ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

প্রতিনিধির নাম :

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর কাদা ও পাথরের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে মঙ্গলবারও হিমশিম খাচ্ছিলেন উদ্ধারকারীরা। এক প্রদেশজুড়ে তাণ্ডব চালানো এ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় জানায়, সোমবারের আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৩ জন বলে জানানো হয়েছে।

আফগানিস্তানের পারুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এএফপি’র এক সাংবাদিক দেখেছেন, নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী প্রত্যন্ত পারুনে কয়েক ডজন মানুষ কাঠের খুঁটি ও খালি হাতে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
৩৪ বছর বয়সী ওষুধ বিক্রেতা ফরিদ গুল জাহির বলেন, ‘আমি জীবনে এত ভয়ংকর বন্যা কখনও দেখিনি।’

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। চারদিকে শিশু ও মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।’ পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি আহত হন।
মঙ্গলবার পারুনে ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটি বুলডোজার ব্যবহার করা হলেও, তাতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। বন্যায় বহু দোকান কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

বিশাল বড় পাথর গড়িয়ে এসে ভবনগুলোতেও আঘাত হেনেছে।

গভর্নরের কার্যালয় সোমবার জানায়, পারুনের মেয়র ও সরকারের আরও কয়েকজন কর্মচারী নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন।

স্পোগমাই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকিরুল্লাহ জাকি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমাদের ওপর যেন খোদার গজব নেমে এসেছে।’

২৯ বছর বয়সী জাকি এএফপিকে বলেন, ‘অন্য সব হোটেল, বাজার ও দোকানপাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান জুমা খান নাইয়েল পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, পানির উচ্চতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

তিনি জানান, সংস্থার কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবক কোদাল ও খালি হাতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আমরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে তাদের জন্য তাঁবু সরবরাহ করছি।’

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।

বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে প্রতিবেশী পাকিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।

দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সেখানে বন্যার দুর্যোগ বাড়ছে।

চলতি মাসে মাওলভি মতি-উল-হক খালিস বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো ‘আফগান জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে।’

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ৪ ঘন্টা আগে
২২ বার পঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

আপডেট এর সময় : ৪ ঘন্টা আগে

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর কাদা ও পাথরের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে মঙ্গলবারও হিমশিম খাচ্ছিলেন উদ্ধারকারীরা। এক প্রদেশজুড়ে তাণ্ডব চালানো এ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় জানায়, সোমবারের আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৩ জন বলে জানানো হয়েছে।

আফগানিস্তানের পারুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এএফপি’র এক সাংবাদিক দেখেছেন, নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী প্রত্যন্ত পারুনে কয়েক ডজন মানুষ কাঠের খুঁটি ও খালি হাতে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
৩৪ বছর বয়সী ওষুধ বিক্রেতা ফরিদ গুল জাহির বলেন, ‘আমি জীবনে এত ভয়ংকর বন্যা কখনও দেখিনি।’

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। চারদিকে শিশু ও মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।’ পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি আহত হন।
মঙ্গলবার পারুনে ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটি বুলডোজার ব্যবহার করা হলেও, তাতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। বন্যায় বহু দোকান কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

বিশাল বড় পাথর গড়িয়ে এসে ভবনগুলোতেও আঘাত হেনেছে।

গভর্নরের কার্যালয় সোমবার জানায়, পারুনের মেয়র ও সরকারের আরও কয়েকজন কর্মচারী নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন।

স্পোগমাই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকিরুল্লাহ জাকি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমাদের ওপর যেন খোদার গজব নেমে এসেছে।’

২৯ বছর বয়সী জাকি এএফপিকে বলেন, ‘অন্য সব হোটেল, বাজার ও দোকানপাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান জুমা খান নাইয়েল পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, পানির উচ্চতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

তিনি জানান, সংস্থার কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবক কোদাল ও খালি হাতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আমরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে তাদের জন্য তাঁবু সরবরাহ করছি।’

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।

বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে প্রতিবেশী পাকিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।

দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সেখানে বন্যার দুর্যোগ বাড়ছে।

চলতি মাসে মাওলভি মতি-উল-হক খালিস বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো ‘আফগান জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে।’