
অনলাইন ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ায় সাম্প্রতিক একটি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় যাকে বা যাদের দায়ী পাওয়া যাবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া গত সপ্তাহান্তে অভিযোগ করেছে যে, চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অভিন্ন সীমান্ত অতিক্রম করে কায়েসং শহরে একটি ড্রোন পাঠিয়েছে। তাদের দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তারা সেটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এ ঘটনার জন্য দায়ী ‘শত্রু রাষ্ট্রের গুন্ডাদের’ কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেন।
সিউল এ ঘটনায় কোনো ধরনের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও বেসামরিক কেউ ড্রোনটি উড়াতে পারে— এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-ল্যাক বুধবার আব রো এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাপানের নারা শহরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের উই বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের বোঝাপড়া অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী বা সরকার— কেউই এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।
তিনি আরো বলেন, এতে আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে— বেসামরিক খাতের কেউ এটি করেছে কি না, তা তদন্ত করা। যদি শাস্তিযোগ্য কোনো বিষয় থাকে, তবে শাস্তি অবশ্যই হতে হবে।
১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো শান্তিচুক্তি নয়, বরং অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া এখনো কারিগরি অর্থে যুদ্ধে রয়েছে।
উই আরো বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সমালোচনা ও ক্ষমা দাবির পরও উত্তর কোরিয়া নিজেও দক্ষিণ কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়েছে। ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে তাদের ড্রোন ব্লু হাউসের কাছাকাছি পড়ে গেছে, আবার কিছু ড্রোন ইয়ংসান পর্যন্ত পৌঁছেছে,’ বলেন তিনি। ব্লু হাউস ও ইয়ংসান— উভয়ই বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের অবস্থান।
তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনাও অস্ত্রবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।’
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ড্রোনের ঘটনাটি তদন্তে সামরিক ও পুলিশের যৌথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো বেসামরিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা হবে কোরীয় উপদ্বীপের শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ একটি গুরুতর অপরাধ।