ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানগণের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ Logo গিনিতে ভয়াবহ ময়লার ভাগাড় ধসের পর ক্ষোভ ও হতাশা Logo ময়মনসিংহে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা Logo স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: মিল্লাত Logo ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান

শিল্পপার্ক করতে চায় জাপানের সজিত

প্রতিনিধির নাম :

জাপানের সজিত করপোরেশন প্রায় ১৪ বছর পরে বাংলাদেশে ফিরেছে। ঢাকায় কোম্পানিটি একটি কার্যালয় খুলেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায় তারা। তাদের বিশেষ আগ্রহ মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা করা।

সজিত করপোরেশন জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। এটি বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিশ্বের শীর্ষ দুই হাজার কোম্পানির তালিকার একটি। সজিত করপোরেশনের অটোমোবাইল, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, রাসায়নিক, খাদ্য, কৃষি, বনজ সম্পদ, ভোগ্য, শিল্পপার্কসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা আছে।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে। তাদের একটি সজিত করপোরেশন। কোম্পানিটি গত ১ জুন তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার খবর দেয়। এতে বলা হয়, তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবদান রাখতে চায়। পাশাপাশি জ্বালানি ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য আছে তাদের।

সজিত করপোরেশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। এটি মূলত নিশো আইওয়াই করপোরেশন ও নিচিমেন করপোরেশনের একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত হয়। ২০১৬ সালের হিসাবে বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ৩ হাজার ৬১৯ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। জানা গেছে, সজিত করপোরেশন ২০০৪ সালের দিকে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এখন এ দেশে ব্যবসার সম্ভাবনা দেখে আবার ফিরেছে। ঢাকায় তাদের কার্যালয়টি ৮ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়।

জমি চায় সজিত
এদিকে সজিত করপোরেশন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য ১ হাজার একর জমি চেয়েছে। বেজা সূত্র জানায়, এই প্রকল্পে তাদের বাংলাদেশি অংশীদার হবে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক আবেদন করেছে। পরে চূড়ান্ত আবেদন করবে। তাদের সঙ্গে বেজার আলোচনা চলছে।’
সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। এটির আকার হবে প্রায় ৩০ হাজার একর। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারত প্রায় ১ হাজার একর জমি নিচ্ছে। পাশাপাশি চীনের কুনমিং স্টিলও সেখানে ১ হাজার একর জমি চেয়েছে।

জাপানিদের আগ্রহ
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহ দেখছেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, সম্প্রতি বেশ কিছু জাপানি কোম্পানি এ দেশে ব্যবসা করার জন্য অংশীদার খোঁজা, সমীক্ষা ও অন্যান্য কাজ শুরু করেছে। জাপান টোব্যাকো সম্প্রতি আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে। হোন্ডা মোটর করপোরেশন আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনে কারখানা করছে। মিতসুবিশি করপোরেশন সামিটের একটি ২৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে অংশীদার হয়েছে।

জানতে চাইলে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) জেনারেল সেক্রেটারি তারেক রাফি ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীদের এত আগ্রহ আমি আগে দেখিনি। আগামী কয়েক বছরে এ দেশে কর্মরত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে আশা করা যায়।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৮
১৮ বার পঠিত হয়েছে

শিল্পপার্ক করতে চায় জাপানের সজিত

আপডেট এর সময় : ০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৮

জাপানের সজিত করপোরেশন প্রায় ১৪ বছর পরে বাংলাদেশে ফিরেছে। ঢাকায় কোম্পানিটি একটি কার্যালয় খুলেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায় তারা। তাদের বিশেষ আগ্রহ মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা করা।

সজিত করপোরেশন জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। এটি বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিশ্বের শীর্ষ দুই হাজার কোম্পানির তালিকার একটি। সজিত করপোরেশনের অটোমোবাইল, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, রাসায়নিক, খাদ্য, কৃষি, বনজ সম্পদ, ভোগ্য, শিল্পপার্কসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা আছে।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে। তাদের একটি সজিত করপোরেশন। কোম্পানিটি গত ১ জুন তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার খবর দেয়। এতে বলা হয়, তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবদান রাখতে চায়। পাশাপাশি জ্বালানি ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য আছে তাদের।

সজিত করপোরেশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। এটি মূলত নিশো আইওয়াই করপোরেশন ও নিচিমেন করপোরেশনের একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত হয়। ২০১৬ সালের হিসাবে বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ৩ হাজার ৬১৯ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। জানা গেছে, সজিত করপোরেশন ২০০৪ সালের দিকে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এখন এ দেশে ব্যবসার সম্ভাবনা দেখে আবার ফিরেছে। ঢাকায় তাদের কার্যালয়টি ৮ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়।

জমি চায় সজিত
এদিকে সজিত করপোরেশন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য ১ হাজার একর জমি চেয়েছে। বেজা সূত্র জানায়, এই প্রকল্পে তাদের বাংলাদেশি অংশীদার হবে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক আবেদন করেছে। পরে চূড়ান্ত আবেদন করবে। তাদের সঙ্গে বেজার আলোচনা চলছে।’
সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। এটির আকার হবে প্রায় ৩০ হাজার একর। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারত প্রায় ১ হাজার একর জমি নিচ্ছে। পাশাপাশি চীনের কুনমিং স্টিলও সেখানে ১ হাজার একর জমি চেয়েছে।

জাপানিদের আগ্রহ
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহ দেখছেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, সম্প্রতি বেশ কিছু জাপানি কোম্পানি এ দেশে ব্যবসা করার জন্য অংশীদার খোঁজা, সমীক্ষা ও অন্যান্য কাজ শুরু করেছে। জাপান টোব্যাকো সম্প্রতি আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে। হোন্ডা মোটর করপোরেশন আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনে কারখানা করছে। মিতসুবিশি করপোরেশন সামিটের একটি ২৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে অংশীদার হয়েছে।

জানতে চাইলে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) জেনারেল সেক্রেটারি তারেক রাফি ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীদের এত আগ্রহ আমি আগে দেখিনি। আগামী কয়েক বছরে এ দেশে কর্মরত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে আশা করা যায়।’