অনলাইন ডেস্ক
ঠাকুরগাঁওয়ে মেধার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেল ২৬ তরুণ-তরুণী

ঠাকুরগাঁওয়ে শতভাগ স্বচ্ছতায় যোগ্যতা ও মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন ২৬ তরুণ-তরুণী। এতে ২ জন তরুণী এবং ৫ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী রয়েছে। চাকরি প্রাপ্তদের পরিবারগুলোতে স্বস্তি ও আনন্দের বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
রোববার রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বাসস’কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে ২৩ মে গভীররাত থেকে ২৪ মে রাত ৯টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও পুলিশ লাইন্সে যথাযথ নিয়োগ কার্যক্রমের ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়।
জেলা পুলিশের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সরাসরি পুলিশ সুপার উপস্থিত থেকে নিয়োগের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে যে কোনো তদবির, দালালী, অসৎ পন্থার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
তিনি ঘোষণা দেন,দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ হবে নিয়োগের কাজ, অন্ধকারের কোনো সুযোগ নেই।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি টিআরসি পদে বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হলে জেলার মোট ২ হাজার ৬শ’ ৫০ জন প্রার্থী আবেদন করে। এরপর শারীরিক সক্ষমতা যাছাইয়ের মধ্যদিয়ে ২৫৮ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। এরমধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ২৫০ জন অংশ নিয়ে ৫০ জন উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ২৬ জন প্রার্থীর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। ৫ জন প্রার্থীর একটা অপেক্ষমান তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেনিং রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ১৬ মে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে ২৪ মে লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়া হয়। উত্তীর্ণদের মৌখিক এবং মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা গ্রহণ এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এসময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হলে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যায়ে এসে নিয়োগ প্রাপ্তদের স্বজনরা এসে যোগ দেন।
পুলিশ সুপার নিয়োগপ্রাপ্ত, তাদের স্বজন, বাদ পড়াদেরসহ সবার সাথে কথা বলার ব্যাপারে সাংবাদিকরা উন্মুক্ত ঘোষণা দেন। সাংবাদিকরাও নানা রকম প্রশ্ন করেন এবং সকল পক্ষই বলেন যে, নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে।
তিন সদস্য বিশিষ্ট এই নিয়োগ কমিটিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন জেলার পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। সদস্য ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), দিনাজপুর সুমন রঞ্জন সরকার এবং পঞ্চগড় দেবিগঞ্জ সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেমুয়াল সাংমা।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বাসস’কে বলেন, শূন্য পদের বিপরীতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রার্থী নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে যোগ্য এবং মেধাবীরা মনোনীত হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। কোনো অনিয়মের সুযোগ ছিল না, এ ব্যাপারে জন সচেতনতা তৈরির জন্যও আমরা বহুবার সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছি। যে কোনো দূর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স অবস্থানে ছিল জেলা পুলিশ।





















