ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo পাকিস্তান দলে যোগ দিচ্ছেন শফিক ও শাকিল Logo স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান Logo যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল Logo ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ’ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী Logo সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী Logo গোমেজের চোটে দুশ্চিন্তায় লিভারপুলের নতুন কোচ ইরাওলা Logo অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২ মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ Logo জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, সুনামি সতর্কতা জারি

প্রতিনিধির নাম :

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার ৭ দশমিক ৮ তীব্রতার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে ও অঞ্চলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার শহর জেনারেল সান্তোসের দক্ষিণে সমুদ্রগর্ভস্থ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর, ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে,  ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকে একের পর এক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, জেনারেল সান্তোস শহরের একটি শপিং সেন্টার সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় একটি স্কুল ভবন ধসে পড়েছে।

যদিও  কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ভবনটি তখন খালি ছিল।

দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন মিন্ডানাও দ্বীপের সোকসারগেন অঞ্চলের বাসিন্দা। এছাড়া দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে এই হিসাবের বাইরে জেনারেল সান্তোসের কাছের আলাবেল এলাকায় দেয়াল ধসে চাপা পড়ে আরও দুই জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পুলিশ।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস ক্ষতিগ্রস্ত মিন্দানাও অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এখনই উঁচু স্থানে চলে যান। অপেক্ষা করবেন না। আপনার জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই।’

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কিয়াম্বায় প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা ইতোমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে সরে গেছেন।

আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান আগ্রিপিনো দাসেরা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ উঁচু স্থানে চলে গেছে।’

তিনি আরও জানান, উপকূলবর্তী সব বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত, জেনারেল সান্তোস বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোমবারের ভূমিকম্পের কারণে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জাকার্তার আবহাওয়া সংস্থা সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান ও পাপুয়া নিউগিনির উপকূলে সুনামি ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। তবে এবারের ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত অক্টোবরেও পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চলে ৭.৪ ও ৬.৭ তীব্রতার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হন।

সরকারি তথ্যমতে, এর কয়েকদিন আগেই ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় সেবু প্রদেশে ৬.৯ তীব্রতার আরেকটি ভূমিকম্পে ৭৬ জন নিহত হন এবং প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
৫২ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, সুনামি সতর্কতা জারি

আপডেট এর সময় : ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার ৭ দশমিক ৮ তীব্রতার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে ও অঞ্চলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার শহর জেনারেল সান্তোসের দক্ষিণে সমুদ্রগর্ভস্থ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর, ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে,  ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকে একের পর এক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, জেনারেল সান্তোস শহরের একটি শপিং সেন্টার সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় একটি স্কুল ভবন ধসে পড়েছে।

যদিও  কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ভবনটি তখন খালি ছিল।

দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন মিন্ডানাও দ্বীপের সোকসারগেন অঞ্চলের বাসিন্দা। এছাড়া দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে এই হিসাবের বাইরে জেনারেল সান্তোসের কাছের আলাবেল এলাকায় দেয়াল ধসে চাপা পড়ে আরও দুই জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পুলিশ।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস ক্ষতিগ্রস্ত মিন্দানাও অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এখনই উঁচু স্থানে চলে যান। অপেক্ষা করবেন না। আপনার জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই।’

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কিয়াম্বায় প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা ইতোমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে সরে গেছেন।

আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান আগ্রিপিনো দাসেরা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ উঁচু স্থানে চলে গেছে।’

তিনি আরও জানান, উপকূলবর্তী সব বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত, জেনারেল সান্তোস বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোমবারের ভূমিকম্পের কারণে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জাকার্তার আবহাওয়া সংস্থা সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান ও পাপুয়া নিউগিনির উপকূলে সুনামি ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। তবে এবারের ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত অক্টোবরেও পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চলে ৭.৪ ও ৬.৭ তীব্রতার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হন।

সরকারি তথ্যমতে, এর কয়েকদিন আগেই ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় সেবু প্রদেশে ৬.৯ তীব্রতার আরেকটি ভূমিকম্পে ৭৬ জন নিহত হন এবং প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।