ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo দিনাজপুরে কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে : সিইসি Logo মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির Logo দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo পাকিস্তান দলে যোগ দিচ্ছেন শফিক ও শাকিল Logo স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান Logo যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

বাবা-চাচাই নির্মমভাবে হত্যা করে গাছে ঝোলায় তুহিনকে

প্রতিনিধির নাম :

দিরাইয়ে শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে খুনের নেপথ্যে ছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, আর এর পেছনের নাটের গুরু ছিলেন তুহিনের চাচা আবদুল মুছাব্বির মোল্লা- এমনটাই মনে করছেন কেজাউড়া গ্রামের আপামর মানুষ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনের স্বজনরাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন- এই তথ্য শোনার পর তারা কিছুটা অবাক হলেও মুছাব্বির মোল্লার অতীত কর্মকান্ডের কারণে এমনটা তার পক্ষে করা সম্ভব বলে জানান প্রতিবেশীরা। এক সময়ের শান্তিপ্রিয় কেজাউড়া গ্রামটি অশান্ত হয়ে ওঠে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর অন্তর্দ্বন্দ্বে। এক পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং অপর পক্ষে মাওলানা আবদুল মুছাব্বির। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন। ২০০১ সালে কৃষক মুজিব ও ২০১৫ সালে খুন হন গৃহবধূ নিলুফা। দুটি খুনের ঘটনায়ই বিবদমান দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে নিলুফার খুন হলে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ আসে মুছাব্বির পক্ষের। ওই ঘটনায় আনোয়ার মেম্বার পক্ষের ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পুরুষশূন্য ঘরবাড়িতে লুটপাট করেন মুছাব্বির মোল্লার লোকজন। তুহিন খুনের ঘটনার পরদিন মুজিব হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তুহিনের বাবা আবদুল বাছিরের। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তুহিন খুনের নৃশংস ঘটনায় তার বাবা, তিন চাচা ও চাচাতো ভাই জড়িত ছিল। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ঠান্ডা মাথায় বাবা-চাচারা মিলে খুন করে ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে। ঘুমন্ত শিশুটিকে বাবা আবদুল বাছির কোলে করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। বাবার কোলেই ঘুমন্ত শিশু তুহিনকে জবাই করে চাচা নাসির উদ্দিন।

ছেলের নৃশংস খুনের পর বাকরুদ্ধ তুহিনের মা মনিরা বেগম এখন বাবার বাড়িতে শয্যাশায়ী। দুই শিশুপুত্র মাহিন, ফাহিম এবং ১৫ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে অন্ধকার ভবিষ্যতের প্রহর গুনছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। সোমবার সকালে এ ঘটনায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা করেন তুহিনের মা মনিরা বেগম। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা আবদুল মুছাব্বির, নাসির উদ্দিন, জমসের আলী ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে। আটক তুহিনের এক চাচি ও চাচাতো বোনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তুহিনের চাচা নাসির ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। বাবা আবদুল বাছির, চাচা মুছাব্বির আলী ও জমসের আলীকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
১৫ বার পঠিত হয়েছে

বাবা-চাচাই নির্মমভাবে হত্যা করে গাছে ঝোলায় তুহিনকে

আপডেট এর সময় : ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

দিরাইয়ে শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে খুনের নেপথ্যে ছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, আর এর পেছনের নাটের গুরু ছিলেন তুহিনের চাচা আবদুল মুছাব্বির মোল্লা- এমনটাই মনে করছেন কেজাউড়া গ্রামের আপামর মানুষ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনের স্বজনরাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন- এই তথ্য শোনার পর তারা কিছুটা অবাক হলেও মুছাব্বির মোল্লার অতীত কর্মকান্ডের কারণে এমনটা তার পক্ষে করা সম্ভব বলে জানান প্রতিবেশীরা। এক সময়ের শান্তিপ্রিয় কেজাউড়া গ্রামটি অশান্ত হয়ে ওঠে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর অন্তর্দ্বন্দ্বে। এক পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং অপর পক্ষে মাওলানা আবদুল মুছাব্বির। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন। ২০০১ সালে কৃষক মুজিব ও ২০১৫ সালে খুন হন গৃহবধূ নিলুফা। দুটি খুনের ঘটনায়ই বিবদমান দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে নিলুফার খুন হলে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ আসে মুছাব্বির পক্ষের। ওই ঘটনায় আনোয়ার মেম্বার পক্ষের ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পুরুষশূন্য ঘরবাড়িতে লুটপাট করেন মুছাব্বির মোল্লার লোকজন। তুহিন খুনের ঘটনার পরদিন মুজিব হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তুহিনের বাবা আবদুল বাছিরের। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তুহিন খুনের নৃশংস ঘটনায় তার বাবা, তিন চাচা ও চাচাতো ভাই জড়িত ছিল। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ঠান্ডা মাথায় বাবা-চাচারা মিলে খুন করে ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে। ঘুমন্ত শিশুটিকে বাবা আবদুল বাছির কোলে করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। বাবার কোলেই ঘুমন্ত শিশু তুহিনকে জবাই করে চাচা নাসির উদ্দিন।

ছেলের নৃশংস খুনের পর বাকরুদ্ধ তুহিনের মা মনিরা বেগম এখন বাবার বাড়িতে শয্যাশায়ী। দুই শিশুপুত্র মাহিন, ফাহিম এবং ১৫ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে অন্ধকার ভবিষ্যতের প্রহর গুনছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। সোমবার সকালে এ ঘটনায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা করেন তুহিনের মা মনিরা বেগম। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা আবদুল মুছাব্বির, নাসির উদ্দিন, জমসের আলী ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে। আটক তুহিনের এক চাচি ও চাচাতো বোনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তুহিনের চাচা নাসির ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। বাবা আবদুল বাছির, চাচা মুছাব্বির আলী ও জমসের আলীকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।