোবটের জয় Logo ৫ কারণে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ Logo শিক্ষা ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের মাধ্যমেই বজায় থাকবে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব: শিক্ষামন্ত্রী Logo নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি Logo সেনা পাহারায় আল-আকসায় ঢুকে পড়ল শত শত ইসরাইলি

অনলাইন ডেস্ক

বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড়ের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম :

বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমাতে বিভিন্ন পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের ফি মওকুফ ও অন্যান্য সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদেরকে এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। কোনো রোগীর পরীক্ষার খরচ ১০ হাজার টাকা হলে তার মধ্যে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গুসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড ফাঁকা রাখতে হবে। শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ রোগী বহন করবে। ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে পরীক্ষায় ছাড় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন ওষুধ প্রয়োগ বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই নড়েচড়ে বসেছে সরকার। হাম রোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগেই মশা নিধনসহ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগাম পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর বিস্তারিত বিশ্লেষণ বা ‘ডেথ রিভিউ’ নিয়মিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়িয়ে সঠিক ও নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় পরিচালক, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হচ্ছে। সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়েও সমন্বয় সভা করা হবে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে পেশাজীবী সংগঠনগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মৌসুমে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালকে তাদের শয্যাসংখ্যা, ডেঙ্গু রোগীর জন্য বরাদ্দ বেড এবং স্যালাইনের মজুতের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে আলাদা বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কীটনাশকের নমুনা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আগামী শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে একযোগে সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া মাইকিং, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
৬৪ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড়ের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমাতে বিভিন্ন পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের ফি মওকুফ ও অন্যান্য সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদেরকে এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। কোনো রোগীর পরীক্ষার খরচ ১০ হাজার টাকা হলে তার মধ্যে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গুসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড ফাঁকা রাখতে হবে। শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ রোগী বহন করবে। ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে পরীক্ষায় ছাড় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন ওষুধ প্রয়োগ বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই নড়েচড়ে বসেছে সরকার। হাম রোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগেই মশা নিধনসহ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগাম পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর বিস্তারিত বিশ্লেষণ বা ‘ডেথ রিভিউ’ নিয়মিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়িয়ে সঠিক ও নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় পরিচালক, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হচ্ছে। সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়েও সমন্বয় সভা করা হবে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে পেশাজীবী সংগঠনগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মৌসুমে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালকে তাদের শয্যাসংখ্যা, ডেঙ্গু রোগীর জন্য বরাদ্দ বেড এবং স্যালাইনের মজুতের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে আলাদা বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কীটনাশকের নমুনা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আগামী শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে একযোগে সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া মাইকিং, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।