ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ Logo ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড় Logo পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর Logo কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর Logo নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার: সফিকুর রহমান কিরণ এমপি Logo কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প Logo ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ Logo জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ, ব্যাখ্যা দিয়েছে পিবিআই

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:    জুলাই গণঅভ্যুত্থান সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করার বিষয়ে নানা আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পিবিআই এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মামলাটির ভুক্তভোগীর নাম ঠিকানার সকল তথ্য ভুয়া। হামলার ঘটনার উল্লেখিত সময়ে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এছাড়া বাদী শরিফ (৩৭) তদন্তকারীদের কোনো সহযোগিতা করেননি। মামলাটি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে পিবিআই।

এদিকে যুগান্তরের পক্ষ থেকে বাদী শরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সব মামলা আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট ও ৬৭টি সিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নং—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ সাল) চূড়ান্ত রিপোর্ট আদলতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে, যা ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

পরিপূর্ণ তথ্য দিয়ে পিবিআই জানায়, গত ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ (৩৭) (পিতা—সিরাজ, ৪১/১ ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা, হাজারীবাগ, ঢাকা) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ভিকটিম হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭) (পিতা—মো. কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারি মোড়, হাজারীবগ, ঢাকা)-সহ শুধু নাম ও ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ উল্লেখ করে আহত হিসেবে আরও নয়জনের শুধু নাম উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭ এর মীনাবাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ৪ আগস্ট (২০২৪) বেলা ১১টা উল্লেখ করেন।

আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন। বাদী ভিকটিম সাহেদ আলীকে তার ছোট ভাই হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ ওই ঠিকানায় কখনো বসবাস করেননি এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নন। ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই।

ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সঙ্গে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই ভিকটিম সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লিখিত ছাত্র—ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

বাদীকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে এবং সরাসরি বাদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যে কোনো ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেননি। তাছাড়া একাধিকবার বলা সত্ত্বেও বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেননি। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও ওই সময় ওই স্থানে কোনো ঘটনা ঘটেনি মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়।

সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার এ মামলায় ‘আহতদের খোঁজ না পেয়ে’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে গত ৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
১১ বার পঠিত হয়েছে

শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ, ব্যাখ্যা দিয়েছে পিবিআই

আপডেট এর সময় : ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:    জুলাই গণঅভ্যুত্থান সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করার বিষয়ে নানা আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পিবিআই এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মামলাটির ভুক্তভোগীর নাম ঠিকানার সকল তথ্য ভুয়া। হামলার ঘটনার উল্লেখিত সময়ে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এছাড়া বাদী শরিফ (৩৭) তদন্তকারীদের কোনো সহযোগিতা করেননি। মামলাটি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে পিবিআই।

এদিকে যুগান্তরের পক্ষ থেকে বাদী শরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সব মামলা আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট ও ৬৭টি সিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নং—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ সাল) চূড়ান্ত রিপোর্ট আদলতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে, যা ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

পরিপূর্ণ তথ্য দিয়ে পিবিআই জানায়, গত ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ (৩৭) (পিতা—সিরাজ, ৪১/১ ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা, হাজারীবাগ, ঢাকা) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ভিকটিম হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭) (পিতা—মো. কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারি মোড়, হাজারীবগ, ঢাকা)-সহ শুধু নাম ও ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ উল্লেখ করে আহত হিসেবে আরও নয়জনের শুধু নাম উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭ এর মীনাবাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ৪ আগস্ট (২০২৪) বেলা ১১টা উল্লেখ করেন।

আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন। বাদী ভিকটিম সাহেদ আলীকে তার ছোট ভাই হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ ওই ঠিকানায় কখনো বসবাস করেননি এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নন। ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই।

ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সঙ্গে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই ভিকটিম সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লিখিত ছাত্র—ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

বাদীকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে এবং সরাসরি বাদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যে কোনো ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেননি। তাছাড়া একাধিকবার বলা সত্ত্বেও বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেননি। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও ওই সময় ওই স্থানে কোনো ঘটনা ঘটেনি মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়।

সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার এ মামলায় ‘আহতদের খোঁজ না পেয়ে’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে গত ৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।