
মাদককে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় বাধা বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তার মতে মাদক একটি অভিশাপ, এই অভিশাপ থেকে জাতিকে এখনই রক্ষা করতে হবে।
বুধবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েমে) ৪৬ ও ৪৭তম জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদক বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। আর স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এতে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায় শখের বসেই মাদক সেবন করছে। তাই আমি উপস্থিত অভিভাবকদের বলতে চাই মাদক এমন একটা জিনিস যেটা প্রথম দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বার সেবন করলে আর ফিরে আসা যায় না। তাই আপনারা নিয়মিত সন্তান কী করে সেটার দেখভাল করবেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মাদক দেশের জন্য একটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার মাদক নিয়ন্ত্রণে রেড অ্যালার্ট জারি করেছেন এবং ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’
নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পর্যাপ্ত মাঠের অভাব। মাঠের জায়গা দখল করে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলেই এই অভাব সৃষ্টি হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ হচ্ছে বিশ্ব দরবারে স্বীকৃত আধুনিক ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দেয়া।’
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বর্তমানে কিছু নব্য হুজুর ইসলামের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জঙ্গি বানাচ্ছে। আমি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের সন্তানেরা যেন এসবের দিকে না যায় সেদিক আপনারা খেয়াল রাখবেন। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীরা মাদক ও জঙ্গিবাদের দিকে কম ঝুঁকবে। শিক্ষাক্ষেত্রে খেলাধুলা অপরিহার্য। তাই আমরা পাঠ্যপুস্তকে শরীর চর্চার বই সংযোজন করেছি।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতি বছরই এই ধরনের অনুষ্ঠানেরর আয়োজন করে থাকি। তাই আগামী বছর থেকে এই প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩০ হাজা থেকে ৭০ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার করা হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা অপরিহার্য।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসাইন, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর জিয়াউল হক।