1. rajubdnews@gmail.com : 24jibonnews : admin
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:

গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার

প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:     দুই বছরের কাছাকাছি সময় ধরে প্রায় বন্ধ থাকার পর সোমবার গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পথচারীদের চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি অংশ দখলে নেওয়ার পর থেকে ক্রসিংটি কার্যত অচল ছিল।

জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবিতে এই পুনরায় খোলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কায়রো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার—

ফিলিস্তিনি বেসামরিক বিষয় সমন্বয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, ক্রসিংটি শুধু উভয় দিকের বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য খোলা হবে।

এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, সীমান্তের মিসরীয় অংশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। চিকিৎসাজনিত কারণে যাদের সরিয়ে নেওয়া হবে, তাদেরই প্রথম বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত রাফাহ ক্রসিংকে অনেক সময় গাজার ‘প্রাণরেখা’ বলা হয়। এটি একমাত্র সীমান্তপথ, যা ইসরাইলের ভেতর দিয়ে নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরাইলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে সরে যাওয়ার পর ক্রসিংটি এখন ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পড়েছে।

২০০৭ সাল থেকে ইসরাইলি অবরোধের মধ্যে থাকা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাইরে যাওয়ার অনুমোদিত প্রধান পথ হিসেবে দীর্ঘদিন রাফাহ ক্রসিং ব্যবহৃত হতো।

২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রথম সীমান্ত টার্মিনাল। পরে হামাস গাজায় ক্ষমতা নেওয়ার পর এটি তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হয়ে ওঠে।

২০২৪ সালের ৭ মে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্রসিংটির ফিলিস্তিনি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তাদের দাবি ছিল, এটি ‘সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।’

এরপর থেকে জাতিসংঘ ব্যবহৃত পথসহ অনেক প্রবেশপথ প্রায় বন্ধই রয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির সময় অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য অল্প সময়ের জন্য রাফাহ খুলেছিল।

ইসরাইল জানায়, তারা গাজায় যাতায়াতের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের ‘নিরাপত্তা যাচাই’ করবে। এই প্রক্রিয়া পরিচালনার কথা ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি সংস্থার।

ইসরাইলের অনুমোদনের পর গাজার প্রশাসন পরিচালনার জাতীয় কমিটিও ভূখণ্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
কতজন ফিলিস্তিনিকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। সূত্রগুলো জানায়, ইসরাইল যাদের যেতে অনুমতি দেবে, মিসর তাদের সবাইকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

কায়রোতে ফিলিস্তিনি দূতাবাস জানিয়েছে, গাজায় ফিরতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিরা সীমিত লাগেজ নিতে পারবেন। ধাতব বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী নেওয়া যাবে না। ওষুধও নেওয়া যাবে সীমিত পরিমাণে।

কোগাট জানিয়েছে, রোববার ‘প্রাথমিক পাইলট ধাপ’ শুরু হয়েছে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সীমান্ত সহায়তা মিশন (ইউবাম), মিসর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হলে উভয় দিকের বাসিন্দাদের প্রকৃত চলাচল শুরু হবে। রাফাহর ফিলিস্তিনি অংশ পরিচালনার কথা ইউবাম ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধিদলের।

২০০৫ সালে রাফাহ ক্রসিং পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বেসামরিক মিশন গঠন করেছিল। কিন্তু দুই বছর পর হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তা স্থগিত হয়।

ইউরোপীয় এই মিশনের লক্ষ্য ছিল করে সীমান্তে একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এতে ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের পুলিশ সদস্যরা যুক্ত এতে যুক্ত করা হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে স্বল্প সময়ের জন্য এটি পুনরায় মোতায়েন হলেও মার্চে আবার স্থগিত করা হয়।

সূত্র জানায়, ইউবাম ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সীমান্তে পৌঁছেছে।

ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে থাকা ট্রাম্পের পরিকল্পনায় রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলা এবং প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা বলা হয়েছে।

তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো জানায়,  ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গড়িমসি করছে। জীবনরক্ষাকারী সহায়তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সাধারণত আন্তর্জাতিক ত্রাণ মিসর থেকে রাফাহ দিয়ে আসে। এরপর ট্রাকগুলো পাঠানো হয় নিকটবর্তী ইসরাইলি ক্রসিং কেরেম শালোমে। বর্তমানে গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এই পথ দিয়ে যায়।

চালকেরা ট্রাক থেকে নেমে যান। যানবাহনগুলো কঠোর ইসর্ইালি তল্লাশির মধ্য দিয়ে যায়। পরে পণ্য নামিয়ে গাজায় প্রবেশের অনুমোদন পাওয়া অন্য যানবাহনে তোলা হয়।

মিসরীয় অংশে থাকা দুইটি ত্রাণ সূত্র বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানিয়েছে, ইসরাইল ত্রাণ প্রবেশে বাধা অব্যাহত রেখেছে। পণ্য খালাস না করেই “ডজনখানেক” ট্রাক ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অতীতে আরও কিছু প্রবেশপথ চালু ছিল। তবে সেগুলো পুনরায় খোলা হবে কি না, সে বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো তথ্য দেয়নি।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড
Theme Customized BY LatestNews