ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে দ্বিতীয় যমুনা সেতু Logo উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত নেতৃত্বের আহ্বান মির্জা ফখরুলের Logo ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত ও উদ্ধার সক্ষমতা বাড়াতে বললেন তারেক রহমান Logo বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য অ্যামচ্যামের Logo বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo নাগোয়ায় টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন তারেক রহমান Logo বালুরমাঠে এসআরবির অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৪ Logo কাজাখস্তানকে হারিয়ে আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনালি সাফল্য Logo ইনানীতে ৩২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, গ্যাসকূপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাপেক্স Logo রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান তারেক রহমান

জমিজমা থাকতেও বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস

প্রতিনিধির নাম :

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : আমার সবকিছু আছে বাবা, সব থাকতেও আমি বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস করছি। এক বেলা জোটে অন্য বেলা জোটে না তারপরে তীব্র শীত একই ঘরের মধ্যে খাওয়া দাওয়া থাকা রান্না চলে আমাদের। আমার ভাইয়েরা আমাকে অন্যায় ভাবে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। জমি জমা দখল করে নিয়েছে। কার কাছে বিচার চাইবো? কেউ আমাদের দেখেনা। কেউ আমাদের কথা শোনে না। এসব কথা কেঁদে কেঁদে বলছিলেন তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার জুজখোলা গ্রামের বৃদ্ধ মোমিন উদ্দীন।

তিনি বলেন, তালা উপজেলার জুজখোলা মৌজার ১২৮১, ১২৮৩, ১৩৮০ দাগের ১ একর ২৩ শতক পৈত্রিক জমির মধ্যে ৪১ শতক জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু তার চাচাতো ভাই সিরাজুল, রেজাউল, শাহাজান সহ শরিকের লোক ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আমাকে বিতাড়িত করেছেন। আমার চার মেয়ে এবং স্ত্রী আছে, নেই কোন ছেলে সন্তান। ইতিমধ্যেই তিন মেয়ে কে বিবাহ দিলেও প্রতিবন্ধী ছোট মেয়ে আছে আমার সাথে। অন্যের বাড়িতে চেয়ে চিনতে কোন রকমের দিন পার করছে।

মোমিন উদ্দীনের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায়। এই অভাবে মধ্যে কি ভাবে দিন পার করছি শুধু আল্লাহ পাক জানেন। আমারা দুজন খুব অসুস্থ আমাদের শরীকের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়েছে আমরা তাই নদীর পাড়ে বাস করছি।

মেয়ে সরবানু বেগম জানান, আমারা চার বোন খুব অভাবের মধ্যে বড় হয়েছি। বাবার চাচাতো ভায়েরা আমাদের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আমারা নদীর পাড়ে বাসবাস করছি। কিছুদিন আগে শুনলাম নদী কাটবে এখন আমরা যাবো কোথায়? । সবশেষে তিনি তার জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবিব জানান, তিনি বৃদ্ধা মোমিন উদ্দীনের জমি দেখাশুনা করতেন। জমি বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া কারনে বৃদ্ধার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। আদালত মামলা গুলো মিথ্যা বলেই খারিজ করে দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ আস্বীকার করে শাহাজান রেজাউল ও সিরাজুল জানান, মোমিন উদ্দীনের কোন জমি আমাদের মধ্যে নেই। ওর জমি তার নিজের ভাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫
২৪ বার পঠিত হয়েছে

জমিজমা থাকতেও বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস

আপডেট এর সময় : ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : আমার সবকিছু আছে বাবা, সব থাকতেও আমি বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস করছি। এক বেলা জোটে অন্য বেলা জোটে না তারপরে তীব্র শীত একই ঘরের মধ্যে খাওয়া দাওয়া থাকা রান্না চলে আমাদের। আমার ভাইয়েরা আমাকে অন্যায় ভাবে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। জমি জমা দখল করে নিয়েছে। কার কাছে বিচার চাইবো? কেউ আমাদের দেখেনা। কেউ আমাদের কথা শোনে না। এসব কথা কেঁদে কেঁদে বলছিলেন তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার জুজখোলা গ্রামের বৃদ্ধ মোমিন উদ্দীন।

তিনি বলেন, তালা উপজেলার জুজখোলা মৌজার ১২৮১, ১২৮৩, ১৩৮০ দাগের ১ একর ২৩ শতক পৈত্রিক জমির মধ্যে ৪১ শতক জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু তার চাচাতো ভাই সিরাজুল, রেজাউল, শাহাজান সহ শরিকের লোক ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আমাকে বিতাড়িত করেছেন। আমার চার মেয়ে এবং স্ত্রী আছে, নেই কোন ছেলে সন্তান। ইতিমধ্যেই তিন মেয়ে কে বিবাহ দিলেও প্রতিবন্ধী ছোট মেয়ে আছে আমার সাথে। অন্যের বাড়িতে চেয়ে চিনতে কোন রকমের দিন পার করছে।

মোমিন উদ্দীনের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায়। এই অভাবে মধ্যে কি ভাবে দিন পার করছি শুধু আল্লাহ পাক জানেন। আমারা দুজন খুব অসুস্থ আমাদের শরীকের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়েছে আমরা তাই নদীর পাড়ে বাস করছি।

মেয়ে সরবানু বেগম জানান, আমারা চার বোন খুব অভাবের মধ্যে বড় হয়েছি। বাবার চাচাতো ভায়েরা আমাদের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আমারা নদীর পাড়ে বাসবাস করছি। কিছুদিন আগে শুনলাম নদী কাটবে এখন আমরা যাবো কোথায়? । সবশেষে তিনি তার জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবিব জানান, তিনি বৃদ্ধা মোমিন উদ্দীনের জমি দেখাশুনা করতেন। জমি বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া কারনে বৃদ্ধার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। আদালত মামলা গুলো মিথ্যা বলেই খারিজ করে দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ আস্বীকার করে শাহাজান রেজাউল ও সিরাজুল জানান, মোমিন উদ্দীনের কোন জমি আমাদের মধ্যে নেই। ওর জমি তার নিজের ভাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে।