
জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) জেরে আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের বিরুদ্ধে চতুর্থ মামলা দায়ের করেছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আসফারুল ইসলাম ওরফে হাজি বাচ্চু। কলকাতার উপশহর নিউ টাউন থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছে। আজ রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ কথা বলা হয়েছে।
মামলার আরজিতে আবেদনকারী বলেছেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এনআরসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসম্মান করেছেন। তাঁকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যও করেছেন তিনি। এই এনআরসির মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে বাঙালি তাড়াও অভিযান শুরু করেছেন। এমনকি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। তৈরি করছে বিভেদ। ফলে সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষেরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আসামের বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
এই মামলার দায়েরের ফলে এখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চারটি মামলা দায়ের হলো। অন্যদিকে, আসামেও সোনোয়ালের পক্ষ থেকে মমতার বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে।
আসামের চারটি মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, মমতা এনআরসি নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নাগরিক নিবন্ধন বা এনআরসি তৈরি করা হয়েছে। এটা আমরা চলতে দিতে পারি না। আজ মানুষের বিভাজন সৃষ্টি করেছে বিজেপি। এটা সহ্য করা যায় না। এর ফলে দেশে গৃহযুদ্ধ লাগতে পারে। বইতে পারে রক্তগঙ্গা। এসব মন্তব্যের জেরে আসামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। অবনতি হতে পারে আইনশৃঙ্খলা।’
বিহারে শুরু এনআরসির নথি যাচাই
আসামের এনআরসিতে বাদ পড়েছে সেখানে বসবাসকারী বিহারের ৭৪ হাজার মানুষের নাম। এরা সবাই হিন্দিভাষী। ওই ৭৪ হাজার মানুষের নাম-ঠিকানা সঠিক কি না, তা যাচাইয়ের জন্য আসাম সরকার পাঠিয়ে দেয় বিহারের রাজ্য সরকারের কাছে। বিহারের নিতীশ কুমার সরকার ওই নামের তালিকার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নামের তালিকা যাচাই করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার। মুখ্যমন্ত্রী এই তালিকা যাচাইয়ের জন্য ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের সচিব ব্রজেশ মেহরোত্রাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।