ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নে গুরুত্ব পাচ্ছে অবহেলিত অঞ্চল: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম :

গ্যের পরিবর্তন সেটাই আমার লক্ষ্য। জাতির পিতার বড় সন্তান হিসেবে আমি সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’

‘১৯৮১ সালে আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করার পর আমি সমগ্র বাংলাদেশ সফর করেছি।কুড়িগ্রামেও গিয়েছি। সেখানে দেখেছি কী অনুন্নত এলাকা। রাস্তা নেই, রিকশা ভ্যানও নেই। পায়ে হেঁটে হেঁটে যেতে হতো। লালমনিরহাটের প্রতিটি উপজেলায়ও গিয়েছি।’

‘নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের একটি ইউনিয়ন নৈহালীতে ঘুরেছি। মানুষকে দেখেছি হাড়ের সঙ্গে চামড়া লাগানো। প্রতি বছর দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকত। আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছুটে গিয়েছি, লঙ্ঘরখানা খুলেছি। প্রতিটি এলাকা ঘুরে ঘুরে আমার অভিজ্ঞতা আছে। একবার নয়, বারবার ছুটে গিয়েছি। যখন যেখানে গিয়েছি কীভাবে মানুষের উন্নয়ন করা যায় সেটা ভেবেছি, পরিকল্পনা করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রথম ধরলা ব্রিজও আমি করেছি। একটু কাজ বাকি ছিল। আমরা ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর পরবর্তী সরকারের প্রধান (খালেদা জিয়া) সেতুটি উদ্বোধন করতে গিয়ে বললেন, আগের সরকার (আওয়ামী লীগ) কিছুই করেনি। আমি বললাম, দুই মাসের মধ্যে এত বড় সেতু তৈরি করলেন কীভাবে! পরে আমি যখন সেই এলাকায় গেলাম পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখে যেন সেতুটি পার হতে না পারি। আমরা ফেরি দিয়ে পার হয়েছি।’

ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ, খালেদা তিনটা সরকার গেল, কেউ আমাদের স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের কথা ভারতের কাছে তুলে ধরেনি, সাহসও পায়নি। আমরা এসে প্রথম বলি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলে বিলটি ভারতের পার্লামেন্টে উঠাতে সক্ষম হই। এটা আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য। বিলটি ভারতের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যা ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় ঘটনা, এর আগে হয়েছিল ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা প্রশ্নে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা ও আন্তরিকতা থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমার রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য। আমি আমার পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি, এখন আর আমার হারানোর কিছু নেই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুরের জনগণের জন্য ঈদের উপহার হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী ‍উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, সংশ্লিষ্ট সচিব ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ জুন ২০১৮
৮ বার পঠিত হয়েছে

উন্নয়নে গুরুত্ব পাচ্ছে অবহেলিত অঞ্চল: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ জুন ২০১৮

গ্যের পরিবর্তন সেটাই আমার লক্ষ্য। জাতির পিতার বড় সন্তান হিসেবে আমি সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’

‘১৯৮১ সালে আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করার পর আমি সমগ্র বাংলাদেশ সফর করেছি।কুড়িগ্রামেও গিয়েছি। সেখানে দেখেছি কী অনুন্নত এলাকা। রাস্তা নেই, রিকশা ভ্যানও নেই। পায়ে হেঁটে হেঁটে যেতে হতো। লালমনিরহাটের প্রতিটি উপজেলায়ও গিয়েছি।’

‘নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের একটি ইউনিয়ন নৈহালীতে ঘুরেছি। মানুষকে দেখেছি হাড়ের সঙ্গে চামড়া লাগানো। প্রতি বছর দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকত। আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছুটে গিয়েছি, লঙ্ঘরখানা খুলেছি। প্রতিটি এলাকা ঘুরে ঘুরে আমার অভিজ্ঞতা আছে। একবার নয়, বারবার ছুটে গিয়েছি। যখন যেখানে গিয়েছি কীভাবে মানুষের উন্নয়ন করা যায় সেটা ভেবেছি, পরিকল্পনা করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রথম ধরলা ব্রিজও আমি করেছি। একটু কাজ বাকি ছিল। আমরা ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর পরবর্তী সরকারের প্রধান (খালেদা জিয়া) সেতুটি উদ্বোধন করতে গিয়ে বললেন, আগের সরকার (আওয়ামী লীগ) কিছুই করেনি। আমি বললাম, দুই মাসের মধ্যে এত বড় সেতু তৈরি করলেন কীভাবে! পরে আমি যখন সেই এলাকায় গেলাম পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখে যেন সেতুটি পার হতে না পারি। আমরা ফেরি দিয়ে পার হয়েছি।’

ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ, খালেদা তিনটা সরকার গেল, কেউ আমাদের স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের কথা ভারতের কাছে তুলে ধরেনি, সাহসও পায়নি। আমরা এসে প্রথম বলি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলে বিলটি ভারতের পার্লামেন্টে উঠাতে সক্ষম হই। এটা আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য। বিলটি ভারতের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যা ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় ঘটনা, এর আগে হয়েছিল ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা প্রশ্নে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা ও আন্তরিকতা থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমার রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য। আমি আমার পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি, এখন আর আমার হারানোর কিছু নেই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুরের জনগণের জন্য ঈদের উপহার হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী ‍উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, সংশ্লিষ্ট সচিব ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।