
গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটের সমালোচনা করেছেন তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি বার্নিকাটের।
রবিবার সচিবালয়ে ঢাকায় সফররত যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী (এশিয়া প্যাসিফিক ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস) মার্ক ফিল্ডের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বার্নিকাট বলেন, গাজীপুর নির্বাচনে ভালো চিত্রের পাশাপাশি খারাপ চিত্রও ছিল। ভোট নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খুলনার পর গাজীপুরে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠায় তার দেশ উদ্বিগ্ন।
তোফায়েল বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলাটা সমীচীন হয়নি। কারণ পৃথিবীর সব দেশেই, পশ্চিম বাংলায়, ভারতে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন নিয়ে কিন্তু এখনও বিতর্ক চলছে। কিন্তু আমাদের এই নির্বাচনগুলো নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি।’
‘একটা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আরেকটা দেশের রাষ্ট্রদূতের কথা বলা সমীচীন নয়। এটা দৃষ্টিকটু হয়েছে বলে মনে করি।’
বার্নিকাটের মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবে কি না- জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিল ক্লিনটন বিএনপির এক কর্মীর কাছে বলেছেন- ওয়ার্ল্ড পলিটিকস ইজ নাউ ডিফিকাল্ট। কাজেই একটা দেশের রাষ্ট্রদূত কী বলল, সেটা নিয়ে দেশ চলে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন দৃঢ়চেতা নেতা। তার অধীনে আগামী নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে।’
খুলনা ও গাজীপুরের ভোট মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে দাবি করে তোফায়েল বলেন, ‘গাজীপুরে নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্য হয়েছে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৭ শতাংশ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজারের মতো ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী পেয়েছে ২ লাখের মতো ভোট। ভোটের রেশিও দেখলেই বুঝা যায় যে নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।’
‘গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কিন্তু তত বেশি কোনো বাস্তবসম্মত কথা বলার সুযোগ পায়নি। তাদের যে নেতা লন্ডনে থাকেন তিনিই তো বলেছেন, তাদের এজেন্ট ছিল না। আমাদের দল টাকা দিয়ে তাদের এজেন্ট…যে দলের এজেন্ট টাকা খেয়ে সরে যায়, সেটা কোনো দল হলো? তাদের এজেন্টদের আমাদের দলের লোক টাকা দিতে যাবেই বা কেন?’
আগামী তিনটি সিটি নির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।
‘ব্রিটিশ মন্ত্রীও বলে গেলেন, দুই বার যদি তারা নির্বাচন না করে তাদের তো নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন থাকবে না। আরেকটি নির্বাচন না করলে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেই আমি মনে করি।’
‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করছে। বিএনপিরও নির্বাচন নিয়ে কাজ করা উচিত, মানুষের কাছে যাওয়া উচিত।’