
চলছে গ্রীষ্মকাল। শুরু হয়েছে ফলের ভরা মৌসুম। বাজারে এসেছে তরমুজ। তাজা তরমুজ খেতে কার না ভালো লাগে! মাঝেমধ্যে অনেকে তরমুজের ওপর লবণ ও চাটমসলা ছিটিয়ে খান। এভাবে তরমুজ খাওয়া কি ভালো? বাড়তি কোনো উপকারিতা মেলে কি? নাকি শুধুই স্বাদের জন্য লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খাওয়া? নানা রকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
তরমুজের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে লবণ। এক চিমটে লবণ এনে দেয় তরমুজের ভিন্ন স্বাদ। তরমুজ আরও মিষ্টি খেতে লাগে। কারণ লবণের মধ্যে থাকা ক্লোরাইড আয়ন মিষ্টি স্বাদের রিসেপ্টরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। এর জেরে মিষ্টি ভাব আরও বেশি অনুভূত হয়। এককথায় লবণ তরমুজের প্রাকৃতিক মিষ্টতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
আর ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মিটিয়ে দেয় তরমুজ। তরমুজ শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে। এতে ৯২ শতাংশ পানি রয়েছে। এমনকি পটাশিয়ামের মতো মিনারেলও রয়েছে। কিন্তু এতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকে। এই গরমে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তরমুজের ওপর লবণ ছড়াতেই হবে। কারণ লবণের মধ্যে থাকা সোডিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খেলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মিটিয়ে যায়।
আর লবণ পাকস্থলীতে পাচক রস নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে তরমুজ দ্রুত হজম হয়ে যায়। যদিও তরমুজ সহজপাচ্য। তাও অনেকেরই তরমুজ খাওয়ার পর পেট ফাঁপে। এ সমস্যা অনায়াসে দূর হয়ে যায়, যদি লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খান।
পরিমাণের দিকে নজর না দিয়ে তরমুজের ওপর লবণ বা চাটমসলা ছড়ালে চলবে না। তবে বেশি লবণ দেবেন, এতে তরমুজের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি আপনার শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করে। এক বাটি তরমুজের ওপর এক চিমটে লবণ বা চাটমসলাই যথেষ্ট। লবণ ছাড়াও বিটলবণ কিংবা চাটমসলা এবং লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এতেও তরমুজের স্বাদ বাড়বে।