ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী Logo বিভিন্ন খাতে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ইমরান সমর্থকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসন Logo উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রণয়ন হচ্ছে জাতীয় বন্দর কৌশল: নৌপরিবহনমন্ত্রী Logo জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশন বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ Logo কুমিল্লা-৬ আসনের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় Logo ফেনীতে পৃথক অভিযানে ৩৯ কেজি গাঁজা, ইয়াবা ও ইস্কাপসহ আটক ৪ Logo নোবেল রসায়নে স্বীকৃতি পেল ওষুধ তৈরির যুগান্তকারী ‘কাইরাল’ গবেষণা Logo সড়কে নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি বন্ধে নতুন ফেডারেশন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক

অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে বেসরকারি ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম :

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করার প্রবণতায় লাগাম টানতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ডেলিভারি রুম স্থাপন করতে হবে। না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণি অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন , একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো  নরমাল ডেলিভারি মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’- এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো এই ফাঁদে পা দেয়।

তিনি বলেন, কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও দালালচক্র গর্ভবতী নারীদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজারিয়ান করাতে উদ্বুদ্ধ করছে। এই অবস্থা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী  জানান,  কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজারই নারী এবং তাদের অধিকাংশই মিডওয়াইফারি কর্মী হবেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
৫২ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে বেসরকারি ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করার প্রবণতায় লাগাম টানতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ডেলিভারি রুম স্থাপন করতে হবে। না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণি অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন , একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো  নরমাল ডেলিভারি মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’- এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো এই ফাঁদে পা দেয়।

তিনি বলেন, কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও দালালচক্র গর্ভবতী নারীদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজারিয়ান করাতে উদ্বুদ্ধ করছে। এই অবস্থা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী  জানান,  কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজারই নারী এবং তাদের অধিকাংশই মিডওয়াইফারি কর্মী হবেন।