ইমরান সমর্থকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসন
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার পর রোববার পাকিস্তানের পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি শাসন জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসলামাবাদ, থেকে এএফপি জানায়, দইমরান খানের হাজারো সমর্থক খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে মিছিল করছেন। তারা তার মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন এবং কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারবিরোধী সমালোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।
নিরাপত্তাসংক্রান্ত পাকিস্তানের সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় জারি করা জরুরি ব্যবস্থায় প্রদেশটির ওপর কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যাপক প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারি প্রতিনিধিদলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে’ সুপারিশ পাওয়ার পর এ আদেশে স্বাক্ষর করেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে।
জারদারির দপ্তর প্রকাশিত একটি ছবিতে এ ব্যবস্থা অনুমোদন করে তার স্বাক্ষরের দৃশ্য দেখা গেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দপ্তর জানায়, ‘খাইবার পাখতুনখোয়ায় অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃত উদাসীনতার’ কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত ঘাঁটি। রোববারের অসাধারণ সাংবিধানিক ব্যবস্থার ফলে সেখানে পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার কার্যত ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর আলী খান এ পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুতর রাজনৈতিক ভুল এবং একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মানুষ তাদের অধিকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেবে না।’
এএফপির এক প্রতিবেদক জানান, রোববার প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে দেখা গেছে। প্রদেশটির অন্যান্য শহরের সড়কও বন্ধ ছিল।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এক সপ্তাহ আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদের মধ্যে ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেন পিটিআই সমর্থকেরা।
আলোচনায় অচলাবস্থা
একসময় ব্যাপক জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। ওই বছরের মে মাসে সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দাঙ্গার পর দুর্নীতি থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়া পর্যন্ত নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা রয়েছে।
ইমরান খান ও তার আইনজীবীরা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, তার জনপ্রিয়তা খর্ব করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে এসব মামলা করা হয়েছে।
বিরোধীদের শক্তি প্রদর্শনমূলক কর্মসূচি এড়াতে সরকার চেষ্টা করেছিল। তবে পিটিআইয়ের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে দলটির শাসনাধীন খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সমঝোতাকে শর্ত হিসেবে যুক্ত করেছিল সরকার।
বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে ছিল, ইমরান খানকে তার চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। ৪ অক্টোবর আলোচনা ভেঙে পড়ার পরই বিক্ষোভ শুরু হয়।
এদিকে নিরাপত্তার আরেকটি চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া সশস্ত্র তৎপরতার কারণে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান প্রদেশে হামলা বেড়েছে।
কাবুলের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য পাকিস্তানের সমালোচনা করেছে।
এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও সশস্ত্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। মার্চে যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী নিরাপত্তা সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে।




















