
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এম ফজলুল হক স্মরণে ২৬মে, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সেমিনার কক্ষে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক লায়লা পারভীন বানু।
শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক মনসুর মুসা, ভৌত ও গাণিতিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারী, ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ মোস্তাফিজার রহমান এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলীসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ। বক্তরা বলেন- ড. এম ফজলুল হক একজন মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক ছিলেন। মানুষ হিসেবে ছিলেন কর্মচঞ্চল, সদা হাস্যজ্জ¦ল ও স্বল্পভাষী। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি এ বিভাগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভাগে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। তার মৃত্যুতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র একজন একনিষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও গবেষককে হারালো। পরে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয় ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
উল্লখ্যে, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এম ফজলুল হক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২৫ মে,২০১৮ তারিখ (শুক্রবার) বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নানিল্লাহি —— রাজিউন)। মৃত্যুকারে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ড. এম ফজলুল হক কলেজে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। অতঃপর ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সিএসআইআর এর ঢাকাস্থ পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণাগার কেমিস্ট হিসেবে যোগদান করেন এবং ফ্রান্সের ডিজোঁ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে জৈব রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ভারতের লক্ষেèৗস্থ সিআইএমএপিতে একবছর পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন। দেশী বিদেশী জার্নালে তার ৩০টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২০১ট পেটেন্টসহ ৩৫টি শিল্প পদ্ধতি উদ্ধাবন করেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ থেকে অবসরগ্রহণ করার পর ২০০৭ সালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করেন এবং ২০১৩ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।