ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের পর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান Logo মার্কিন প্রভাব সুসংহত করতে লাতিন আমেরিকা সফর শুরু রুবিওর Logo অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে : রাষ্ট্রপতি Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শান্তর দলে ফেরা : সালাহউদ্দিন Logo রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী Logo অনিয়মের দায়ে পিরোজপুরে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Logo মালয়েশিয়ার বোর্নিও শহরে ধোঁয়াশা, জরুরি অবস্থা

জামালপুরে যমুনা ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দি হাজারও মানুষ

প্রতিনিধির নাম :

দুই সপ্তাহ পানি বন্দির কিছুটা উন্নতির পর গত রবিবার জামালপুরে আবারও বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টা নাগাদ বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ এবং পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, এতে করে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, উপজেলার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তৃর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়ে আবারও হাজারও মানুষ পানি বন্দি পড়েছে।

তারা আরও জানান, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ উচু বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। সঙ্কট দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানন, বন্যা মোকাবেলায় জেলায় এ পর্যন্ত ৭৮৪ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ বরাদ্ধ পেলে চাহিদা অনুযায়ী বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাবে চলতি বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা, ৪৯টি ইউনিয়নের ৩৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৯৩ হাজার ২২৫টি পরিবারের তিন লাখ ৯৮ হাজার ৬২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া ১২৬ কিলোমিটার আংশিক কাঁচা রাস্তা ও ২৪ কিলোমিটার আংশিক পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ৪৫৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ৬ হাজার ৩০৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৫৫টি নলকূপ ও ৩৮১টি ল্যাট্রিন, ৪১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি ব্রিজ কালভার্ট ও তিন কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী।

এদিকে চলতি বন্যায় জেলায় শিশুসহ ১০ জন বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০
১৩ বার পঠিত হয়েছে

জামালপুরে যমুনা ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দি হাজারও মানুষ

আপডেট এর সময় : ১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০

দুই সপ্তাহ পানি বন্দির কিছুটা উন্নতির পর গত রবিবার জামালপুরে আবারও বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টা নাগাদ বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ এবং পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, এতে করে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, উপজেলার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তৃর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়ে আবারও হাজারও মানুষ পানি বন্দি পড়েছে।

তারা আরও জানান, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ উচু বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। সঙ্কট দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানন, বন্যা মোকাবেলায় জেলায় এ পর্যন্ত ৭৮৪ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ বরাদ্ধ পেলে চাহিদা অনুযায়ী বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাবে চলতি বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা, ৪৯টি ইউনিয়নের ৩৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৯৩ হাজার ২২৫টি পরিবারের তিন লাখ ৯৮ হাজার ৬২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া ১২৬ কিলোমিটার আংশিক কাঁচা রাস্তা ও ২৪ কিলোমিটার আংশিক পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ৪৫৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ৬ হাজার ৩০৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৫৫টি নলকূপ ও ৩৮১টি ল্যাট্রিন, ৪১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি ব্রিজ কালভার্ট ও তিন কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী।

এদিকে চলতি বন্যায় জেলায় শিশুসহ ১০ জন বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন।