
সারা দেশে গতকাল শনিবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কক্ষসংকটের কারণে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের মাঠে শামিয়ানা টানিয়ে ১২০ জনের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এতে গরম ও ধুলাবালুতে পরীক্ষার্থীদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ৩টি কেন্দ্রে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) ও ১১টিতে জেএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় জেএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬৫৩। জেডিসি পরীক্ষার্থী ১ হাজার ২৫১ জন। ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে সদর উপজেলার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৩। এখানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে শামিয়ানা টানিয়ে ১২০ জনের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব সালেহা খাতুন বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে শামিয়ানা টানিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত আছি। কেন্দ্রের আওতায় আলাদা ভেন্যুতে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় প্যান্ডেলের নিচে পরীক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
গতকাল ছিল বাংলা পরীক্ষা। এদিন সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের আমগাছের নিচে শামিয়ানা টানানো হয়েছে। এর ভেতর বেঞ্চ পেতে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, রাতের কুয়াশায় শামিয়ানা ও বেঞ্চ ভেজা ছিল। পরীক্ষা শুরুর সময় বেঞ্চে খাতা রাখায় তা ভেজা ভেজা হয়ে গেছে। বাতাসে ধুলা উড়ে খাতার ওপর পড়ে। গরমে অনেকের শরীর ভিজে গেছে। এ কারণে মনোযোগে সমস্যা হয়েছে।
জলপাইতলা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈশিতা রায় বলে, ‘পরীক্ষা দিতে এসে যখন দেখি শামিয়ানার নিচে পরীক্ষা দিতে হবে, তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। উপায় না দেখে পরীক্ষা দিতে বসি।’
কেন্দ্র পরিদর্শনে যান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, কেন্দ্রে আসনের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় জায়গার সংকুলান হচ্ছিল না। শিক্ষা বোর্ডের একটা নির্দেশনা রয়েছে, কক্ষের সংকুলান না হলে অস্থায়ী ছাউনি নির্মাণ করে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। এ কারণেই এখানে প্যান্ডেল করে পরীক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মো. আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, প্যান্ডেলের নিচে পরীক্ষা দিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে না।’