ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo এক রানেরও কম ইকোনমিতে রেকর্ড বইয়ে রবিনসন Logo শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদক জব্দ Logo ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট Logo বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, প্রাণহানি ৬৩৩ Logo ৭৪ জনকে চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান প্রধানমন্ত্রীর Logo গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

জমিজমা থাকতেও বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস

প্রতিনিধির নাম :

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : আমার সবকিছু আছে বাবা, সব থাকতেও আমি বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস করছি। এক বেলা জোটে অন্য বেলা জোটে না তারপরে তীব্র শীত একই ঘরের মধ্যে খাওয়া দাওয়া থাকা রান্না চলে আমাদের। আমার ভাইয়েরা আমাকে অন্যায় ভাবে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। জমি জমা দখল করে নিয়েছে। কার কাছে বিচার চাইবো? কেউ আমাদের দেখেনা। কেউ আমাদের কথা শোনে না। এসব কথা কেঁদে কেঁদে বলছিলেন তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার জুজখোলা গ্রামের বৃদ্ধ মোমিন উদ্দীন।

তিনি বলেন, তালা উপজেলার জুজখোলা মৌজার ১২৮১, ১২৮৩, ১৩৮০ দাগের ১ একর ২৩ শতক পৈত্রিক জমির মধ্যে ৪১ শতক জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু তার চাচাতো ভাই সিরাজুল, রেজাউল, শাহাজান সহ শরিকের লোক ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আমাকে বিতাড়িত করেছেন। আমার চার মেয়ে এবং স্ত্রী আছে, নেই কোন ছেলে সন্তান। ইতিমধ্যেই তিন মেয়ে কে বিবাহ দিলেও প্রতিবন্ধী ছোট মেয়ে আছে আমার সাথে। অন্যের বাড়িতে চেয়ে চিনতে কোন রকমের দিন পার করছে।

মোমিন উদ্দীনের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায়। এই অভাবে মধ্যে কি ভাবে দিন পার করছি শুধু আল্লাহ পাক জানেন। আমারা দুজন খুব অসুস্থ আমাদের শরীকের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়েছে আমরা তাই নদীর পাড়ে বাস করছি।

মেয়ে সরবানু বেগম জানান, আমারা চার বোন খুব অভাবের মধ্যে বড় হয়েছি। বাবার চাচাতো ভায়েরা আমাদের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আমারা নদীর পাড়ে বাসবাস করছি। কিছুদিন আগে শুনলাম নদী কাটবে এখন আমরা যাবো কোথায়? । সবশেষে তিনি তার জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবিব জানান, তিনি বৃদ্ধা মোমিন উদ্দীনের জমি দেখাশুনা করতেন। জমি বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া কারনে বৃদ্ধার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। আদালত মামলা গুলো মিথ্যা বলেই খারিজ করে দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ আস্বীকার করে শাহাজান রেজাউল ও সিরাজুল জানান, মোমিন উদ্দীনের কোন জমি আমাদের মধ্যে নেই। ওর জমি তার নিজের ভাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫
২৩ বার পঠিত হয়েছে

জমিজমা থাকতেও বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস

আপডেট এর সময় : ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : আমার সবকিছু আছে বাবা, সব থাকতেও আমি বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস করছি। এক বেলা জোটে অন্য বেলা জোটে না তারপরে তীব্র শীত একই ঘরের মধ্যে খাওয়া দাওয়া থাকা রান্না চলে আমাদের। আমার ভাইয়েরা আমাকে অন্যায় ভাবে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। জমি জমা দখল করে নিয়েছে। কার কাছে বিচার চাইবো? কেউ আমাদের দেখেনা। কেউ আমাদের কথা শোনে না। এসব কথা কেঁদে কেঁদে বলছিলেন তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার জুজখোলা গ্রামের বৃদ্ধ মোমিন উদ্দীন।

তিনি বলেন, তালা উপজেলার জুজখোলা মৌজার ১২৮১, ১২৮৩, ১৩৮০ দাগের ১ একর ২৩ শতক পৈত্রিক জমির মধ্যে ৪১ শতক জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু তার চাচাতো ভাই সিরাজুল, রেজাউল, শাহাজান সহ শরিকের লোক ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আমাকে বিতাড়িত করেছেন। আমার চার মেয়ে এবং স্ত্রী আছে, নেই কোন ছেলে সন্তান। ইতিমধ্যেই তিন মেয়ে কে বিবাহ দিলেও প্রতিবন্ধী ছোট মেয়ে আছে আমার সাথে। অন্যের বাড়িতে চেয়ে চিনতে কোন রকমের দিন পার করছে।

মোমিন উদ্দীনের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায়। এই অভাবে মধ্যে কি ভাবে দিন পার করছি শুধু আল্লাহ পাক জানেন। আমারা দুজন খুব অসুস্থ আমাদের শরীকের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়েছে আমরা তাই নদীর পাড়ে বাস করছি।

মেয়ে সরবানু বেগম জানান, আমারা চার বোন খুব অভাবের মধ্যে বড় হয়েছি। বাবার চাচাতো ভায়েরা আমাদের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আমারা নদীর পাড়ে বাসবাস করছি। কিছুদিন আগে শুনলাম নদী কাটবে এখন আমরা যাবো কোথায়? । সবশেষে তিনি তার জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবিব জানান, তিনি বৃদ্ধা মোমিন উদ্দীনের জমি দেখাশুনা করতেন। জমি বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া কারনে বৃদ্ধার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। আদালত মামলা গুলো মিথ্যা বলেই খারিজ করে দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ আস্বীকার করে শাহাজান রেজাউল ও সিরাজুল জানান, মোমিন উদ্দীনের কোন জমি আমাদের মধ্যে নেই। ওর জমি তার নিজের ভাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে।