ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গোমেজের চোটে দুশ্চিন্তায় লিভারপুলের নতুন কোচ ইরাওলা Logo অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২ মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ Logo জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী/// Logo টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া Logo টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে Logo ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২ মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম :

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সপ্তাহজুড়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হওয়ার পর রোববার রাতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা দু’টি মসজিদে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি অঞ্চলের কুসরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

নাবলুস শহরের দক্ষিণে কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি এএফপি-কে বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, আগুনে মসজিদের প্রবেশদ্বার পুড়ে গেছে। এমনকি পাথরের নির্মাণকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াদি আরো জানান, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগানও লিখে গেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে কুসরার উপকণ্ঠে সেনা পাঠানো হয়।

বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যায়। সেখানে অগ্নিসংযোগ এবং দেয়ালে লেখা স্লোগানের প্রমাণ মিলেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলি পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করবে ও আলামত সংগ্রহ করবে।

অভিযোগ রয়েছে, পৃথক আরেকটি ঘটনায় তুলকারেমের কাছে কুর গ্রামে একটি মসজিদে আগুন দেয় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। একই সঙ্গে তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লিখে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ওয়াক্ফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘একদল বসতি স্থাপনকারী তুলকারেম গভর্নরেটের কুর গ্রামের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং এর দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখেছে।’

গত শুক্রবার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহত হয়।

এরপর ইসরাইলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায়। তারা পশ্চিম তীরে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতারের তথ্য জানায়।

গত শনিবার নাবলুস শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় থমকে যায়।

এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে যোদ্ধাসহ অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। একই এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ ৫ লক্ষাধিক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীও বসবাস করছেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ৪৪ মিনিট আগে
১০ বার পঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২ মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট এর সময় : ৪৪ মিনিট আগে

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সপ্তাহজুড়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হওয়ার পর রোববার রাতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা দু’টি মসজিদে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি অঞ্চলের কুসরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

নাবলুস শহরের দক্ষিণে কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি এএফপি-কে বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, আগুনে মসজিদের প্রবেশদ্বার পুড়ে গেছে। এমনকি পাথরের নির্মাণকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াদি আরো জানান, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগানও লিখে গেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে কুসরার উপকণ্ঠে সেনা পাঠানো হয়।

বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যায়। সেখানে অগ্নিসংযোগ এবং দেয়ালে লেখা স্লোগানের প্রমাণ মিলেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলি পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করবে ও আলামত সংগ্রহ করবে।

অভিযোগ রয়েছে, পৃথক আরেকটি ঘটনায় তুলকারেমের কাছে কুর গ্রামে একটি মসজিদে আগুন দেয় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। একই সঙ্গে তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লিখে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ওয়াক্ফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘একদল বসতি স্থাপনকারী তুলকারেম গভর্নরেটের কুর গ্রামের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং এর দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখেছে।’

গত শুক্রবার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহত হয়।

এরপর ইসরাইলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায়। তারা পশ্চিম তীরে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতারের তথ্য জানায়।

গত শনিবার নাবলুস শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় থমকে যায়।

এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে যোদ্ধাসহ অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। একই এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ ৫ লক্ষাধিক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীও বসবাস করছেন।