ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া Logo টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে Logo ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কাজ করবে পিকেএসএফ

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। পিকেএসএফ-এর প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন-১-এ অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছায় রক্তদান ও থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

পিকেএসএফ এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতাল যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. এ কে এম একরামুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

জাকির আহমেদ খান বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। রোগটির ভয়াবহতা ও চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়ের কথা বিবেচনা করে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, বর্তমানে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাগুলো দেশের প্রায় সোয়া ২ কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য ও আর্থিক সুরক্ষাসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এই বিস্তৃত কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা, বাহক শনাক্তকরণ এবং আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে ড. এ কে এম একরামুল হোসেন বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এ রোগের বাহক। এ প্রেক্ষাপটে সমাজে এ রোগ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য বংশগত রক্তের রোগ। স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে সন্তানের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে একজন বাহক এবং অন্যজন সুস্থ হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই বিয়ের আগে হবু বর বা কনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না, তা জানা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিবাহ নিবন্ধনের সময় থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব দেন বক্তারা।

সাইপ্রাস, ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশে থ্যালাসেমিয়া বাহকদের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত করা এবং বাধ্যতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এরপর, পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও উৎসাহ প্রদান করেন।

পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
৯ বার পঠিত হয়েছে

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কাজ করবে পিকেএসএফ

আপডেট এর সময় : ০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। পিকেএসএফ-এর প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন-১-এ অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছায় রক্তদান ও থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

পিকেএসএফ এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতাল যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. এ কে এম একরামুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

জাকির আহমেদ খান বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। রোগটির ভয়াবহতা ও চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়ের কথা বিবেচনা করে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, বর্তমানে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাগুলো দেশের প্রায় সোয়া ২ কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য ও আর্থিক সুরক্ষাসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এই বিস্তৃত কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা, বাহক শনাক্তকরণ এবং আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে ড. এ কে এম একরামুল হোসেন বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এ রোগের বাহক। এ প্রেক্ষাপটে সমাজে এ রোগ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য বংশগত রক্তের রোগ। স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে সন্তানের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে একজন বাহক এবং অন্যজন সুস্থ হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই বিয়ের আগে হবু বর বা কনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না, তা জানা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিবাহ নিবন্ধনের সময় থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব দেন বক্তারা।

সাইপ্রাস, ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশে থ্যালাসেমিয়া বাহকদের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত করা এবং বাধ্যতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এরপর, পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও উৎসাহ প্রদান করেন।

পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।