ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে যমুনা ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দি হাজারও মানুষ

প্রতিনিধির নাম :

দুই সপ্তাহ পানি বন্দির কিছুটা উন্নতির পর গত রবিবার জামালপুরে আবারও বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টা নাগাদ বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ এবং পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, এতে করে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, উপজেলার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তৃর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়ে আবারও হাজারও মানুষ পানি বন্দি পড়েছে।

তারা আরও জানান, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ উচু বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। সঙ্কট দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানন, বন্যা মোকাবেলায় জেলায় এ পর্যন্ত ৭৮৪ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ বরাদ্ধ পেলে চাহিদা অনুযায়ী বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাবে চলতি বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা, ৪৯টি ইউনিয়নের ৩৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৯৩ হাজার ২২৫টি পরিবারের তিন লাখ ৯৮ হাজার ৬২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া ১২৬ কিলোমিটার আংশিক কাঁচা রাস্তা ও ২৪ কিলোমিটার আংশিক পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ৪৫৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ৬ হাজার ৩০৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৫৫টি নলকূপ ও ৩৮১টি ল্যাট্রিন, ৪১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি ব্রিজ কালভার্ট ও তিন কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী।

এদিকে চলতি বন্যায় জেলায় শিশুসহ ১০ জন বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০
৭ বার পঠিত হয়েছে

জামালপুরে যমুনা ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দি হাজারও মানুষ

আপডেট এর সময় : ১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০

দুই সপ্তাহ পানি বন্দির কিছুটা উন্নতির পর গত রবিবার জামালপুরে আবারও বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টা নাগাদ বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ এবং পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, এতে করে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, উপজেলার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তৃর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়ে আবারও হাজারও মানুষ পানি বন্দি পড়েছে।

তারা আরও জানান, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ উচু বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। সঙ্কট দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানন, বন্যা মোকাবেলায় জেলায় এ পর্যন্ত ৭৮৪ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ বরাদ্ধ পেলে চাহিদা অনুযায়ী বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাবে চলতি বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা, ৪৯টি ইউনিয়নের ৩৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৯৩ হাজার ২২৫টি পরিবারের তিন লাখ ৯৮ হাজার ৬২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া ১২৬ কিলোমিটার আংশিক কাঁচা রাস্তা ও ২৪ কিলোমিটার আংশিক পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ৪৫৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ৬ হাজার ৩০৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৫৫টি নলকূপ ও ৩৮১টি ল্যাট্রিন, ৪১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি ব্রিজ কালভার্ট ও তিন কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী।

এদিকে চলতি বন্যায় জেলায় শিশুসহ ১০ জন বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন।