ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া Logo টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে Logo ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

কাকতাড়ুয়াই বাঁচিয়ে রেখেছে যে গ্রামকে!

প্রতিনিধির নাম :

জাপানের অনেক অঞ্চলই জনসংখ্যা সমস্যায় ভুগছে। তরুণ প্রজন্ম কাজের সন্ধানে ছুটছে শহরে আর বয়স্করা মারা যাচ্ছেন। এ সমস্যায় ভুগছে জাপানের নেগোরোও। সেখানে জনসংখ্যা কমতে কমতে ৩০ এর নিচে চলে এসেছে। কিন্তু এত কম জনসংখ্যা হলেও নেগারো কিন্তু জাপানের অন্য অঞ্চলের মতো জনশূন্য নয়। কারণ গোটা গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা আছে শত শত পুতুল। যেগুলোর দিকে তাকালে মানুষের উপস্থিতিই টের পান পর্যটকরা।

জাপানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব জাপানের নেগোরো গ্রামের নানা প্রান্তে প্রায় ৩৫০টি কাকতাড়ুয়া বা মানুষ আদলে তৈরি পুতুল রাখা আছে । ২০০২ সালে সুসকিমি আয়ানো নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ও চিত্রশিল্পী নিজের গ্রামে ফিরে এসব পুতুল তৈরির কাজ শুরু করেন।

চিত্রশিল্পী সুসকিমি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন জাপানের ওসাকাতে। একটা সময় তিনি খেয়াল করেন, তার জন্মস্থান নেগারোতে জনসংখ্যা কমতে কমতে ধীরে ধীরে তা ভুতুরে স্থানে পরিণত হচ্ছে।

তার বাবা কাকতাড়ুয়ার মাধ্যমে কীভাবে নিজের বাগান থেকে পাখিদের দূরে রাখতে সেটা মনে করলেন সুসকিমি। তিনি ভাবেন, ওই কাকতাড়ুয়ার মতো কিছু তৈরি করে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে রাখতে পারলে এটি আর জনশূন্য মনে হবে না।

এরপরই শুরু হলো সুসকিমির মানুষ পুতুল তৈরির কাজ। খড় দিয়ে তৈরি কাকতাড়ুয়াতে আঁকলেন মানুষের মুখ। এরপর সেগুলো রাস্তার পাশে, বাড়ির বাগানে, পরিত্যক্ত ক্লাস রুমে রাখতে শুরু করলেন।

নেগোরোতে মানুষের সংখ্যা কমলেও সুসকিমির তৈরি কাকতাড়ুয়ার শিল্পকর্ম দেখতে হাজারো মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাতে শুরু করলেন।

শুধু তাই নয়, সুসকিমি প্রতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কাকতাড়ুয়া তৈরির কর্মশালার আয়োজন করেন। আর অক্টোবর জুড়ে কাকতাড়ুয়া উৎসবের আয়োজনও হয় ওই গ্রামে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯
১১ বার পঠিত হয়েছে

কাকতাড়ুয়াই বাঁচিয়ে রেখেছে যে গ্রামকে!

আপডেট এর সময় : ১২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯

জাপানের অনেক অঞ্চলই জনসংখ্যা সমস্যায় ভুগছে। তরুণ প্রজন্ম কাজের সন্ধানে ছুটছে শহরে আর বয়স্করা মারা যাচ্ছেন। এ সমস্যায় ভুগছে জাপানের নেগোরোও। সেখানে জনসংখ্যা কমতে কমতে ৩০ এর নিচে চলে এসেছে। কিন্তু এত কম জনসংখ্যা হলেও নেগারো কিন্তু জাপানের অন্য অঞ্চলের মতো জনশূন্য নয়। কারণ গোটা গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা আছে শত শত পুতুল। যেগুলোর দিকে তাকালে মানুষের উপস্থিতিই টের পান পর্যটকরা।

জাপানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব জাপানের নেগোরো গ্রামের নানা প্রান্তে প্রায় ৩৫০টি কাকতাড়ুয়া বা মানুষ আদলে তৈরি পুতুল রাখা আছে । ২০০২ সালে সুসকিমি আয়ানো নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ও চিত্রশিল্পী নিজের গ্রামে ফিরে এসব পুতুল তৈরির কাজ শুরু করেন।

চিত্রশিল্পী সুসকিমি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন জাপানের ওসাকাতে। একটা সময় তিনি খেয়াল করেন, তার জন্মস্থান নেগারোতে জনসংখ্যা কমতে কমতে ধীরে ধীরে তা ভুতুরে স্থানে পরিণত হচ্ছে।

তার বাবা কাকতাড়ুয়ার মাধ্যমে কীভাবে নিজের বাগান থেকে পাখিদের দূরে রাখতে সেটা মনে করলেন সুসকিমি। তিনি ভাবেন, ওই কাকতাড়ুয়ার মতো কিছু তৈরি করে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে রাখতে পারলে এটি আর জনশূন্য মনে হবে না।

এরপরই শুরু হলো সুসকিমির মানুষ পুতুল তৈরির কাজ। খড় দিয়ে তৈরি কাকতাড়ুয়াতে আঁকলেন মানুষের মুখ। এরপর সেগুলো রাস্তার পাশে, বাড়ির বাগানে, পরিত্যক্ত ক্লাস রুমে রাখতে শুরু করলেন।

নেগোরোতে মানুষের সংখ্যা কমলেও সুসকিমির তৈরি কাকতাড়ুয়ার শিল্পকর্ম দেখতে হাজারো মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাতে শুরু করলেন।

শুধু তাই নয়, সুসকিমি প্রতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কাকতাড়ুয়া তৈরির কর্মশালার আয়োজন করেন। আর অক্টোবর জুড়ে কাকতাড়ুয়া উৎসবের আয়োজনও হয় ওই গ্রামে।