ঢাকা , শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতির বাচ্চা উদ্ধার করে আলোচিত বনরক্ষী

প্রতিনিধির নাম :

ভারতের এক বনরক্ষী জঙ্গলের মধ্যে গর্তে পড়ে যাওয়া একটি হাতির বাচ্চাকে উদ্ধার করে সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। খবর বিবিসির।

তামিল নাড়ু রাজ্যের মেট্টুপালায়মের কাছে গত ১২ই ডিসেম্বর এক জঙ্গলে এ ঘটনা ঘটে ।পালানিসামি শরৎকুমার নামে ২৮ বছরের এই বনরক্ষী রাতের ডিউটি সেরে বাড়ি যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন।

তখন তিনি একটা টেলিফোন পান যে বাণভদ্র কালিয়াম্মান মন্দিরের কাছে একটি মাদী হাতি রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে।

পটকা ফাটিয়ে হাতিটিকে তাড়িয়ে জঙ্গলে ভেতর নিয়ে যাওয়ার সময় একটি গর্তের মধ্যে একটি বাচ্চা হাতি পালানিসামি এবং তার সঙ্গীদের নজরে পড়ে।

তখন তারা বুঝতে পারেন যে বাচ্চা হাতিটি আসলে রাস্তা-আটকানো হাতিটিরই বাচ্চা এবং সে খাদে পড়ে যাওয়াতেই মা-হাতিটি এমন আচরণ করছিল।

এ সময় হাতির বাচ্চাটি ছিল ক্লান্ত এবং বিভ্রান্ত। কয়েকটা বড় পাথর সরিয়ে শরৎকুমারসহ চারজনে মিলে সেটাকে বের করে আনেন।

শরৎকুমার এর পর ১০০ কেজিরও বেশি ওজনের বাচ্চা হাতিটিকে একাই প্রায় ৫০ মিটার দূর পর্যন্ত বহন করে নিয়ে গেলেন এবং রাস্তার ওপারে একটি ছোট ডোবার কাছে সেটিকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন সকালে তারা দেখলেন, বাচ্চা হাতিটি সেখানে নেই, তবে সেখানে বড় আকারের হাতির পায়ের ছাপ রয়েছে। সম্ভবত পরে কোন একসময় মা-হাতিটি এসে বাচ্চাটিকে নিয়ে গেছে।

বন কর্মকর্তারা জানান, শরৎকুমার উদ্ধার না করলে বাচ্চা হাতিটি বাঁচতো না। তার হাতি-উদ্ধারের ভিডিও টিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে তার প্রশংসা করেছেন অসংখ্য লোক । তিনি ১০০ কেজি ওজনের হাতিটি তুললেন কি করে? শরৎকুমারকে তার গ্রামের অনেকেই এ প্রশ্ন করেছেন।

শরৎকুমার নিজে ৬ ফুট লম্বা এবং তার ওজন ৮০ কেজি। তিনি বলছিলেন, হাতিটি বাচ্চা হলেও ভীষন ভারী ছিল, আমার সবসময়ই ভয় হচ্ছিল এই বুঝি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলাম। আমার সঙ্গীরা অবশ্য পাশেই থেকে সহায়তা করেছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭
১৭ বার পঠিত হয়েছে

হাতির বাচ্চা উদ্ধার করে আলোচিত বনরক্ষী

আপডেট এর সময় : ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

ভারতের এক বনরক্ষী জঙ্গলের মধ্যে গর্তে পড়ে যাওয়া একটি হাতির বাচ্চাকে উদ্ধার করে সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। খবর বিবিসির।

তামিল নাড়ু রাজ্যের মেট্টুপালায়মের কাছে গত ১২ই ডিসেম্বর এক জঙ্গলে এ ঘটনা ঘটে ।পালানিসামি শরৎকুমার নামে ২৮ বছরের এই বনরক্ষী রাতের ডিউটি সেরে বাড়ি যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন।

তখন তিনি একটা টেলিফোন পান যে বাণভদ্র কালিয়াম্মান মন্দিরের কাছে একটি মাদী হাতি রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে।

পটকা ফাটিয়ে হাতিটিকে তাড়িয়ে জঙ্গলে ভেতর নিয়ে যাওয়ার সময় একটি গর্তের মধ্যে একটি বাচ্চা হাতি পালানিসামি এবং তার সঙ্গীদের নজরে পড়ে।

তখন তারা বুঝতে পারেন যে বাচ্চা হাতিটি আসলে রাস্তা-আটকানো হাতিটিরই বাচ্চা এবং সে খাদে পড়ে যাওয়াতেই মা-হাতিটি এমন আচরণ করছিল।

এ সময় হাতির বাচ্চাটি ছিল ক্লান্ত এবং বিভ্রান্ত। কয়েকটা বড় পাথর সরিয়ে শরৎকুমারসহ চারজনে মিলে সেটাকে বের করে আনেন।

শরৎকুমার এর পর ১০০ কেজিরও বেশি ওজনের বাচ্চা হাতিটিকে একাই প্রায় ৫০ মিটার দূর পর্যন্ত বহন করে নিয়ে গেলেন এবং রাস্তার ওপারে একটি ছোট ডোবার কাছে সেটিকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন সকালে তারা দেখলেন, বাচ্চা হাতিটি সেখানে নেই, তবে সেখানে বড় আকারের হাতির পায়ের ছাপ রয়েছে। সম্ভবত পরে কোন একসময় মা-হাতিটি এসে বাচ্চাটিকে নিয়ে গেছে।

বন কর্মকর্তারা জানান, শরৎকুমার উদ্ধার না করলে বাচ্চা হাতিটি বাঁচতো না। তার হাতি-উদ্ধারের ভিডিও টিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে তার প্রশংসা করেছেন অসংখ্য লোক । তিনি ১০০ কেজি ওজনের হাতিটি তুললেন কি করে? শরৎকুমারকে তার গ্রামের অনেকেই এ প্রশ্ন করেছেন।

শরৎকুমার নিজে ৬ ফুট লম্বা এবং তার ওজন ৮০ কেজি। তিনি বলছিলেন, হাতিটি বাচ্চা হলেও ভীষন ভারী ছিল, আমার সবসময়ই ভয় হচ্ছিল এই বুঝি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলাম। আমার সঙ্গীরা অবশ্য পাশেই থেকে সহায়তা করেছে।