ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo এক রানেরও কম ইকোনমিতে রেকর্ড বইয়ে রবিনসন Logo শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদক জব্দ Logo ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট Logo বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, প্রাণহানি ৬৩৩ Logo ৭৪ জনকে চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান প্রধানমন্ত্রীর Logo গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

কুমিল্লা মুন হাসপাতালের ন্যাক্কারজনক প্রতারণা- হসপিটালে মানুষের জীবন নিয়ে এমন খেলা কেন?

প্রতিনিধির নাম :

ডেস্ক রিপোর্ট: কুমিল্লা নগরীর মুন হাসপাতালে ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে রোগীকে নকল ইনজেকশন দিলেন চিকিৎসক। এমন অভিযোগ করে বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন রোগীর এক স্বজন। জীবন নিউজ ২৪ ডট কম এর পাঠকদের জন্য হুবহু পোস্টটি তুলে ধরা হলো:
আজকে আমি বন্ধু সাব্বির Ahmad Sabbir ও তার পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার মুন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। সাব্বিরের মা দীর্ঘদিন কোমরের ব্যথায় ভুগছিলেন এবং প্রায় তিন মাস ধরে মুন হাসপাতালের ডাঃ আশরাফের অধীনে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। প্রতি সপ্তাহ কিংবা পনেরো দিন পরপর ডাক্তারের সঙ্গে দেখা হতো, প্রতিবারই ওষুধ পরিবর্তন হতো, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি দেখা যেত না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিবারই ডাক্তার একই পরিমাণ ভিজিট চার্জ নিতেন—যা সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে কম হওয়া উচিত ছিল। যাই হউক…
আজকের ঘটনার শুরু এখান থেকেই। ডাক্তার আশরাফ বলেন, কোমরের ব্যাথা কমানোর জন্য একটি ইনজেকশন দিতে হবে যার মূল্য ৩৬,০০০ টাকা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ইনজেকশন বাইরে কোথাও পাওয়া যাবে না, শুধু তার কাছ থেকেই নিতে হবে। কিছু দরদাম করে শেষে ইনজেকশনটি ৩৪,০০০ টাকায় দেওয়া হয় এবং সেটি সরাসরি সাব্বিরের মাকে প্রয়োগ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন ডাক্তারের নিজস্ব সহকারী (পিএইচ)।
কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাব্বিরের মায়ের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। হঠাৎ সাব্বিরের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বোনের চোখ পড়ে ইনজেকশনের প্যাকেটের ওপর- ঔষধের গায়ে লেখা নাম এবং কার্টুনে থাকা ওষুধের নামের মধ্যে কোনো মিল নেই! বোতলটা ভালো করে নাড়াচাড়া করে দেখতে পান, এটা আসলে নকল ইনজেকশন। মূল ওষুধের নামের স্টিকার জাল করে নকল ইনজেকশনের ওপর লাগানো হয়েছে!
ঘটনা দ্রুত হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্তার আশরাফের সহকারী পিএইচ তখনই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাব্বিরের কয়েকজন বন্ধু ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং আরও বড় অনিয়মের প্রমাণ পায়। শেষমেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, চাপে পড়ে ৩৪,০০০ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
আমার প্রশ্ন একটাই- একজন মানুষের জীবনের মূল্য কি শুধুই ৩৪,০০০ টাকা? কেন এই অবাধ অনিয়ম? কেন একজন রোগীকে জীবনের ঝুঁকিতে ফেলে কেবল টাকার জন্য এমন প্রতারণা চলতে থাকবে? হাসপাতালের ভেতরে এইভাবে নকল ওষুধ ব্যবহার করে যদি মৃত্যুর মিছিল বাড়ে, তাহলে এর দায় কে নেবে?
হট্রগলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন ব্যাক্তি জানায় কিছুদিন আগে নকল ঔষধ প্রয়োগ করায় একজনের মৃত্যু হয় পরে বিষয়টি টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
সাব্বিরের মায়ের যদি আজ কিছু হয়ে যায়, তার দায়ভার কে নেবে? নাকি আমরা আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু দেখার জন্য প্রস্তুত থাকবো?
আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা চাই প্রতিটি প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশে এখনও কেন এমন অনিয়মের ছড়াছড়ি?
শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে অনুরোধ এই পোস্টটি যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন। বিষয়টি যেনো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছাতে পারে। আপনার একটি শেয়ার একটি পরিবারকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করতে পারে। ধন্যবাদ

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
১২ বার পঠিত হয়েছে

কুমিল্লা মুন হাসপাতালের ন্যাক্কারজনক প্রতারণা- হসপিটালে মানুষের জীবন নিয়ে এমন খেলা কেন?

আপডেট এর সময় : ১০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট: কুমিল্লা নগরীর মুন হাসপাতালে ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে রোগীকে নকল ইনজেকশন দিলেন চিকিৎসক। এমন অভিযোগ করে বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন রোগীর এক স্বজন। জীবন নিউজ ২৪ ডট কম এর পাঠকদের জন্য হুবহু পোস্টটি তুলে ধরা হলো:
আজকে আমি বন্ধু সাব্বির Ahmad Sabbir ও তার পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার মুন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। সাব্বিরের মা দীর্ঘদিন কোমরের ব্যথায় ভুগছিলেন এবং প্রায় তিন মাস ধরে মুন হাসপাতালের ডাঃ আশরাফের অধীনে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। প্রতি সপ্তাহ কিংবা পনেরো দিন পরপর ডাক্তারের সঙ্গে দেখা হতো, প্রতিবারই ওষুধ পরিবর্তন হতো, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি দেখা যেত না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিবারই ডাক্তার একই পরিমাণ ভিজিট চার্জ নিতেন—যা সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে কম হওয়া উচিত ছিল। যাই হউক…
আজকের ঘটনার শুরু এখান থেকেই। ডাক্তার আশরাফ বলেন, কোমরের ব্যাথা কমানোর জন্য একটি ইনজেকশন দিতে হবে যার মূল্য ৩৬,০০০ টাকা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ইনজেকশন বাইরে কোথাও পাওয়া যাবে না, শুধু তার কাছ থেকেই নিতে হবে। কিছু দরদাম করে শেষে ইনজেকশনটি ৩৪,০০০ টাকায় দেওয়া হয় এবং সেটি সরাসরি সাব্বিরের মাকে প্রয়োগ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন ডাক্তারের নিজস্ব সহকারী (পিএইচ)।
কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাব্বিরের মায়ের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। হঠাৎ সাব্বিরের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বোনের চোখ পড়ে ইনজেকশনের প্যাকেটের ওপর- ঔষধের গায়ে লেখা নাম এবং কার্টুনে থাকা ওষুধের নামের মধ্যে কোনো মিল নেই! বোতলটা ভালো করে নাড়াচাড়া করে দেখতে পান, এটা আসলে নকল ইনজেকশন। মূল ওষুধের নামের স্টিকার জাল করে নকল ইনজেকশনের ওপর লাগানো হয়েছে!
ঘটনা দ্রুত হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্তার আশরাফের সহকারী পিএইচ তখনই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাব্বিরের কয়েকজন বন্ধু ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং আরও বড় অনিয়মের প্রমাণ পায়। শেষমেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, চাপে পড়ে ৩৪,০০০ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
আমার প্রশ্ন একটাই- একজন মানুষের জীবনের মূল্য কি শুধুই ৩৪,০০০ টাকা? কেন এই অবাধ অনিয়ম? কেন একজন রোগীকে জীবনের ঝুঁকিতে ফেলে কেবল টাকার জন্য এমন প্রতারণা চলতে থাকবে? হাসপাতালের ভেতরে এইভাবে নকল ওষুধ ব্যবহার করে যদি মৃত্যুর মিছিল বাড়ে, তাহলে এর দায় কে নেবে?
হট্রগলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন ব্যাক্তি জানায় কিছুদিন আগে নকল ঔষধ প্রয়োগ করায় একজনের মৃত্যু হয় পরে বিষয়টি টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
সাব্বিরের মায়ের যদি আজ কিছু হয়ে যায়, তার দায়ভার কে নেবে? নাকি আমরা আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু দেখার জন্য প্রস্তুত থাকবো?
আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা চাই প্রতিটি প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশে এখনও কেন এমন অনিয়মের ছড়াছড়ি?
শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে অনুরোধ এই পোস্টটি যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন। বিষয়টি যেনো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছাতে পারে। আপনার একটি শেয়ার একটি পরিবারকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করতে পারে। ধন্যবাদ