
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার বেলা ১১টার পর ঢাকার বিশেষ ৫ জজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারক আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে খালেদা জিয়ার জন্য ডিভিশন চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। এ বিষয়ে ১১টার পর শুনানি হয়।
সানাউল্লাহ মিয়া শুনানিতে বলেন, ‘গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাদণ্ড দেওয়ার পর খালেদা জিয়া নাজিমি উদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে আছেন। তিনি এখনও ডিভিশন পাননি। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং একটি দলের প্রধান। তাই তাকে ডিভিশন দেওয়ার আবেদন করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রায়ের সার্টিফাইড কপির জন্য আমরা দরখাস্ত করেছি। নকলগুলো তাড়াতাড়ি (জরুরি) পাওয়ার ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দেন আপনি।’ তবে এ বিষয়ে আদালত কোনও আদেশ দেননি।
খালেদার আরেক আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জেলকোড বিধির ৬৭১ (৪) অনুযায়ী যেকোনও ব্যক্তি দলের প্রধান হলে সে অবশ্যই এই ডিভিশনের সুবিধা পাবেন। এই আদেশ যেকোনও ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ দিতে পারেন।’
দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল শুনানিতে বলেন, ডিভিশন বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা দেওয়ার কোনও বিধান নেই। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা জেলা প্রশাসক এই নির্দেশ দেবেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষ এই আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেলের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এরপর রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনটিকে ‘সাবজেল’ ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছে তাকে। পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের অফিস ভবনের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বামেই সিনিয়র জেল সুপারের যে অফিস কক্ষ ছিল, সেখানেই তাকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনও কারাবন্দি নেই। তাকে (খালেদা জিয়াকে) ডিভিশন দেওয়া হয়নি। এটা সংবিধান পরিপন্থি।