ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo এক রানেরও কম ইকোনমিতে রেকর্ড বইয়ে রবিনসন Logo শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদক জব্দ Logo ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট Logo বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, প্রাণহানি ৬৩৩ Logo ৭৪ জনকে চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান প্রধানমন্ত্রীর Logo গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

জামায়াতের সঙ্গী হচ্ছে এনসিপি!

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতায় যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্টের পর এই দাবি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এনসিপি ও জামায়াতের জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধতেছে।”

এই বক্তব্যের পর এনসিপির অবস্থান জানতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সাড়া দেননি। প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আবদুল কাদের দাবি করেন, জামায়াতের কাছে এনসিপি শুরুতে ৫০টি আসন চেয়েছিল। দর কষাকষির পর সেই সংখ্যা ৩০ আসনে নেমে এসেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই সমঝোতার শর্তে এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং সেসব আসনে জামায়াতকে সমর্থন করবে। তিনি আরও লেখেন, “এর মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

এনসিপির সঙ্গে আবদুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত না হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাঁর সহযোদ্ধারাই দলটি গড়ে তোলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর মতোই সমন্বয়ক ছিলেন এনসিপির বর্তমান শীর্ষ নেতারা। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি এনসিপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

এদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে।” তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বাসায় যান। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতা জানতে যাওয়ার কথা বলা হলেও দুই দলের সূত্রে জানা গেছে, আসন সমঝোতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

আবদুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় ৩০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জামায়াতের পক্ষে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির পক্ষে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনে জিতলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর জিততে না পারলে বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, এমন আলোচনাও নাকি রয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এনসিপি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করলেও আরও দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দলটি।

এনসিপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য এই জোটের খবর সামনে আসতেই তরুণ রাজনীতিক ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
১৫ বার পঠিত হয়েছে

জামায়াতের সঙ্গী হচ্ছে এনসিপি!

আপডেট এর সময় : ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:     জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতায় যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্টের পর এই দাবি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এনসিপি ও জামায়াতের জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধতেছে।”

এই বক্তব্যের পর এনসিপির অবস্থান জানতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সাড়া দেননি। প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আবদুল কাদের দাবি করেন, জামায়াতের কাছে এনসিপি শুরুতে ৫০টি আসন চেয়েছিল। দর কষাকষির পর সেই সংখ্যা ৩০ আসনে নেমে এসেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই সমঝোতার শর্তে এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং সেসব আসনে জামায়াতকে সমর্থন করবে। তিনি আরও লেখেন, “এর মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

এনসিপির সঙ্গে আবদুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত না হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাঁর সহযোদ্ধারাই দলটি গড়ে তোলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর মতোই সমন্বয়ক ছিলেন এনসিপির বর্তমান শীর্ষ নেতারা। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি এনসিপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

এদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে।” তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বাসায় যান। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতা জানতে যাওয়ার কথা বলা হলেও দুই দলের সূত্রে জানা গেছে, আসন সমঝোতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

আবদুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় ৩০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জামায়াতের পক্ষে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির পক্ষে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনে জিতলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর জিততে না পারলে বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, এমন আলোচনাও নাকি রয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এনসিপি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করলেও আরও দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দলটি।

এনসিপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য এই জোটের খবর সামনে আসতেই তরুণ রাজনীতিক ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।